৪শ মিটার দৌড়ে ফার্র্স্ট হয়েও জীবনের দৌড়ে হেরে গেল!

রতন বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
490

প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। আর সদ্য উত্তীর্ণ জেএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস (সব বিষয়ে এ প্লাস)। শিক্ষা জীবনের প্রথম এই দুই (প্রাথমিক ও জুনিয়র) ধাপের ফলই বলে দেয় ক্লাস নাইন পড়ুয়া আদনান ইসফার পড়ালেখায় কতটা এগিয়ে। কেবল পড়ালেখাতেই নয়, কলেজিয়েট স্কুলের এই ছাত্র এগিয়ে ছিল খেলাধুলাতেও। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে ৪০০ মিটার দৌড়ে ফার্স্ট হয় আদনান। গত ১৩ জানুয়ারি কলেজিয়েট স্কুল মাঠে এ বাছাই সম্পন্ন হয়। তবে বাছাইতে ফার্স্ট হলেও চ্যাম্পিয়ন আর হওয়া হয়নি আদনানের। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দিনও দৌড়ে অংশ নেয় আদনান। তবে স্কুল মাঠে নয়, নিজের বাসা থেকে ৩ থেকে ৪’শ গজ দূরে। দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড় দিয়েছিল আদনান। কিন্তু ওই দৌড়ে ভাগ্য সহায় ছিল না তার। উল্টো ভাগ্য দেবতা যেন দূর থেকে মুচকি হেসেছে সেদিন। দুর্বৃত্তের হামলায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়তে হয়। জীবনের দৌড়ে হেরে গিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয় আদনানকে। মঙ্গলবার দুপুরে জামালখান এলাকায় (আইডিয়াল স্কুলের সামনে) নির্মম এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে জীবন প্রদীপ নিভে যায় সম্ভাবনাময় এই মেধাবী কিশোরের। এলজিইডি’র খাগড়াছড়ি অঞ্চলে কর্মরত প্রকৌশলী আদনান আখতারুল আজমের ছেলে আদনান ইসফার। জামালখানের চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পেছনের একটি ভবনে তাদের বাসা। মেধাবী এই কিশোরের এমন নির্মম মৃত্যু কোনভাবেই মানতে পারছে না তার পরিবার, স্কুলের শিক্ষকসহপাঠীরাও। কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাশ বলছিলেন, ছেলেটি পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও ভালো ছিল। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বাছাইয়ে ৪০০ মিটার দৌঁড়ের ইভেন্টে অংশ নিয়েছিল সে। বাছাইয়ে ওই ইভেন্টে সে ফার্স্ট হয়। কিন্তু ১৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে (ফাইনালে) সে আর আসে নি। দুপুরে তাঁর মৃত্যুর খবর পাই। এটি নির্মম ও মর্মান্তিক। আমরা সম্ভাবনাময় মেধাবী একজন ছাত্র হারালাম।

আদনান ইসফাত ছিল স্কুলের মর্নিং শিফটের ছাত্র। মর্নিং শিফটের ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন আশীষ শীল। তিনি জানানবাছাইয়ের সুবিধার্থে শিক্ষার্থীদের চারটি হাউসে (রবীন্দ্রনাথ, লালন শাহ, কাজী নজরুল ইসলাম ও শহীদুল্লাহ হাউস) বিভক্ত করা হয়। আদনান ছিল লালন শাহ হাউসে। ৪০০ মিটার দৌঁড়ের ইভেন্টে লালন শাহ হাউস থেকে সে ফার্স্ট হয়। প্রতিটি হাউস থেকে দু’জন করে মোট ৮ জন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে (ফাইনালে) অংশ নেয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু আদনান অনুপস্থিত থাকায় ফাইনালের ৪০০ মিটার দৌঁড়ের ইভেন্টে ৭ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়।

এই ছাত্র সম্পর্কে পরে মৃত্যুর এমন করুণ সংবাদটি শুনতে হবে, তা ঘুর্ণাক্ষরেও চিন্তা করেন নি বলে জানালেন তাঁর স্কুলের শিক্ষকরা।

এদিকে, আদনান ইসফাতের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে তার সহপাঠী ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চেরাগী পাহাড় হয়ে কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা। এ সময় ‘রউফ গ্রুপের সাঈদ, মঈন, খান সাব্বির, জিলহজ্বসহ হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’ লেখা ব্যানার বহন করতে দেখা যায় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের।

x