২০ টাকার নাপা ৩৫ থেকে ৮০ টাকা!

রাউজানে ঘরে ঘরে জ্বর-কাশি

মীর আসলাম, রাউজান

শুক্রবার , ১৪ জুন, ২০১৯ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
1217

রাউজানে ঘরে ঘরে জ্বর-কাশি ও ডায়রিয়া আক্রান্ত মানুষ। হাসপাতালগুলো রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। এই সুযোগে এলাকার ফার্মেসিগুলোতে কিছু ওষুধের দাম বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। ২০ টাকা দামের নাপা সিরাপ বিক্রি করছে ৩৫ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। শিশুদের জ্বর সারানো ৫ টাকার প্যাসিটামল সাপোজিটরি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। মানুষ বেশি দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। রাউজানের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ফার্মেসিতে গিয়ে এই তথ্য পাওয়া যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, এই হাসপাতালে প্রতিনিয়ত আসছে জ্বর, কাশি, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা। চিকিৎসকগণ সাধ্যমতো তাদের সেবাদান করছেন। তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু।
একই অবস্থা দেখা গেছে গহিরা জেকে মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও নোয়াপাড়ার পাইওনিয়ার হাসপাতালে। পাইওনিয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বিবেক দেব জানান, আবহাওয়াজনিত কারণে পানি শূন্যতায় জ্বর, কাশিসহ পাতলা পায়খানার সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। ঠান্ডা ও গরমেরর প্রভাবে বেশিরভাগ মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে শিশু ও প্রবীণরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
গত ১২ জুন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসকদের চেম্বারে রোগীর চাপ। এমন সুযোগ নিয়ে ওষুধের দোকানগুলোতে এ সংক্রান্ত ঔষধের গলাকাটা দাম নিচ্ছে। উপজেলা সদরের কয়েকটি ওষুধের দোকানে নাপা সিরাপ কিনতে চাইলে দাম চাওয়া হয় ৩৫ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। তবে, বেশিরভাগ দোকানে বলা হচ্ছে এসব ওষুধ নেই।
মুন্সিরঘাটায় জ্যোতি ফার্মেসিতে নাপা সিরাপ চান এক ক্রেতা। দোকানের মালিক পরিচয়ে রুবেল নামে এক ব্যক্তি ক্রেতাকে জানান, কোম্পানি প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ সরবরাহ দিচ্ছে না। বাজারে এসব ওষুধের সংকট। তারা বাইরে থেকে ওষুধ এনে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা দামে বিক্রি করছেন। এই এলাকার কৈবর্ত ফার্মেসিতে চাওয়া হয় নাপা সিরাপ। দোকানের কর্মচারী জানালেন ওষুধ সংকটের কথা। দাম পড়বে ৮০ টাকা। কথোপকথনের এক পর্যায়ে আসেন মালিক পরিচয়দানকারী জিকু দাশ। সংবাদকর্মীর পরিচয় পেয়ে তিনি দাবি করেন, দোকানের নতুন কর্মচারী ভুল করে দাম বেশি চেয়েছে।
এ ব্যাপারে রাউজান উপজেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তসলিম উদ্দিন বলেন, রোগী জিম্মি করে যারা ওষুধ বিক্রি করে ফায়দা লুঠবে সমিতি তাদের পক্ষে নেই। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

x