১৯৮২ সালের একটি চলচ্চিত্র ও বর্তমান চালচিত্র

নীলাঞ্জনা অদিতি

শনিবার , ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
23

বর্তমান সময়ে ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। কোন বয়সের নারীই এই পাশবিকতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এরকম একটি অস্থির সময়ে দেখলাম আদালত ও একটি মেয়ে সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন তপন সিনহা।
সিনেমাটিতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তনুজা। তিনি একটি স্কুলের শিক্ষিকা। ছুটিতে তিন সহকর্মীর সাথে সমুদ্র দর্শনে বের হন। ট্রেনে তিন বখাটে তরুণ তাদের উত্ত্যক্ত করে। পরবর্তীকালে তাদের দ্বারাই সমুদ্রের মাঝে তনুজা ধর্ষিত হন। মানসিক আঘাত তাকে ভেতরে- ভেতরে ক্ষত বিক্ষত করে দেয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয় ভালবাসার মানুষটির তাকে ছেড়ে যাবার কষ্ট। এতে তিনি আরো ভেঙ্গে পড়েন। বন্ধু সহকর্মীদের উপেক্ষাও এতে যুক্ত হয়। বিয়ে ভেঙ্গে যায়। এত কিছুর পরেও তিনি ঘুরে দাঁড়ান।
খুব চেনা পরিস্থিতি। ধর্ষিতারই যেন সব দোষ। একদিকে মেয়েটির এই মানসিক চাপ, অন্যদিকে তার বাবার অফিসের সহকর্মীদের অহেতুক আগ্রহ। এক পর্যায়ে তাদের প্রশ্নে অতিষ্ঠ হয়ে টেবিলে সবার চোখের সামনে লিখে রাখেন – ‘আমার ধর্ষিতা কন্যা ভাল আছে।’ ধর্ষকের প্রভাবশালি পরিবার অনেক চেষ্টা করেও মামলার রায় নিজেদের পক্ষে নিতে পারে না। মেয়েটির জয় হয়।
মুভিটা দেখতে দেখতে মনে হল যেন পরিস্থিতির খুব একটা বদল হয়নি। মেয়েদের নিরাপত্তা নেই কোথাও। জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।
সিনেমাটি ১৯৮২ সালে শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পায়। তনুজা এই মুভিকে ক্যারিয়ারসেরা বলে বিবেচনা করেন।

x