হিমছড়ি সৈকতের ঝাউগাছ মরে যাওয়ার রহস্য উদঘাটিত হয়নি

বনবিভাগের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
26

হিমছড়ি সৈকতের ঝাউগাছ মরে যাওয়ার রহস্য এখনও উদঘাটিত হয়নি। এনিয়ে বনবিভাগ কিংবা সরকারি কোন সংস্থা তদন্তেরও উদ্যোগ নেয়নি। তবে কক্সবাজার বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা ঝাউগাছ মরে যাওয়ার ঘটনাটিকে ‘নাশকতা’ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ‘প্রাকৃতিক কারণ’ বলে উল্লেখ করছেন। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, বনকর্মীরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অসময়ে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে ঝাউবাগানটি ধ্বংস করছে। ফলে বিষয়টি বিভিন্ন মহলে রহস্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতের আমতলী ছড়া মোহনায় এক যুগেরও বেশি সময় আগে সাগরে বিলীন হওয়া কয়েকশত একর চর জমি গত কয়েক বছর আগে পুনরায় জেগে ওঠতে শুরু করে। ওই চরের ৫০ একর জমিতে গত জুন মাসে কোটি টাকা ব্যয় করে ঝাউ গাছের চারা লাগায় কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ। এখানে অর্ধলক্ষাধিক ঝাউ গাছের চারা লাগানো হয়। গত ৫ মাসে চারাগুলো ডালপালা মেলে আরো হৃষ্টপুষ্ট ও বড় হয়। এরমধ্যে অনেক চারা ৫/৬ ফুট দীর্ঘও হয়। একই সময়ে সৈকতের তীরবর্তী আরো ২৫ একর পাহাড়ে ২৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ লাগানো হয়। এরমধ্যে সেগুন, গর্জন, গামারীও রয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবজনিত বর্ষণ থেমে যাওয়ার ৪/৫ দিন পর সৈকতের বালুচর যখন শুকনো খড়খড়ে হয়ে ওঠে তখনই সেখানে সার প্রয়োগ করেন স্থানীয় হিমছড়ি বিট কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা তারিকুর রহমান। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় আমতলী ছড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, টানা রোদের কারণে শুষ্ক ও খড়খড়ে সৈকতের ঝাউবাগানে সার প্রয়োগের বিষয়টি তাদের কাছে খটকা লাগায় তারা বিষয়টি বনকর্মীদের জানিয়েছিল। কিন্তু বনকর্মীরা উল্টো গ্রামবাসীকে শাসায়। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) হক মাহবুব মোর্শেদ ঘটনাটি ‘স্যাবোটাজ’ (নাশকতা) বলে মনে করেন। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনসংরক্ষক ড. জগলুল হোসেন বৃষ্টি না থাকায় প্রাকৃতিক কারণে ঝাউগাছ মারা যাচ্ছে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, গাছ মারা গেলে বনবিভাগ সেখানে আবারো চারা লাগাবে। হিমছড়ি সৈকতের ঝাউগাছ মরে যাওয়া সম্পর্কে বনকর্মকর্তা ও স্থানীয়দের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে রহস্যের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, এ বন যখন সৃজন করার সময় কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ছিলেন মো. আলী কবীর, রেঞ্জ কর্মকর্তা ছিলেন হারুনুর রশীদ এবং বিট কর্মকর্তা ছিলেন হান্নান। বর্তমানে তিনজনই অন্যত্র বদলি হয়েছেন। প্রায় এক মাস আগে তাদের স্থলে নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। অনেকের মতে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্মকর্তারা নতুন বন সৃজন প্রকল্পের নামে অর্থ তছরুপের উদ্দেশ্যে কিংবা অন্য কাউকে ফাঁসাতে এমন পরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়েছে। কারণ সার প্রয়োগের সময় জ্ঞান কোন বনকর্মীর অজানা থাকার কথা নয়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা তারিকুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইলে গত কয়েকদিন ধরে বার বার ফোন করা হয় ও এসএমএস পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

x