২০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে সিএনজি অটোরিকশা ধর্মঘটের ডাক

নতুন নীতিমালাসহ ১২ দফা দাবি

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
204

দু’দিন আগে গণপরিবহনে ধর্মঘটের পর এবার আগামী ২০ ডিসেম্বর সিএনজি অটোরিকশা ধর্মঘট হচ্ছে। চট্টগ্রামে চলাচলরত থ্রিহুইলার জাতীয় সিএনজি অটোরিকশার জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন, নতুন করে চার হাজার অটোরিকশার নিবন্ধন দেয়াসহ মোট ১২ দফা দাবিতে এ ধর্মঘট। গতকাল নগরীর অক্সিজেন মোড়ে চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের এক শ্রমিক সমাবেশ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি হারুনুর রশীদ আজাদীকে বলেছেন, চট্টগ্রামের জন্য সিএনজি চালিত অটোরিকশা পরিচালনা সংক্রান্ত আলাদা নীতিমালা বা সার্ভিস রুলস প্রণয়ন করা, চার হাজার নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন প্রদান, পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নোপার্কিং মামলা বন্ধ করা, সহজ শর্তে চালকদেরকে লাইসেন্স প্রদান, মালিকের জমা ৬০০টাকা, মান সম্মত মিটার প্রদান ও পুলিশ হয়রানি বন্ধের মাধ্যমে নগরীতে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার দাবিতে এ ধর্মঘট পালন করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকার সাথে চট্টগ্রামের তুলনা করলে হবে না। ঢাকার সাথে চট্টগ্রামেও যদি একই নীতিমালা বা সার্ভিস রুল পরিচালিত হয় তাহলে এটা একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ঢাকায় মালিকের জমা আগে থেকেই ৯০০ টাকা নির্ধারণ ছিল। সুতরাং সেখানে জমা নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু চট্টগ্রামে মালিকের জমা পরিশোধ করতে চালকেরা হিমশিম খাচ্ছে। সংগঠনটির প থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলায় সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের এ সংগঠনে বর্তমানে ২১ হাজার সদস্য আছেন।

এদিকে গতকালের শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহসভাপতি ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল নবী লেদু বলেন, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের করুন অবস্থা বিরাজ করছে। একদিকে মালিকের অতিরিক্ত জমা আদায়, অন্যদিকে পুলিশের হয়রানি ও মামলা, এতে চালকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। তিনি অটোরিকশা গুলোকে কোন মামলায় ৩’শ টাকার বেশি জরিমানা না করার পাশাপাশি দ্রুত ১২দফা দাবি বাস্তবায়ন করে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

একই সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে হারুনুর রশীদ বলেন, ১২ দফা দাবিতে এক বছর আগে শ্রমিক ফেডারেশনের সাথে আমরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলাম। প্রশাসনের আশ্বাসের পরে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করি। এতদিনেও আমাদের দাবিদাওয়াগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের এ ব্যর্থতার জন্য আগামী ২০ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগরী ও জেলা গুলোতে সবার্ত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে। এই ধর্মঘটের মাধ্যমে যদি দাবি আদায় না হয়, তাহলে সামনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। আগামী ১৯ ডিসেম্বর শহীদ মিনার চত্ত্বরে শ্রমিক সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রতিটি থানা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে শ্রমিকদের সমাবেশ পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন এ শ্রমিক নেতা। হারুনুর রশীদ বলেন, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ২৬ হাজার শ্রমিক সরকারের নিবন্ধন প্রাপ্ত ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশাকে ভাগাভাগি করে চালিয়ে জীবন যাপন করে আসছে। চট্টগ্রামে ২০০২ সালে সর্বশেষ গাড়ির নিবন্ধন দেয়া হলেও সেসবের অনেক বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়েছে। বর্তমানে নগরের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে এরপরও সরকার এখানে নতুন করে নিবন্ধন দেয়া বন্ধ রেখেছে।

অটোরিকশা অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের অক্সিজেন শাখার সভাপতি সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে ছিলেন সংগঠনটির মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, আমান বাজার আলী আকবর, মো. শাহীন, মো. কবীর, আজম, হানিফ, বেলাল, খোকন, বাবুল, আজাদ, জাফর মেহেদী, শামসু সেক্রেটারী হারুন, খোরশেদ, সেলিম, কামরুল, আলাউদ্দিনসহ অন্যান্যরা।

উল্লেখ্য যে, গত ৩ ডিসেম্বর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করেছে নগরীর গণপরিবহন মালিকদের একাংশ। পরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের আশ্বাসের ভিত্তিতে ৫ ডিসেম্বর সংগঠনটি ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন।

x