হৃদয়বিদারক একটি ঘটনার কথা ভুলতে পারে না সাসটেইন’র সদস্যরা

আহসানুল কবির রিটন

বৃহস্পতিবার , ৯ আগস্ট, ২০১৮ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
15

চট্টগ্রামের বলুয়ার দিঘী পাড়স্থ জনৈক বাহাদুর সাহেবের বাড়িতে গায়ে হলুদের অুনষ্ঠানে একটি ব্যান্ডদল গান পরিবেশন করছে। আর এটিই দলটির প্রথম অনুষ্ঠান। এখানে অংশ নিয়ে তাদের পারিশ্রমিক জুটেছিল মাত্র দুইহাজার টাকা। পারিশ্রমিক কম পেয়ে দলের কেউ কেউ মনে কষ্ট পেয়েছিলেন দারুণভাবে। তবে হাল ছাড়েননি কেউই। প্রায় দুই যুগ আগে গায়ে হলুদে অংশ নেয়া সেই দলটির নাম সাসটেইন।

১৯৯৬ সালের মার্চ মাস। চট্টগ্রামের পূর্ব মাদারবাড়ির শামসুল হুদা চৌধুরীর বাড়িতে সংগীত পিপাসু এক ঝাঁক তরুণ একটি ব্যান্ডদল করার পরিকল্পনা থেকে জন্ম নিয়েছিল সেই ব্যান্ডদল। তখন দলের সবাই স্কুলকলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

শুরুরদিকে দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, শামসুল হুদা চৌধুরীর ছেলে মোহাম্মদ হুমায়ুন। তিনি ছিলেন দলনেতা এবং কিবোর্ড বাদক, ড্রামস বাদক এরশাদ উল আলম, ভোকাল নাহিদ, আবসার, বেস গিটার বাদক আলমগীর, লিড গিটার বাদক এহসান হাবীব জুয়েল।

দলনেতা হুমায়ুনদের বাসা সংলগ্ন একটি গ্যারেজকেই দলের সদস্যরা বেচে নেন প্র্যাকটিস রুম হিসেবে। হুমায়ুনের বাবা কিছুটা সংগীতানুরাগী ছিলেন। আর তাই তিনিই ছেলেদের আগ্রহ দেখে বেশকিছু বাদ্যযন্ত্র কিনে দেন দলের সদস্যদের।

তারপর থেকে দলের সদস্যরা প্রতিনিয়ত চর্চার মাধ্যমে নিজেদের আরো দক্ষ করে তোলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে থাকেন। ১৯৯৮ সালে দলে আসেন কিবোর্ডে রিয়াজ কিবরিয়া, ভোকাল পিন্টু এবং লিড গিটারে জুয়েল।

২০০৩ সালে চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বেনসন অ্যান্ড হেজেস ব্যান্ড কম্পিটিশন। সেখানে অংশ নেয়া সাতটি দলের মধ্যে একটি ছিলো সাসটেইন। এই কম্পিটিশনে অংশ নেয়ার পর দলটি সবার দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়।

পরের বছর অর্থাৎ ২০০৪ সালে ঢাকার মিউজিক ওয়ার্ল্ড থেকে পবিত্র প্রেম নামে তাদের প্রথম ক্যাসেটটি বের করে। ২০০৬ সালে ঢাকার সাউন্ডটেক থেকে বের হয় দ্বিতীয় ক্যাসেট ৭১। ২০০৯ সালে ঢাকার ফাহিম মিউজিক থেকে বের হয় রহস্য নামে তৃতীয় ক্যাসেট। এছাড়া সাম্পান, মুখোশ এবং বিরক নামে আরো তিনটি মিঙড অ্যালবামে তাদের গান স্থান পায়।

পাশাপাশি ২০০৫০৬ সালে ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মেরিল প্রথম আলো পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনের সুযোগ পায় সাসটেইন। এছাড়া বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র, বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টিভি, দেশটিভি, এনটিভি, আরটিভি, এসএ টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে সাসটেইন।

দলের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছেইউসুফ নবী মন মজাইলো ভালবাসার ঘর বসাইলো, মন পাখি থাকিসরে কই, ছবি, স্বপ্নের স্বাধীনতা, সবুজ লাল পতাকা ইত্যাদি।

বর্তমানে আরো একটি ক্যাসেটের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দলের সদস্য আলমগীর। আগামী রোজার ঈদের আগেই ক্যাসেটটি রিলিজ হবার কথা।

দলের বর্তমান সদস্যরা হলেন, ভোকাল আরাফাত ও রাসেল, ড্রামস বাদক এরশাদ উল আলম, লিড গিটার বাদক সোহান হায়দার, কিবোর্ড বাদক রানা, বেস গিটার বাদক আলমগীর।

২০০২ সালে চট্টগ্রামের অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে অগ্নিদগ্ধদের সাহায্যার্থে প্রথম আলো একটি অনুষ্ঠান করে। এতে অংশ নেয় সাসটেইন। সেই অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এক হৃদয় বিদারক ঘটনা আজো ভাবিয়ে তোলে তাদের সবাইকে। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে একজন তরুন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নাচতে শুরু করে। এক সময় অসম্ভব ক্লান্ত অবস্থায় মঞ্চের পাশে রাখা বিষাক্ত পানীয়কে খাবার পানি ভেবে খেয়ে ফেলেন তিনি। এতে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে সেই যুবক। পরে সবাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে কিন্তু তিনদিন পর তার মৃত্যু হয়।

x