১৫টি মডেল মসজিদ হচ্ছে চট্টগ্রামে

থাকছে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ নানা নাগরিক সুবিধা

সবুর শুভ

শুক্রবার , ২৪ মে, ২০১৯ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
1994

অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বর্তমান সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৪ উপজেলায় তৈরি হচ্ছে ১৫টি মডেল মসজিদ। নগরীর অনন্যা আবাসিক এলাকায় প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণ জায়গা সংক্রান্ত জঠিলতায় পড়ার কারণে অন্যত্র জায়গা খোঁজা হচ্ছে। ১৫ মডেল মসজিদের মধ্যে ৩টির নির্মাণ কাজ গড়ে ১৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকীগুলোর মধ্যে কোনটির দরপত্র আহ্বান ও কোনটির দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গণপূর্ত বিভাগ, চট্টগ্রাম এসব মসজিদ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্পের সার্বিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন জানান, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে এ প্রকল্প। চট্টগ্রামে এসব মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ এগিয়ে চলেছে।
জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন কল্পলোক আবাসিক এলাকায় নির্মিতব্য মসজিদের কাজ ১৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। নগরীর অনন্যা আবাসিক এলাকায় প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় অন্যত্র জায়গা খোঁজা হচ্ছে। সাতকানিয়া শাহী জামে মসজিদের মালিকানাধীন জায়গায় মসজিদ নির্মাণে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়া লোহাগাড়া মডেল মসজিদ নির্মাণের কার্যাদেশও দেয়া হয়েছে। চন্দনাইশ ও বাঁশখালীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গার উপর নির্মিতব্য মসজিদের জায়গা অধিগ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পটিয়ায় মডেল মসজিদ নির্মাণে টেস্ট পাইলের ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।
মীরসরাইয়ে উপজেলা পরিষদের জায়গার উপর নির্মিতব্য মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ ১৬ শতাংশ সম্পন্ন করা হয়। দানকৃত জায়গার উপর সন্দ্বীপে মসজিদ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ১২ শতাংশ। রাউজানে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গার উপর এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। আনোয়ারা, কর্ণফুলী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, সীতাকুন্ড ও দোহাজারি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণে গৃহীত প্রকল্পের দরপত্র উম্মুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মসজিদগুলো হবে ১৭০/১১০ ফুটের। অর্থাৎ ১৮ হাজার ৭০০ ফুটে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে ১০টি মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে সর্বমোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ চলছে। প্রকল্পটি প্রথমে সৌদি অর্থায়নে হওয়ার কথা থাকলে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো নির্মাণ করবে গণপূর্ত অধিদফতর। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। ৬৪টি জেলা সদর ও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে চারতলা বিশিষ্ট এবং ৪৭৫টি উপজেলা সদরে তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়া উপকূলীয় ১৬টি এলাকায় নিচতলা ফাঁকা রেখে চারতলা বিশিষ্ট মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
জানা গেছে, মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন রকমের নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নিচতলায় দুর্যোগের সময় ‘সাইক্লোন সেন্টার’ হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। চট্টগ্রামসহ সারাদেশের মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে মোট চার লাখ ৪০ হাজার ৪৪০ জন পুরুষ এবং ৩১ হাজার ৪০০ জন মহিলার নামাজ পড়ার সুবিধা রাখা হচ্ছে। কোরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জনে ৩৪ হাজার পাঠকের জন্য লাইব্রেরি সুবিধা রাখা হয়েছে। এসব লাইব্রেরিতে প্রতিদিন ছয় হাজার ৮০০ গবেষক গবেষণা করতে পারবেন। এছাড়াও দুই হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথির আবাসনের সুবিধাও থাকবে এসব কেন্দ্রে। মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা ছাড়াও হজযাত্রী ও ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদের সিংহভাগই স্থানীয় জনগণের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল এ প্রকল্পের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকার অনুমোদন দেয়া হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের জনবান্ধব এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে।

x