৬০ একর পাহাড় জুড়ে বাহারী ফলের বাগান

লিটন কুমার চৌধুরী : সীতাকুণ্ড

সোমবার , ৮ জুলাই, ২০১৯ at ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
208

সীতাকুণ্ডে সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়া সংলগ্ন রুক্ষ পাহাড়ের বুকে একান্ত শখের বশে বিভিন্ন প্রজাতির দৃষ্টিনন্দন ফলের বাগান গড়ে তুলে সফলতা লাভ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন। রাজনীতিতে সফলতার শীর্ষে থাকা এস এম আল মামুনের বৃক্ষের প্রতি ছিল অপরিসীম ভালোবাসা। তাইতো রাজনৈতিক শত ব্যস্ততার মাঝেও অনেকটা ভালোবাসার টানে তিনি নিজ উদ্যোগে ৬০ একর পাহাড় জুড়ে গড়ে তুলেছেন ফলের বাগান। ইতিমধ্যে ঢালু পাহাড়ের বুক জুড়ে গড়ে তোলা ফল বাগানে ধরে আছে থোকায় থোকায় ফল। বর্তমানে তার বাগান জুড়ে থাকা ফলের হাসি শুধু তাকেই অনুপ্রাণিত করেনি, অনুপ্রাণিত করেছে কৃষি বিভাগ এবং বৃক্ষপ্রেমী অনেক মানুষকে। পাহাড়ের বুকে ফলের বাগান গড়ে তোলার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সীতাকুণ্ডের কৃষিকে একধাপ এগিয়ে দেয়ার পাশাপাশি খুলে দিয়েছে সম্ভাবনাময় সফলতার নতুন দ্বার। ইতিমধ্যে তার এ সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পাহাড় ও পরিত্যক্ত অনাবাদি জায়গায় বাগান গড়তে উৎসাহী হয়েছেন অনেকে।
আলাপকালে বাগান মালিক এস এম আল মামুন জানান, একান্ত শখের বশে ২০১৭ সালের মে মাসে আমার নিজস্ব ৬০ একর পাহাড়ে উন্নত প্রজাতির ফলের বাগান গড়ে তুলি। বাগান গড়ে তোলার প্রথমে একটু অসুবিধার সম্মুখীন হলেও উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। রাজনৈতিক সকল ব্যস্ততার ভীড়ে ৩৫ একর পাহাড়ে উন্নত কলম জাতের ১৪ প্রজাতির আম, বাকি জায়গায় উন্নত জাতের মাল্টা, কমলা, কলা, কাঁঠাল, পাতি, এলাচি, হাইব্রিড কাগজী লেবু, পেঁপে, কামিনী হাইব্রিড, কাজী পেয়ারা, কামরাঙা, জাম্বুরা, আমলকি ও ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রোপণ করি। তিনি বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে বাগানের পরিচর্যায় ৫০ জন কর্মচারী থাকলেও শত ব্যস্ততার ভীড়ে একটু সময় পেলে আমি ফল বাগানে ছুটে আসি। এতে ফলে ভরপুর হয়ে উঠা আম বাগানে প্রথম ধাপে সফলতার দেখা মিলেছে। পাশাপাশি ফলে ভরপুর হয়ে আছে মাল্টা ও কমলা গাছ। চারা সংগ্রহ, রোপণ ও পরিচর্যায় বাগানে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হলেও শখের বশে করা ফলের বাগানে এ বছর এক টনের মতো আম পেয়ে খুশি তিনি। এতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ সালের মধ্যে তার গড়ে তোলা বাগান বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের স্বপ্ন দেখেন বলেও জানান এস এম আল মামুন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ি পথের ধার ও অনুচ্চ ডালে অত্যন্ত যত্ন সহকারে পরিকল্পিতভাবে ফলের বাগানটি গড়ে তুলেছেন এস এম আল মামুন। ফলের উপযুক্ত হয়ে উঠা বাগানের প্রতিটি গাছে ধরে আছে থোকায় থোকায় ফল। এতে ফুল ও ফলের শোভায় ফলের বাগানটি সবুজের সমরোহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাগানটিতে আম্রপালি, বারো মাসি, ফজলি, হাঁড়িভাঙা, ল্যাংড়া, দো-ফালা গোপালভোগ, পালমার, ব্ল্যাক স্টার, রেড ম্যাংগো, মুম্বাই বানানা, হিম সাগরসহ ১৪ প্রজাতির আমের তিন হাজার গাছে আম রয়েছে। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে আম গাছের শাখাগুলো। এছাড়াও উন্নত প্রজাতির ৮০০টি বারী ওয়ান মাল্টা ও ২০০টি কমলা গাছ ফল ও ফুলে শোভিত হয়ে আছে। পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যায় ফল দেওয়ার উপযোগী হয়ে উঠছে ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ান প্রজাতির ২৫০টি নারিকেল, ১০০ লেবু ও দুই হাজার সুপারি গাছ।
বাগান দেখতে আসা চট্টগ্রামের খুলশীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাজমুল হোসাইন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাগানটি পরিদর্শন করে আমি অভিভূত। দুর্গম পাহাড়ের দুর্গমতাকে অতিক্রম করে তিনি যে ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন তা সত্যিকার অর্থেই অনুকরণীয় ও প্রশংসার দাবিদার। পাহাড় জুড়ে গড়ে তোলা তার এই বাগান দেখে মুহূর্তেই মুগ্ধ হয়ে পড়েন স্থানীয় লোকজন ও আগতরা। পাহাড়জুড়ে সফল এ ফল বাগান দেখে বাগান করার ইচ্ছা জেগেছে আমার মনে। তিনি বলেন, সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন এস এম আল মামুনের দেখানো পথে হেঁটেই সীতাকুণ্ডের কৃষকরা পৌঁছে যাবে নতুন সম্ভাবনার দ্বারে। যে সম্ভাবনা সীতাকুণ্ডের কৃষিকে আরো সমৃদ্ধ করবে।
বাগানটির তত্ত্বাবধানে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত সাজানো বাগান। আগামী মৌসুম থেকে এই বাগান ফলে ফলে ভরে যাবে। এটি অনেকের জন্য মডেলে পরিণত হয়েছে। বাগানটি দেখে ইতিমধ্যে চারজন বড় ব্যবসায়ী বাগান গড়ার কাজে হাত দিয়েছেন। পাহাড়ের বুকে ফল বাগান গড়ে তোলার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগে এস এম আল মামুনের সাফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আরো বহু যুবক এবং কৃষক ফল বাগান গড়ে তুলতে উৎসাহী হয়ে উঠবেন। এতে জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি দেশের পুষ্টিমাণও উন্নীত হবে।

x