১৪ উপজেলায় ৪৪৪৮ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে

আশ্রয়ণ প্রকল্প।।জেলা প্রশাসনের কর্মশালায় তথ্য

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
12

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেছেন, রাস্তায় কোন অবহেলিত মানুষ যাতে পড়ে না থাকে সেদিকে সকলকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। এধরনের অবহেলিত মানুষের জন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আশ্রয়ন-২ প্রকল্প বাস্তবায়নকল্পে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত কর্মশালায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান আরো বলেন, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের জন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। এ প্রকল্পের কলেবর আরো বাড়ানো হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রকৃত অবহেলিতরা আবাসনের আওতায় এসেছে কিনা তা ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে। কারণ এব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অতিমাত্রায় সজাগ। এখানে কোন ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার ১৪টি উপজেলার ৪৪৪৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫টি উপজেলার ২৭৬টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয় বলে জেলা প্রশাসন থেকে তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রধান উপস্থাপক ও কর্মশালার সমন্বয়ক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক (আশ্রয়ণ-২) মো. মাহবুব হোসেন।
এতে মো. মাহবুব হোসেন জানান, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ হলেও বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। গৃহহীন মানুষের কষ্টের বিষয়টি অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৯৯৭ সাল থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, গৃহহীন মানুষদের জন্য সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে। ‘একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না’-প্রধানমন্ত্রীর এ অঙ্গীকারের আলোকে দেশের সকল গৃহহীন মানুষকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে জানান প্রকল্প পরিচালক। একইসাথে বরাদ্দকৃত ঘরে বরাদ্দ প্রাপকের থাকা নিশ্চিত করতে হবে। উপকার ভোগীর জীবিকার জন্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করতে হবে।
কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, সরকারের ঘোষিত ‘আমার গ্রাম আমার শহর’-অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছাতে হবে। সবাই শহরমূখী হলে এদেশের উন্নয়ন হবে না। তিনি বলেন, শহরমুখী জনস্রোত মোকাবেলায় গ্রামেই জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে হবে, কৃষিকে বাঁচাতে হবে। গ্রামে থেকে কাজ করে নিজেদের এলাকার চিত্র পাল্টাতে হবে। প্রকল্প এলাকায় ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। এ সময় তিনি আশ্রয়ণের আওতায় আসাদের কর্মসংস্থানের উপরও জোর দেন।
শহর বা পাহাড়ি এলাকায় খাসজমির স্বল্পতা উল্লেখ করা হলে প্রকল্প পরিচালক জানান, এসব এলাকায় ৫তলা দালান করা হবে। এ জন্য ৫০টি দালান নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ সময় আরো জানানো হয়, জরাজীর্ণ ঘরগুলো অচিরেই সংস্কার করা হবে। আর্থিক অবস্থার উন্নতির কারণে প্রকল্প এলাকা ত্যাগকৃত উপকারভোগীর ঘর নতুন করে বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনার কথাও কর্মশালায় জানানো হয়। সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে ঋণ গ্রহীতাকে আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করার ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন চট্টগ্রাম যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদ। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বসবাস শোভন করার লক্ষ্যে প্রকল্পে বসবাসকারী মানুষগুলোকে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণে আরও উদ্বুদ্ধ করার প্রস্তাবও করা হয় কর্মশালায়।

x