৬০ বছরের পর দায়িত্বে নয়

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক হওয়ার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর

রতন বড়ুয়া

সোমবার , ২০ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
264

বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হবার পর বেসরকারি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান/ সহঃ প্রধান কিংবা শিক্ষককর্মচারীকে কোন অবস্থাতেই পুনঃনিয়োগ কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যাবে না।’ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় এ নিয়মের কথা বলা হয়েছে। নতুন এ নিয়ম যুক্ত করে চলতি বছরের ১২ জুন এ নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত নীতিমালায় অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ ও যুগ্মসচিব নুসরাত জাবীন বানুর স্বাক্ষরও রয়েছে। ২৫ অনুচ্ছেদ সম্বলিত নীতিমালায় শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগের স্বচ্ছতা, নিয়োগের প্রাথমিক বয়স, অবসরের বয়সসীমাসহ নানা দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নীতিমালার শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনভাতা নির্ধারণ অংশে ১১.৬ অনুচ্ছেদএ বলা হয়েছে– ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষককর্মচারীদের চাকরিতে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। তবে সমপদে বা উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইনডেঙধারীদের জন্য বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। শিক্ষককর্মচারীদের বেতনভাতার সরকারি অংশ ৬০ (ষাট) বছর বয়স পর্যন্ত প্রদেয় হবে। বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হবার পর কোন প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান/সহঃ প্রধান/শিক্ষককর্মচারিকে কোন অবস্থাতেই পুনঃনিয়োগ কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যাবে না।’

নীতিমালা অনুযায়ী৩৫ বছরের অধিক বয়সী কাউকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া যাবে না। আর বয়স ৬০ বছর পার হলে কোন ভাবেই প্রতিষ্ঠানের কোন দায়িত্বে রাখা যাবে না। মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই নীতিমালা জারির পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের চাকুরির মেয়াদ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষও সমপ্রতি একটি আদেশ জারি করেছে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের চাকুরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিতে করণীয় বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর প্রীতিশকুমার সরকারের স্বাক্ষরে গত ২৯ জুলাই জারিকৃত আদেশে বলা হয়– ‘বোর্ডের আওতাধীন অনুমোদিত যে সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চাকুরির মেয়াদ ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২ জুন, ২০১৮ তারিখের স্মারক নং৩৭.০০.০০০০.০৭৪.০৩০.০০১.২০১৭.২৪৫ জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ১১.৬ মোতাবেক সে সকল প্রধান শিক্ষকের চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধি করার সুযোগ নেই। এমতাবস্থায় উক্ত পরিপত্র অনুযায়ী বিদ্যালয়সমূহের প্রধান শিক্ষকের চাকুরীর মেয়াদ ৬০ বছর পূর্ণ হলে, সহকারী প্রধান শিক্ষক অথবা সহকারী প্রধান শিক্ষক না থাকলে জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের নিকট প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে তা বিধি বহির্ভূত হিসেবে গণ্য হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চাকুরীর মেয়াদ ৬০ বছর পূর্ণ হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে চাকুরীর সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিও বয়স পার করা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অতিরিক্ত কয়েক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। বোর্ড অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কম নয় বলে মনে করেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম। তবে মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার আলোকে বয়স পার করা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে শীঘ্রই আদেশ জারি করা হবে বলেও জানান তিনি।

x