১৭ বছর পর সাক্ষ্য দিলেন ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার

লালখান বাজারে জলিল হত্যাকাণ্ড

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১২ জুলাই, ২০১৮ at ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
228

নগরীর খুলশী থানাধীন লালখান বাজার এলাকায় ২০০১ সালে ডাকাতির ঘটনায় খুন হন আবদুল জলিল নামের একজন। ওই মামলায় ১৭ বছর পর আদালতে সাক্ষ্য দিলেন ময়না তদন্তকারী ডা. প্রদীপ কুমার চৌধুরী। গত মঙ্গলবার দুপুরে ডা. প্রদীপ কুমার চৌধুরীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করেন বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মীর রুহুর আমীন। বিচারক আগামী ১৩ আগস্ট মামলার অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন। বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌসুলী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘১৭ বছর আগের ডাকাতিসহ খুনের একটি মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন ডা. প্রদীপ কুমার চৌধুরী। তিনি নিহত আবদুল জলিলের ময়না তদন্তকারী ডাক্তার। আঘাতের ফলে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে নিহত জলিলের মৃত্যু হয়েছে বলে সাক্ষী আদালতকে জানিয়েছেন।’

ঘটনার বর্ণনায় দিয়ে মেজবাহ আরও বলেন, ‘২০০১ সালের ৩ মার্চ রাতে নগরীর লালখানবাজার এলাকার রাণী জুয়েলার্স নামের একটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে ডাকাত দলের সদস্যরা। এসময় আবদুল জলিল নামের একজন নিহত হন। ওই দিন রাতে খুলশী থানায় ডাকাতিসহ খুনের অভিযোগে অজ্ঞাত ছয়জনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় মামলা করেন জুয়েলার্সের মালিক সুভাষ চন্দ্র মালাকার। তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে আবুল বশর, মো. আহছান উল্লাহ, শামীম ওরফে বিহারী গুড্ডু ও বেলাল নামে চার ডাকাতকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৭ জনকে সাক্ষী করে অভিযোগপত্র দাখিল করে খুলশী থানা পুলিশ। ২০০৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ডাকাত দলের সদস্য মো. আহছান উল্লাহ মারা যান। ফলে তাকে বাদ দিয়ে আবুল বশর, শামীম ওরফে বিহারী গুড্ডু ও বেলালের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ১৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। ২০০৬ সালের ২২ আগস্ট এজাহারকারী সুভাষ চন্দ্র মালাকার এবং ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট মামলার এজাহারকারীর ভাই দুলাল চন্দ্র মালাকার সাক্ষ্য দিয়েছেন আদালতে। এর দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন খুলশী থানার উপপুলিশ পরিদর্শক এএম মাহমুদ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এরপর আজ (গত মঙ্গলবার) নিহতের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ডাক্তার প্রদীপ কুমার চৌধুরী সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।’

দীর্ঘ দিন পর সাক্ষ্য গ্রহণ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন, ‘২০০৪ সালের ১৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের পর থেকে অভিযোগপত্রে সকল সাক্ষীকে আদালত সমন দিয়ে আসছে। কিন্তু সাক্ষীগণ আদালতের সমন পেয়েও আদালতে আসছেন না। ফলে মামলার নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। আশা করি এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে’

x