হোয়াইটওয়াশ এড়াতে কাল ভোরে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

নজরুল ইসলাম

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
23

নিউজিল্যান্ড সফরে একটা জয় যেন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য। এখনো জয়ের দেখাতো দূরের কথা জয়ের কিনারায়ও যেতে পারেনি টাইগাররা। ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের পর টেস্ট সিরিজেও হোয়াইট ওয়াশের দরজায় দাঁড়িয়ে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম দুটি টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটিতো আড়াই দিনেই হেরেছে। দুই দিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পরও ম্যাচটা বাঁচাতে পারেনি তামিম-রিয়াদরা। তাই আরো একটি হোয়াইট ওয়াশ গাঢ়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে বাংলাদেশের। আর সে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে কাল শনিবার ভোরে মাঠে নামবে বাংলাদেশ । তিন টেস্ট সিরিজে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে সফরকারী টাইগাররা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট হারলে নিউজিল্যান্ডের কাছে আবারো হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পাবে টাইগাররা। সেটা হলে নিউজিল্যান্ডের কাছে এই প্রথম তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পেতে হবে বাংলাদেশকে। অবশ্য দ্বিপাক্ষিক সিরিজে এই প্রথমবার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।
এমন একটি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পেতে চায় না বাংলাদেশ। কিন্তু চাইলেইতো হবেনা। পুরো সিরিজে কি ব্যাটসম্যান আর কি বোলার সবাই যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে ব্যর্থতার। ব্যর্থতার মিছিলে কে কার আগে যাবে সে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এমনিতেই নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন অন্যদের জন্য কঠিন। তাই বলে এতটা নাকাল হতে হবে কেন। ব্যাটসম্যানরা যেন রানের জন্য যুদ্ধ করছে। কিন্তু বরাবরই হার মানছে স্বাগতিক বোলারদের সামনে। অপরদিকে বাংলাদেশের বোলারার যেন উদার হসেত্ম রান দিচ্ছে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। একের পর এক সেঞ্চুরি আর ডাবল সেঞ্চুরি করছে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। আর বাংলাদেশের ব্যাটসমানরা তা যেন চেয়ে চেয়ে দেখছে। একের পর এক হারতে হারতে পিট যেন দেওয়ালে ঠেকে গেছে টাইগারদের। এখন সে পিট দেওয়ালে ঠেকে যাওয়া থেকে ফিরতে হলে শেষ ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই টাইগারদের। কাল শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ক্রাইস্টচার্চে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি।
ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশের পর টেস্ট সিরিজে ভালো করার লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশের। নিয়মিত অধিনায়ক থাকা সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে থাকায় তাকে ছাড়াই নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে ভাল করার চেস্টা করেছিল মাহমুদুলস্নাহ রিয়াদের দল। কিন্তু দ্বিতীয় ধাক্কা খাওয়ার জন্য তৈরি ছিলো না টাইগাররা। আর সেটি হলো মুশফিকুর রহিমকে হারানো। ইনজুরির কারণে প্রথম এবং দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি মুশফিক। তবে তৃতীয় টেস্টের একাদশে মুশফিকের ফেরা বলতে গেলে নিশ্চিত। কিন্তু শংকা দেখা দিয়েছে আরেক জায়গায়। আর তা হচ্ছে মুশফিক ফিরলেও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে তামিমকে নিয়ে। অনুশীলনে হালকা আঘাত পাওয়ায় কাল মাঠে নামতে পারবেন কিনা তামিম তা এখনো নিশ্চিত নয়। সাকিব-মুশফিকের না থাকাটা টেস্ট সিরিজে কতটা ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে তা আর বলার অপেড়্গা রাখেনা। এখন নতুন শংকা সে তামিমকে ঘিরে, যিনি কিনা টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের সবচাইতে সফল ব্যাটসম্যান। যার ব্যাট থেকে এসেছে একটি সেঞ্চুরি এবং দুটি হাফ সেঞ্চুরি।
আগের দুই ম্যাচে মুশফিকের অভাবটা যত বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল শেষ ম্যাচে তামিম না থাকলে বাংলাদেশের ব্যাটিংটা বলতে গেলে একেবারে নেই হয়ে যাবে। কারন ইনজুরি থেকে ফিরে মুশফিক কতটা মেলে ধরতে পারবেন নিজেকে সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। সে জায়গায় তামিম না থাকা মানে বাংলাদেশের ব্যাটিং মেরুদন্ড একেবারে ভেঙে যাওয়া। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবাল ছাড়া ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ছিলো চোখে পড়ার মত। তামিমের ১২৬ রান সত্ত্বেও ২৩৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে তামিমের ৭৪ রানের পর ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে সেঞ্চুরি করেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদুলস্নাহ রিয়াদ। সৌম্য ১৪৯ ও মাহমুদুুলস্নাহ ১৪৬ রান করেন। কিন্তু তাতেও ইনিংস হারের লজ্জা থেকে রেহাই পায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসে বাংলাদেশ দলের স্কোর ছিল যথাক্রম ২১১ ও ২০৯ রান। যেখানে প্রথম ইনিংসে তামিম মকরেছিলেন ৭৬ রান। এখন তামিম খেলতে পারবেন কিনা কালকের ম্যাচে সেটা বড় একটা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে মাঠে। আর সে জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ।

x