১৯৭১ সাল থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে আছে

নির্মূল কমিটির সভায় এমপি বাদল

রবিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
95

মঈনুদ্দীন খান বাদল এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের ৭(খ) অনুচ্ছেদ একটি মৌলিক কাঠামোরূপে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দান করেছে। এর ফলে ঘোষণাপত্রটি বাংলাদেশের সংবিধানের একটি অসংশোধনযোগ্য বিধানে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি ১৯৭১ সালেই অনেক বিষয়ের নিষ্পত্তি করেছে। অনেক ঐতিহাসিক বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে এই ঘোষণাপত্রে। তারপরও রাজনৈতিক কারণে অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে আমাদের ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেওয়া হয়েছে। যেমন, গণহত্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বিষয়ে মিথ্যা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এই সকল বিষয়ে ১৯৭১ সাল থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে আছে।
তিনি আরো বলেন, এই স্বাধীনতার ঘোষণাটি বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল হিসেবে সাংবিধানিকভাবে আমাদের সংবিধানের অন্তর্গত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এই স্বাধীনতার ঘোষণা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দলিল। এরপর, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক দলিল। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫০(১) অনুচ্ছেদ এবং চতুর্থ তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের একটি ক্রান্তিকালীন অস্থায়ী বিধান হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হবে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি এখন সম্পূর্ণ আকারে বাংলাদেশের সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে (পঞ্চম তফসিল)।
‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ৪৮তম বার্ষিকী’ উদযাপন এবং ঐতিহাসিক দলিলের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলার গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত বাঙালির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. শফর আলী, চবি কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, জাফর আহমদ, ব্যারিস্টার এসএম কফিল উদ্দীন, নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলা সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মইনুদ্দিন।
জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রেখা আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. অলিদ চৌধুরী, হাবিব উল্ল্যা চৌধুরী ভাস্কর, জাবেদ সুমন, আবু সাদাত মো. সায়েম, এমএ মান্নান শিমুল, নাজমুল আলম খান, মো. ফারুক চৌধুরী, মিথুন মল্লিক, মো. সাহাব উদ্দিন, অসীত বরণ বিশ্বাস, মোবারক আলী, রুবা আহসান, সুচিত্রা গুহ টুম্পা, প্রফেসর রেজাউল করিম, রুবেল চৌধুরী, সুমন চৌধুরী, এটিএম ওসমান গণি, ওয়াহেদ রাসেল, রুবেল আহমেদ বাবু, সাইফুল ইসলাম, বেলাল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে নুসরাত রাফির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট নীরবতা পালন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x