৪৪ বছর ধরে জ্বলছে গহিরা আলোকনের আলোক শিখা

মীর আসলাম, রাউজান

সোমবার , ৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ
55

রাউজানের আলোকিত ইউনিয়ন গহিরা। এই ইউনিয়নে বিশ্বখ্যাত অনেক রাজনীতিক, কবি সাহিত্যিক, দেশের ব্যবসা বানিজ্যে খ্যাতিমান অনেক গুনি জ্ঞানীর জন্ম। ইউনিয়নের মধ্যবর্তী একটি গ্রামের নাম দক্ষিণ দলইনগর। এই গ্রামের প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানটির নাম আলোকন ক্লাব। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৪৪ বছর আগে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আলোকনের প্রজ্জ্বলিত আলোর শিখাটি আলো ছড়াচ্ছে সমহিমায়।

প্রতিষ্ঠা ইতিহাস থেকে জানা যায়, গ্রামের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা ১৯৭৭ সালে এই আলোকন ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাজনীতি, শিক্ষা, সাংস্কৃতি, ক্রীড়া, ব্যবসা বাণিজ্যে উর্ব্বর এই গ্রামটির ইতিহাস, ঐতিহ্যকে যুগে যুগে সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ছিল প্রতিষ্ঠাতাদের। আলোকন প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তাদের মধ্যে যারা ছিলেন তারাই সকলেই ছিলেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। ওই সময় ক্লাবটি প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ যুগিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ গ্রামের আলোকিত সন্তানরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হচ্ছেন শিক্ষনুরাগী মরহুম আবদুল মান্নান চৌধুরী, মরহুম আবদুল গণি সওদাগর, মরহুম এজাহারুল হক খোন্দকার, দলই নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওই এলাকার সন্তান ছিদ্দিক আহমদ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সাহাবুদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাসান খোন্দকারসহ আরো অনেকেই। প্রয়াত এসব গুনিদের উৎসাহ উদ্দিপনায় গড়া আলোকনের যাত্রা থেকে এই পর্যন্ত যত কর্মসূচি পালন হয়েছে, সবকিছুতেই ছিল মানবিকতা, সমাজ সংস্কার ও আলোকিত মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্যে। একারণে প্রতিষ্ঠানটির খ্যাতি ওই সময় থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা উত্তর চট্টগ্রাম জুড়ে। বিশেষ করে ১৯৮৭ সালে গহিরা স্কুল মাঠে শহীদ নাজিম গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আলোকন সমগ্র চট্টগ্রামে পরিচিতি লাভ করে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আলোকনের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড চলে দক্ষিণ দলইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে। দপ্তর করে বসার এই সুবিধাটি দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক গ্রামের সন্তান ছিদ্দিক আহমদ মাস্টার। কয়েক বছর ধরে স্কুলের কক্ষে দপ্তর বানিয়ে কাজ করার মাঝে এতে বাঁধ সাজে তৎকালিন শিক্ষা অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা। তার বাঁধার কারণে এই সামাজিক প্রতিষ্ঠানটির দপ্তর সেখান থেকে গুটিয়ে নিতে হয়। এই অবস্থার মধ্যে সংগঠনের কর্মকাণ্ডে ব্যঘাত সৃষ্টি হয়। পরে ক্লাবটি রক্ষায় গ্রামের এক ঝাঁক উদিয়মান যুবক আবারো সংগঠিত হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন মরহুম মো: শাহা আলম, আবু আহমদ, আবুল হোসেন (মাইজ্জা মিয়া), হারুন উর রশিদ, জালাল আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, শাহ জাহান সাজু, মোজাহেরুল হক বালি, মরহুম আবদুল হান্নান, মরহুম বখতেয়ার আলম, এম.. হাসেম, বেদারুল ইসলাম জাহেদী, ডা: মোহাম্মদ আইয়ূব, আবু আহমদ (আবুদা), খোরশেদুল আলম খোন্দকার, নুরুল আকতার বাচ্চু, হারুন অর রশিদ চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী, নাছির উদ্দিন, ইফতেখার উদ্দিন দিলু প্রমুখ। সকলেই দফায় দফায় বসে আলোকিত এই প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় যার যার মত করে অবদান রাখার সংকল্প করেন। গ্রামের মানুষের এই প্রিয় সংগঠনটি যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ঠিকিয়ে রাখা যায়, সেই চিন্তা চেতনা থেকে ক্লাবটির স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য ১২ শতক মূল্যবান জায়গা দান করার ঘোষনা প্রদান করেন শুরুতেই আলোকনের স্বপ্ন দেখা মরহুম আবদুল মান্নান চৌধুরীর চার সন্তান ইফতেখার উদ্দিন দিলু, মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন খসরু ও বোন নাজমিন আকতার। ৯০ দশকে তাদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের জায়গা পেয়ে গ্রামের মানুষরা আবারো উৎসাহ উদ্দীপনায় আলোকনের দিকে এগিয়ে আসে। শিক্ষা, সংস্কৃতি আর ক্রীড়াঙ্গণে সরব থেকে আলোকন একটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের খ্যতি ও সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য যারা ভূমিকা রেখে আসছেন তাদের মধ্যে আছেন এলাকার সন্তান আলোকনের প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রাম চেম্বারের বর্তমান সভাপতি মাহাবুবুল আলম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ব্যবসায়ী আলমগীর পারভেজ, খোরশেদ আলম খোন্দকার, রাজনীতিক নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী, ইফতিখার উদ্দিন দিলু, দিদারুল আলম জেহাদী, আলহাজ্ব আবদুল মান্নান চৌধুরী, নুরুল আকতার বাচ্চু, আনোয়ার হোসেন জেহাদী, আবদুল মান্নান সওদাগর, শাহরিয়ার কবির প্রমুখ। তাদের সার্বিক সহযোগিতায় আলোকন, প্রতিবছর, শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করেন, শিক্ষা, সাংস্কৃতি, ক্রীড়ায় কৃতিদের সম্মাননা প্রদান করেন, শীতার্থ জনগোষ্ঠীকে শীত বস্ত্র, রমজান, ঈদে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিশেষ সহায়তা প্রদান করেন। মরহুম ফজলুল কবির চৌধুরী স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন কৃতী সন্তানের নামে টুর্নামেন্ট, বিভিন্ন ধরণের মানবিক কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এলাকাটিকে আলোকিত করতে আলোকন সাথে রেখেছে শিশুদের জন্য আলোক কেজি স্কুল। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন খোন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক এম.এ হাসেমের হাত হয়ে ৪৪ বছর পথ পরিক্রমায় এই আলোকনের দায়িত্ব পালন করেছেন অনেকেই। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আবারো দায়িত্ব পেয়েছেন এহসান উল্লাহ জাহেদী (সভাপতি) তার সাথে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সুমন।।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়ায় গুণী জ্ঞানীদের জন্মধন্য এই গ্রামটিরকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলোকিত করে রাখার জন্য। উত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কতিক ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান আলোকন। রাউজানের “আলোকন”১৯৭৭ সালে এক ঝাক তরুন, যুবকদের উদ্যোগে “৭১” মহান মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় আমরা লড়ছি সুন্দর আগামীরে জন এই মন্তে আলোকন’র জন্ম। সমাজ প্রগতির উন্নয়ন, সংস্কৃতি, ক্রীড়াঙ্গনে, শিক্ষার প্রসারে এক দীপ্ত শপথ আর অঙ্গীকার নিয়ে আলোকন এ এলাকার প্রবীণনবীন তথা জন্ম নেয়া নতুন প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রম, স্বপ্ন, ত্যাগ ভালবাসায় গড়া প্রতিষ্ঠান। রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, সহউত্তর চট্টগ্রামে প্রভাব বিস্তার করে খেলার মাঠে জাতীয় দিবস সমূহে অপ্রতিরোধ্যভাবে সুনাম অর্জনে প্রতিষ্ঠার গৌরব, সাফল্যের ৪০ বছরে পা রাখছে মহান স্বাধীনতার দর্শকে একুশ, বিজয় স্বাধীনতা বা জাতীয় দিবস মানে গহিরা এ.জে.ওয়াই.এম.এস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভা, অনুষ্ঠান সবকিছু আলোকন’র ব্যানারে এই টুর্ণামেন্ট দিয়ে গহিরামোবারক খান খীল দু’এলাকার দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ ঝঞ্জাক্ষুব্ধ পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটেছিল। প্রতিষ্ঠালগ্নে আলোকন’র স্থায়ী কোন কার্যালয় ছিল না। স্থানীয় দক্ষিণ দলইনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বর্ধিত ছোট কক্ষে আলোকন’র অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু হয়ে তৎকালীন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরহুম ছিদ্দিক আহমদ মাস্টার এর আন্তরিক সহযোগিতায়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে বাধা আসে থানা শিক্ষা প্রসাশনের পক্ষ থেকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাব বা সামাজিক কোন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড বা কার্যালয় রাখা যাবে না। তারুণ্যের উচ্ছাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যুবকরা গড়তে জানে দমবার পাত্র নয়। সমাজসেবক শিক্ষানুরাগী মরহুম আবদুল মান্নান চৌধুরী, মরহুম আবদুল গণি সওদাগর, মরহুম এজাহারুল হক খোন্দকার, প্রধান শিক্ষক ছিদ্দিক আহমদ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সাহাবুদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাসান খোন্দকার সহ মুরব্বীদের আন্তরিক ও মানসিক সমর্থনে উৎসাহ উদ্দীপনার একঝাক তরুণ, যুবক সর্ব জনাব মরহুম মো. শাহা আলম, আবু আহমদ, আবুল হোসেন (মাইজ্জা মিয়া), হারুণ উর রশিদ, জালাল আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, শাহ জাহান সাজু, মোজাহেরুল হক বালি, মরহুম আবদুল হান্নান, মরহুম বখতেয়ার আলম, এম.. হাসেম, বেদারুল ইসলাম জাহেদী, ডা: মোহাম্মদ আইয়ূব, আবু আহমদ (আবুদা), খোরশেদুল আলম খোন্দকার, হারুন উর রশিদ, নুরুল আকতার বাচ্চু, হারুন অর রশিদ চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী, নাছির উদ্দিন, ইফতেখার উদ্দিন দিলু, প্রমুখ। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং মরহুম আবদুল মান্নান চৌধুরী’র চারসন্তান (ছেলেমেয়ে)- ইফতেখার উদ্দিন দিলু, নিজাম উদ্দিন খসরু, মোহাম্মদ ইমতিয়াজ ও মেয়ে নাজনীন আকতার রুমা পৈত্রিক সম্পত্তি আলোকন প্রতিষ্ঠানকে রেজিস্ট্রী দিয়ে দান করে দেন। প্রায় ৬ গন্ডা জায়গার স্বগৌরবে, স্বমহিমায় দেশবিদেশে সুপরিচিত প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি, ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী তথা অগনিত সদস্যদের প্রাণপ্রিয়, আলোকন পরিচালিত দলইনগর, .এম.সি আলোক কিন্ডানগার্টেন ও সঞ্চয়ী শাখা জীবন আলো, মাথা উঁচু করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। সমাজকে আলোকিত করার মাধ্যমে। রাউজানের সাহসী মানুষ সব কিছু পারে রাউজানবাসীর স্বপ্নের শেষ ঠিকানা। এ.বিএম. ফজলে করিম চৌধুরী এম.পি’র উন্নয়নের মডেল এর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী আলোক দেশের জন্য অন্যতম একটি মডেল। বর্তমান নবনির্বাচিত (২০১৮২০১৯) সভাপতি এহসান উল্লাহ জাহেদী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সুমন।

প্রধান উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম তালুকদার, সদস্য খোরশেদুল আলম খোন্দকার, নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী, ইফতেখার উদ্দিন দিলু, আলহাজ্ব আলমগীর পারভেজ, দিদারুল আলম জাহেদী, সূফী আবদুল মান্নান চৌধুরী, আবদুল মান্নান সওদাগর, মোহাম্মদ লোকমান, নুরুল আকতার বাচ্চু, তৌহিদুল হক তৌহিদ, আনোয়ার জাহেদী, শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।

x