১৮ চালানে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি উদঘাটন

চীন থেকে আমদানি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ
42

১৮ চালানে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরল শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (সিভিএ) কমিশনারেট। চীন থেকে এসব চালান আমদানি করে ৬টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। চালানগুলো নিরীক্ষার পর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে এ শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করা হয় গতকাল বুধবার। উল্লেখিত অংকের শুল্ক উদ্ধারে গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে সিভিএ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে সিভিএ’র কমিশনার ড. মইনুল খান বলেন, চীন থেকে আমদানি করা ৬ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ১৮টি চালানের বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করার পর ২ কোটি ৮২ লাখ ৭১ হাজার ৮৭৬ টাকার শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করি। যথানিয়মে এসব শুল্ক আদায় করার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনারের বরাবর চিঠিও দিয়েছি আজ বুধবার (গতকাল)। এদিকে পণ্যের চালান আমদানিতে যে ধাপগুলোতে অনিয়ম ও শুল্ক ফাঁকির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয় এর মধ্যে দুই ধাপ পেরিয়ে তৃতীয় ধাপেই ধরা পড়ল এসব চালানে রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা।
বন্দরে চালান আসার পর প্রথমে খতিয়ে দেখা হয় অডিট ইনভেস্টিগেশন এন্ড রিসার্চ (এআইআর) এর মাধ্যমে। এরপর পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট (পিসিএ) এবং সর্বশেষ শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (সিভিএ) এর মাধ্যমে। এআইআর সম্পন্ন হয় আমদানি পণ্য চালান খালাসের আগে। পিসিএ এবং সিভিএ আমদানি চালান খালাসের পরের প্রক্রিয়া। সিভিএ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সোলাইমান প্রিন্টিং, রিধিকা ট্রেডিং, অপশন প্লাস, এসআর ট্রেডিং ও এলজে এন্টারপ্রাইজ। এর মধ্যে সোলাইমান প্রিন্টিং,
রিধিকা ট্রেডিং, অপশন প্লাস ও এলজে এন্টারপ্রাইজ ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। এসআর ট্রেডিং যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। সোলাইমান প্রিন্টিং, রিধিকা ট্রেডিং ও এসআর ট্রেডিং এর শুল্ক ষ্টেশন হচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। অপশন প্লাসের শুল্ক ষ্টেশন ঢাকাস্থ কমলাপুর আইসিডি এবং এলজে এন্টারপ্রাইজের শুল্ক ষ্টেশন হচ্ছে বেনাপোল কাস্টম হাউস। চালানগুলো ২০১৫, ১৬ ও ১৭ সালে আমদানি করা হয়। আমদানি করা পণ্যের মধ্যে প্রিন্টিং প্লেট, কাপড়ে বাঁধার লেস ও কমোড অন্যতম। সিভিএ’র নিরীক্ষায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কাস্টম প্রসিডিউর কোড পরিবর্তন ও নির্ধারিত ন্যুনতম মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে শুল্কায়ন হয় ১৮টি চালানের পণ্য।
সোলাইমান প্রিন্টিং এর কাছ থেকে ৮৩ লাখ ৮২ হাজার ৩১৬ টাকা আদায় করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষকে। এরপর রিধিকা ট্রেডিং থেকে ৯৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮ টাকা, অপশন প্লাসের কাছ থেকে ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮৫, এসআর ট্রেডিং থেকে ৬১ লাখ ২২ হাজার ৪০৭ এবং এলজে এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬৩ টাকা আদায় করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা কমিশনারেট অপর একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও ৯ লাখ ২৯ হাজার ৭০৭ টাকা আদায় করতে বলেছে চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষকে। জাতীয় রাজস্ববোর্ডের এক গবেষণা অনুযায়ী, শুল্ক ফাঁকির ঝুঁকিকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ হয়। পর্যায়গুলো হচ্ছে, উচ্চ ঝুঁকি, মধ্যম ঝুঁকি ও নিম্ন ঝুঁকি । মোট ২৬টি ঝুঁকির মধ্যে ১৫টি উচ্চ ঝুঁকি, ৮টি মধ্যম ঝুঁকি এবং ৩টি নিম্ন ঝুঁকি রয়েছে।
এছাড়া শুল্ক ফাঁকির প্রধান পন্থাগুলোর মধ্যে জাল বন্ড লাইসেন্স দাখিল করে শূন্য শুল্ক হারের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে শুল্ক ফাঁকি দেয়া, সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে ইউডি জালিয়াতির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত পণ্য খালাস করার চেষ্টা, ইউডি টেম্পারিং করে অতিরিক্ত প্রাপ্যতা প্রদর্শন করা, প্রকৃত ওজনের তুলনায় কম ওজন দেখিয়ে ফাঁকি, ইনভয়েসে মিথ্যা এইচএস কোড ঘোষণা করে শুল্ক ফাঁকি ও আইজিএম পণ্যের মিথ্যা বর্ণনার মাধ্যমে ফাঁকি অন্যতম। শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদঘাটনের বিষয়ে ড. মইনুল খান বলেন, আমদানিকারকদের রাজস্ব প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে ফাঁকিকৃত উল্লেখিত রাজস্ব আদায়সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও বলা হয়েছে আদায়কারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টমকে।

x