হোসাইন কবিরের গুচ্ছকবিতা

শুক্রবার , ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
35

অপেক্ষা

আমরা থাকি যে অন্ধকারে
তাকে আজ আর কেউ অন্ধকার ভাবে না, বলেও না।
আলো অন্ধকারের ভালোবাসাবাসি এতটাই ঘনিষ্ঠ যে
কেউ আর আজকাল এদের আলাদা করে দেখেও না
অতএব এখন মরে যাওয়া আর মেরে ফেলার মধ্যে
কোন দূরত্ব রেখাই দৃশ্যমান নয়

অতএব প্রার্থনা
এখন আর সংগীত কিংবা বৃষ্টিমুখর দিনের জন্য নয়।

অতএব প্রার্থনা
এখন আর অনাগত সন্তানের শুভ কামনায় কিংবা
ফলবান বৃক্ষ আর ফুল পাখি নারীর জন্যও নয়।

অতএব প্রার্থনা
এখন আর কোন কল্লোলিত নদী কিংবা
তার প্রবাহমান জলধারার জন্যও নয়।

অতএব প্রার্থনা
মৃত্যু আর মৃত্যুময় মহাপ্রলয়ের
শোকার্ত প্রহর গোনা।

পারাপার

সারাদিন দরজায়
কে যে টোকা দিয়ে যায়!
সারারাত অন্ধকারে
কে যেন থমকে দাঁড়ায়!
শিস দিয়ে যায়;
চেনা অচেনার ভঙ্গিমায়!
ভাবি, মৃত্যুময় আলোর বন্যায়
কেউ ভেসে যায়
আমারই প্রতিরূপ
আমারই অবয়ব

জীবন তো একটি রেখায়
এপার ওপার
ক্ষণিকের বিস্তার
পেছনে কালের স্রোত
দ্রুত ধাবমান
মৃতের লাশ
প্রাচীন অবয়ব
শুধু ভেসে যায়
অসংখ্য অগণন আমারই গড়ন

পাখিরা আকাশে ওড়ে, ছেড়েছে কী নীড়!

আকাশে নীলিমায় পাখিদের ওড়াউড়ি ঘরবাড়ি
আমরা চিনেছি তাদের কতটা!
অসংখ্য পাখির গানে পাখপাখালির ভিড়ে
আমরা আজো পাখি হতে পারি নি

আহা! যে পাখি নিজেকে আড়ালে রেখে
চোখ বুঝে লুকায় যাবতীয় স্বপ্ন-বিলাস
সেও তো কান্দে বিরহীর শোকে আমৃত্যু একাই

আকাশে নীলিমায় পাখিদের ওড়াউড়ি ঘরবাড়ি
আমরা চিনেছি তাদের কতটা!

পাখিরা আকাশে ওড়ে, ছেড়েছে কী নীড়!
আহা! খাঁচায় যে পাখি
সেও বুঝি কান্দে
আহার বিলাস ভুলে নিরবে একাকী

ঘরটা! ছিলো তো একাই

ঘরটা! ছিলো তো একাই
বুক পকেটে ছিলো তার সমূহ অস্তিত্ব অবয়ব

ঘরটা! ছিলো তো একাই
বহুদিন পর নিঃশব্দে সবাইকে আড়াল করে
নিজ গৃহে জন্মভিটায় আমি তার মুখোমুখি
বাজাই পাতার সানাই বিবিধ সুরে বালকবেলার আর
জং পড়া তালা খুলতেই টের পাই
মান অভিমান দূরত্বের সমূহ সংলাপ
জানি সব ঘর এমনকি সব রাত
দূরত্ব বাড়লে একা হয়ে যায়।

ঘরটা! ছিলো তো একাই
তবু দরজাকবাটে ধুলোবালির খিলে
নিরবে কেউ কী ছিলো, নাকি
নিজেরই মৃত অবয়ব শুয়ে ছিলো
বিছানাপত্রে যত্রতত্র নির্বিকার

ঘরটা! ছিলো তো একাই
তবু বহুদিন পর আমি তার মুখোমুখি
কথোপকথনে হাসিকান্নায় বেড়ে ওঠার সমূহ স্মৃতিতে
নিজের সাথে নিজেই

x