১০ কাউন্সিলর কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ

সোমবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৭ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
1190

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পঞ্চবার্ষিক কর পুনর্মূল্যায়ন বাতিলের দাবিতে নগরীর দশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বাড়ি মালিকদের সংগঠন ‘চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ।’ গতকাল রোববার সকালে বাড়ির মালিকরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দলে দলে বিক্ষোভ মিছিল করে কাউন্সিলর কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী অবস’ান করেন। এসময় অতিরিক্ত গৃহকর বাতিলে বাড়ি মালিকদের পাশে থাকার আবেদন জানিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের স্মারকলিপিও দিয়েছে সংগঠনটি। গতকালের বিক্ষোভ সমাবেশে খণ্ড খণ্ডভাবে হাজারো মানুষ অংশ নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল দশটার দিকে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে বাড়িমালিকরা চসিকের ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে জমায়েত হন। ওয়ার্ড সর্দারদের নেতৃত্বে কাউন্সিলর অফিস ঘেরাও করে ঘণ্টাব্যাপী তারা সেখানে অবস’ান করেন। এসময় তারা অতিরিক্ত গৃহকর বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও স্লোগান দেন। পরবর্তীতে সকাল এগারোটার দিকে দশ কাউন্সিলরকে গৃহকর প্রসঙ্গে এলাকাবাসীর পক্ষে অবস’ান নেওয়ার জন্য স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
আকাশচুম্বি গৃহকর বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত এলাকাবাসীদের পক্ষে অবস’ান নেওয়ার আবেদন জানিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘চসিক জবরদস্তিমূলক গৃহকর আদায়ের দাবিতে এসেসমেন্ট সম্পন্ন করেছে। এ এসেসমেন্ট মধ্যবিত্ত নাগনিকের মাথায় বিনা মেঘে বজ্রপাতের শামিল। ভবনের বর্গফুটের বদলে ভাড়ার ভিত্তিতে এসেসমেন্ট করার ফলে গৃহকর অসনীয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিশোধের ক্ষমতা মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তদের নেই। চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি অনুযায়ী ওয়ার্ডের জনগণ স্মারকলিপি পেশের মাধ্যমে আমাদের পক্ষে অবস’ান নিয়ে আগামীতে সোচ্চার হওয়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
চসিকের সাধারণ সভায় গৃহকর বাতিলে কাউন্সিলরদের নীরবতা বাড়িমালিকদের বিস্মিত করেছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়- ‘আপনি আমাদের এলাকার সন্তান। আমাদের দুঃসময়ে আপনি ত্রাতা হিসেবে আভির্ভূত হবেন সেটাই প্রত্যাশিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী প্রস্তাবের বিরুদ্ধে লিখিত ভিন্নমত জানাবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
দুপুর বারোটার দিকে মিছিলসহ হাজার হাজার বাড়িমালিক আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে অবস’ান করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দুপুর একটার দিকে বাড়ি মালিকদের নেতৃবৃন্দ দেওয়ানহাট মোড়ে অবস’ান শেষে ভবিষ্যত আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
‘করদাতা সুরক্ষা পরিষদ’র মুখপাত্র হাসান মারুফ রুমি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোল চলবে। আগামী শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রামপুর, এনায়েত বাজার, চকবাজার, উত্তর পাহাড়তলী, দক্ষিণ পাহাড়তলী, সরাইপাড়া, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ কাট্টলি, লালখান বাজার ও বাগমণিরামসহ দশটি ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ঘেরাও এবং অবস’ান কর্মসূচি পালন করা হবে।’

হাসান মারুফ জানান, কাউন্সিলরগুণ নিজেরা স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কাছ থেকে কোন আশ্বাস পাওয়া যায়নি। কাউন্সিলরগণ করপোরেশনের মিটিংয়ে বিষয়টি জানাবেন বলেছেন।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে সাতটার দিকে করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ আমির উদ্দিন সুপ্রভাতকে জানান, ‘দশজন কাউন্সিলরের মধ্যে আমরা সাত জনের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছি। তিন জনের কাছ থেকে কোন সাড়া পাইনি। কাউন্সিলর মো. শাহেদ ইকবাল বাবু, মোহাম্মদ হাবিবুল হক, মোহাম্মদ শফিউল আলম, গোলাম মো. চৌধুরী জিয়াউল হক সুমন আমাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তারা বলেছেন, ‘জনগণ এই কর দিতে পারবেন না। এ কর বাতিল করা উচিত। কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক ও এইচএম সোহেল শুধু স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। পক্ষান্তরে মোহাম্মদ জাবেদ, গোলাম মো. জোবায়ের ও মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের পক্ষ থেকে কোন রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।’

আমির উদ্দিন বলেন, ‘জনগণ বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। তাদের দাবি, মেয়র যেন অতি সত্বর গৃহকরের এসেসমেন্ট বাতিলের উদ্যোগ নেন।’
বাড়িমালিকদের স্মারকলিপি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাবিবুল হক সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমার কাছে ৪৭ জন এসেছিল। তাদেরকে একটি ফর্ম দিয়ে তাদের হোল্ডিংয়ের তথ্য দেওয়ার জন্য বলেছি। আমি তাদের বক্তব্য শুনে তাদেরকে আপিল করতে বলেছি। গরীবদের জন্য গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে এমনকি একেবারে মওকুপ করার জন্য আমি কাজ করবো।’
বাড়িমালিকদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস ঘেরাও এবং বিক্ষোভ মিছিল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা সুপ্রভাতকে বলেন, ‘ভবনমালিকদের তো সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। আপিল করার সুযোগ আছে তাদের। তথ্য-উপাত্তে গৃহকর বেশি ধার্য করা হয়েছে প্রমাণ করতে পারলে শুনানিতে অবশ্যই করের পরিমাণ কমানো হবে। এরপরও তারা যদি সন’ষ্ট না হোন, তাহলে তো তারা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে যেতে পারেন। এভাবে আন্দোলনের তো কোন মানে হয় না।’

x