হাসেম সাহেবকে যেমন দেখেছি

ডা. কামাল এ খান

শনিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৮ at ৪:০৭ পূর্বাহ্ণ
38

স্কুল  জীবনে যখন ছোট ছিলাম তখন মাঝে মধ্যে আব্বার সঙ্গে শহরে এসেছি। তখনকার কথা স্পষ্ট মনে না থাকলেও কিছু কিছু আবছা মনে পড়ে। বটতলী স্টেশন থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে যখন শহরে আসতাম তখন পেছনের বড় সিটটাতে আব্বার সঙ্গে বসতে হতো। আমার কিন্তু বার বার ইচ্ছে হতো কোচোয়ানের সিটের নীচে সামনের দিকের সিটে গিয়ে বসি। সেই বসবার জন্য যখনই চেষ্টা করতাম সঙ্গে সঙ্গে হাত ধরে টেনে আব্বা নিয়ে আসতেন তার পাশে। খুব খারাপ লাগতো। ইচ্ছো হতো শুধু সামনের সিটে নয় বরং ওপরে কোচোয়ানের সঙ্গে তার পাশে গিয়ে বসতে। মনে হতো সেই উঁচু সিটে কোচোয়ানের সঙ্গে বসলে কতো মজাইনা পাবো। আব্বা নজির আহমেদ চৌধুরী রোডে মামার বাসায় কিম্বা খালু হাতী কোম্পানির বাড়িতে আমাকে রেখে ডিস্ট্রিক বোর্ডের মিটিংয়ে চলে যেতেন। হাতী কোম্পানির বাড়ির সামনে মোড়ের ওপর ডা. হাসেম সাহেবের চেম্বার। তখনকার দিনে ডাক্তারখানা নামেই পরিচিত। সে সময়ে রাস্তাঘাট প্রায়ই খালি। কদাচিৎ দু’একখানা ঘোড়ার গাড়ি বা টম টম চলতে দেখা যেতো। মোটর গাড়ি প্রায় ছিলো না বললেই চলে। দু’একটি হলুদ রঙের লরি গাড়ি দেখা যেতো। ফাঁকা রাস্তা। সমবয়সী সঙ্গীদের নিয়ে যখন তখন হাসেম সাহেবের ডাক্তারখানায় গিয়ে হাজির হতাম। হয়তো গিয়ে দেখতাম সেই সৌম্য দর্শন ব্যক্তি কোন রোগীকে দেখছেন কিম্বা লাল মিকচারের শিশিতে সাদা কাগজের দাগ দেওয়া ঔষধ সম্পর্কিত কিছু উপদেশ দিচ্ছেন। আবার কোন কোন সময় আব্বা যখন হাসেম সাহেবের ডাক্তার খানায় যেতেন তখন হয়তো তিনি আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। এবং অবাক হয়ে সেই আলমারিতে রাখা নানা রঙের শিশিগুলোর দিকে তাকাতাম। কখনো বা দেখতাম ডাক্তার সাহেব কোন রোগীর জিব বের করাচ্ছেন কিম্বা চোখের পাতা টানছেন কিম্বা পেট টিপছেন অথবা ঢোলের মত পেট বাজাচ্ছেন। দেখতে বেশ মজা লাগতো। এর বেশি বিশেষ কিছু বুঝতামও না মনেও পড়ে না। একচল্লিশে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হবার পর থেকে চট্টগ্রামের ক্রীড়া জগতের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়ি। ঠিক অনুরূপভাবে চট্টগ্রামস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আস্তে আস্তে পরিচিত হবারও সুযোগ ঘটে। তখন থেকেই ডা. হাসেম সাহেবকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সমাজ কর্মের একজন পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেখে আসছি। লাহোর প্রস্তাবের পর পাকিস্তান আন্দোলন আস্তে আস্তে শুরু হয়। একদিকে কংগ্রেস, প্রজা পার্টি, অন্যান্য পার্টিশান বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মুসলিম লীগের সংঘাতঅন্যদিকে স্থানীয় মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে অন্তর্ঘাত। প্রায়ই প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ কোন না কোন দলের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন বলে মনে পড়ে। সভা এবং পাল্টা সভা প্রায়ই লেগে থাকতো। কিন্তু একটা কথা মনে পড়ে ডা. হাসেম সাহেবকে এ ধরনের কোন দলে দেখা যেতো না। দেখা হলেই তিনি খেলাধুলার কথা জিজ্ঞেস করতেন এবং উৎসাহ দিতেন।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হবার পর শহর থেকে প্রায় লোকই গ্রামে চলে যায়। একদিকে জাপানী বোমার ভয়ে মানুষ ত্রস্ত, অন্যদিকে চালের দাম বেড়ে যাচ্ছিল তরতর করে। বাজারে চাল পাওয়াই মুশকিল। শ্যামহক মন্ত্রিসভা গদিচ্যুত। সরোয়ার্দীনাজিম উদ্দিন মন্ত্রিসভা ইস্পাহানি কোম্পানিকে সরকারের পক্ষ থেকে চাল সংগ্রহের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেন। জোর গুজব সারা বাংলায় চালের ঘাটতি। অতএব মজুতদাররা তার সম্পূর্ণ সুযোগ নিয়ে গুদামে চাল মজুত করতে আরম্ভ করে। শহরে গ্রামে নিরন্নদের হাহাকার, মহামারির পদধ্বনি। একই সময়ে চট্টগ্রাম শহরে মার্কিন সেনা বাহিনীর জন্য বিরাট বিরাট দু’টি রেস্টুরেন্ট তৈরি হয়েছে। কে সি দে রোডের মাঝখানে ব্রডওয়ে রেস্টুরেন্টের বিরাট বিরাট কাঁচের দরজার মধ্য দিয়ে উজ্জ্বল নিয়ন বাতির আলোকে সাজানো টেবিলের উপর মার্কিন ও ইউরোপীয় সৈন্যরা ভোজে ব্যস্ত। একই রাস্তার মোড়ে ট্রোকেডারো রেস্টুরেন্ট ও একই চেহারায় দাঁড়ানো। বাইরে ফুটপাতে ভুখার দল ডাষ্টবিন থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। হয়তোবা তাদের কেউ কেউ নিয়নবাতির আলোতে ঝকঝকে টেবিলের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। রাস্তায় রাস্তায় অনাহার ক্লিষ্ট হাড্ডিসার চর্মসার মানুষ যত্রতত্র পড়ে রয়েছে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে সেই সর্বনাশী দুর্ভিক্ষ সঙ্গে ভয়ংকর মহামারী।

এই অবস্থায় কিছু সংখ্যক ব্যক্তি গ্রামে শহরে লঙ্গরখানা খুলেছেন, আবার শহরে কিছু সংখ্যক ব্যক্তির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অীঁরষষরৎু (সেবামূলক) হাসপাতাল। একটি রহমতগঞ্জে প্রফেসর যোগেশ সিংহের বাসার উল্টো দিকের খালি জায়াগাটায়, অন্যটি মিউনিসিপ্যাল স্কুলের উল্টো দিকে রাস্তার পশ্চিম পাশে বর্তমান জলসা সিনেমার পাশে যে বিরাট খালি জায়গা ছিলো সেখানে একটি পুরানো ভাঙা দালানে। আমাদের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব ডা. এম এ হাসেম ছিলেন সেই উদ্যোক্তাদের অন্যতম। তাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সেই ভয়ংকর মহামারিতে হয়তো বিরাট সমুদ্রে এক বিন্দু জলকণার মতো ছিলো। তবু মৃত্যু পথযাত্রী সামান্য সংখ্যক মানুষকে অন্তত: কিছুটা প্রাণশক্তি যোগাতে সক্ষম হয়েছিলো। ডা. হাসেম সাহেবের সঙ্গে সেদিন যারা সহযোগিতা করেছিলেন যেমন ডা. কৃষ্ণ প্রসাদ ঘোষ, রফিক উদ্দিন সিদ্দিকী, ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, পূর্ণেন্দু দস্তিদার, কমরেড আবদুস সাত্তার, কল্পতরু সেনগুপ্ত প্রমুখ ব্যক্তিগণকে আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। চুয়াল্লিশ সালে চট্টগ্রাম কলেজের বি এ ক্লাশ থেকে নাম কাটিয়ে সবেমাত্র মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হয়েছি, ডা. হাসেম সাহেব তখন মেডিকেল স্কুলের উপদেষ্টা কমিটি ও টেষ্ট মেডিকেল ফ্যাকাল্টির সদস্য হলেও মূলত তিনি একজন সমাজ কর্মী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ছেচল্লিশ সালে ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলো। একদিকে খাদ্যাভাব অন্যদিকে মহামারির প্রাদুর্ভাব। তখন মেডিকেল স্কুল ও বিভিন্ন কলেজের ছাত্র ও অন্যান্য সমাজকর্মীদের নিয়ে রিলিফ কমিটি গঠিত হয়। ডা. হাসেম সাহেব ছিলেন সেই রিলিফ কমিটির সভাপতি। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে আমাদের গ্রুপটি তার কাছ থেকে ঔষধপত্র, অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী ও আসা যাওয়া খরচের জন্য যতটুকু মন পড়ে পাঁচ কিংবা দশ টাকা নিয়ে রওয়ানা হই। দুই সপ্তাহ পরে ফিরে এসে তার কাছে রিপোর্ট পেশ করি। আমার ছাত্র জীবনে ও কর্মজীবনের প্রথম ভাগে যে কোন সমাজ কর্মের জন্য যখনই তাঁর সান্নিধ্যে গিয়েছি তিনি উপদেশ দিয়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন।

উনিশ শ পঁয়তাল্লিশ সালে কাঁহার পাড়ার অধিবাসিদের উপর নতুনপাড়া সেনা নিবাসের বৃটিশ সৈন্যের পাশবিক নির্যাতন চট্টগ্রামের ইতিহাসে এক মর্মন্তুুদ ঘটনা। বর্তমান ক্যান্টনমেন্টের উল্টো দিকে রাস্তার পূর্ব পার্শ্বের এলাকাটি কাঁহার পাড়া বা কসাইপাড়া নামে পরিচিত ছিলো। বর্তমানে ঐ নামে জায়গাটি হয়তো চিনবেন না, এখন অনেকে ঐ এলাকাকে সৈয়দপুর নামেই উল্লেখ করে থাকেন। একদিন এই কাঁহার পাড়ার কয়েকজন মেয়ের উপর জোর পূর্বক আসুরিক অত্যাচার করার খবর পেয়ে ঐ এলাকার লোকজন এর প্রতিবাদ করলে বাদানুবাদ শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে

এলাকার লোকজন তিনজন সৈনিককে প্রহার করে। এর পরের ঘটনা সারা বাংলা তথা সমস্ত ভারতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নতুনপাড়া সেনানিবাস থেকে দলে দলে সৈন্য এসে সমস্ত কাঁহার পাড়া বা কসাইপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি পাড়ায় আগুন লাগিয়ে দেয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে সেই এলাকার জনপদ, এস্ত শিশু ও নারীর আর্তনাদে চারদিক মুখর হয়ে উঠে। দলে দলে শহর থেকে বিভিন্ন সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক দল সাহায্য করতে এগিয়ে যায়।

এই অবস্থায় চট্টগ্রামের প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিবর্গ মনে করলেন হিন্দু মুসলিম জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক দল একত্রিতভাবে এগিয়ে না আসলে এ ধরনের পাশবিক অত্যাচার এবং স্বৈরাচারের মোকাবেলা সহজ হবে না। তাই সমস্ত রাজনৈতিক দল এই সর্বপ্রথম একসঙ্গে সম্মিলিত আন্দোলন শুরু করলেন মিলিটারী অত্যাচার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন আমাদের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব ডা. হাসেম সাহেব ও আবদুল হক দোভাষী সাহেব। মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে রফিক উদ্দিন সিদ্দিকী সাহেব ও আবুল খায়ের সিদ্দিকী, ছাত্রনেতা এম এ আজীজ, কম্যুনিস্ট পার্টির সেক্রেটারী কল্পতরু সেনগুপ্ত, কল্পনা দত্ত, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা সুরেশ দে, কংগ্রেস নেত্রী নেলী সেনগুপ্তা ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ এই আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখেন। এই উপলক্ষে তদানীন্তন মুসলিম হল প্রাঙ্গণে (বর্তমান মেটারনিটি হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী মাঠ যা গান্ধী ময়দান নামেও একসময় খ্যাত ছিলো)। যে সভা হয় তাতে মৌলানা আকরাম খান সাহেব ও বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা বঙ্কিম সেন বক্তৃতা করেছিলেন। ডেলিগেশান নিয়ে কোলকাতা যাওয়ার জন্যে যে কয়েকজনের উপর দায়িত্ব ছিলো আমি ছিলাম তাদের মধ্যে একজন। আমার যতটুকু মনে হয় চট্টগ্রামে যত অসাম্প্রদায়িক কার্যক্রম বা আন্দোলন গড়ে উঠেছে তার মধ্যে কাঁহার পাড়ার মিলিটারীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐ সমন্বিত আন্দোলন ছিল অন্যতম এবং ডা. হাসেম সাহেব ছিলেন এর পুরোভাগে।

বস্তুত পঞ্চাশ দশক পর্যন্ত ডা. হাসেম সাহেবকে ছাড়া কোন সাংস্কৃতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা চিন্তা করা যেত না। অধুনালুপ্ত ভি আই হোস্টেল (ভিক্টোরিয়া ইসলামিক হোস্টেল) এবং মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যাঁদের পরিশ্রম ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত, জ্ঞানানুরাগী ডা. হসেম সাহেব তাঁদের অন্যতম। ভি আই হোস্টেল মুসলিম ছাত্রদের শিক্ষার ব্যাপারে যে একটি বিরাট অবদান রেখেছে তা অনস্বীকার্য। চট্টগ্রামের যে কোন ব্যক্তি তা এক বাক্যে স্বীকার করে থাকেন।

যে সমস্ত স্কুল কলেজ এবং মুসলিম ছাত্রদের থাকার জায়গা অভাব ছিলো বিশেষ করে মফস্বল এবং নোয়াখালি থেকে আগত ছাত্রদের একমাত্র আবাসস্থল ছিলো এই ভি আই হোস্টেল। আমাদের ছাত্রাবস্থায় অনেক মেডিকেল ছাত্র এবং চট্টগ্রাম কলেজ ও ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজের মুসলিম ছাত্রদের এই হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতে দেখেছি। কালক্রমে শিক্ষা ক্ষেত্রে সুযোগ আরো বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই জায়গায় নৈশ কলেজ স্থাপন করা হয়েছিলো। আরেক কর্মবীর পরলোকগত বাদশা মিয়া চৌধুরী সাহেবের সক্রিয় সহযোগিতায় ডা. হাসেম সাহেব এই প্রচেষ্টাকে সফল করে তোলেন।

তখনকার দিনে পাস করা ডাক্তারের সংখ্যা ছিলো অত্যন্ত কম। ডা. হরিহর দত্ত, ডা. ওমর, ডা. ফজল করিম, ডা. জাব্বার, ডা. পূর্ণ চৌধুরী ও ডা. যোগদা বিশ্বাসএঁরাই ছিলেন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এর মধ্যে, আমার সব সময় মনে হয়েছে, ডা. হাসেম সাহেবের ডাক্তারখানার চরিত্র ছিলো ভিন্ন রকমের। প্রায় দেখেছি এখানে যারা চিকিৎসা করাতে আসতেন তাদের বেশির ভাগ রোগীই সমাজকর্মী। অনেক রোগী প্রায় বিনা ফিসে চিকিৎসা পেতেন। এমনকি মাঝে মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ পেতেও দেখেছি। আমি নিজে কোন সময় ডাক্তারের ফিস দেওয়া কিংবা ঔষধের দাম জিজ্ঞেস করারও সুযোগ পাই নি। ডা. হাসেম সাহেব ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক অকৃত্রিম দেশ প্রেমিক। দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না থাকলেও প্রগতিশীল চিন্তাবিদ হিসেবে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। খুব কম লোকই জীবিতকালে এতো জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেন। আমার সৌভাগ্য যে শুধু তার নৈকট্য লাভের সুযোগ ঘটেনি, তার কাছ থেকে সব সময় স্নেহ এবং উৎসাহ অনুপ্রেরণা পেয়ে এসেছি।

আজ তাঁকে বিশেষ করে মনে পড়ছে এই কারণে যে পরলোকগত বাদশা মিয়া চৌধুরী প্রমুখ সহযোগীদের নিয়ে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি নামে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন তা আজ বিপর্যয়ের সম্মুখীন।

তাঁর আদর্শ সফল হোক, আজ তাঁর মৃত্যু দিবসে শুধু এই কামনা করি।

x