হারিয়ে যাচ্ছে নৈতিকতা আর শিষ্টাচারিতা

বৃহস্পতিবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ
39

সমাজ এবং দেশ যখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় ভাসছে, তখন অন্যপ্রান্তে ডুবে যাচ্ছে মানুষের সভ্যতা, শিষ্টাচার আর সৌজন্যবোধ। হারিয়ে যাচ্ছে নৈতিকতা, মানবতা আর মনুষ্যত্ব। সমাজে এখন নেই ছোট বড় পার্থক্য। নেই সম্মান আর স্নেহ। নেই গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি আর সৌজন্যবোধ। বলা যায় শিষ্টাচারিতার স্থানটি প্রায় লোপ পেয়ে যাচ্ছে এদেশ এবং সমাজ থেকে। আর এর জন্য অনেকটাই দায়ী বড়রা। একটা শিশু বেড়ে উঠার সময় সে সমাজে এবং পরিবারে যা-ই দেখবে তাই গ্রহণ করবে। আমার সন্তান খারাপ হচ্ছে মানে ভাবতে হবে আমারও কিছু সমস্যা রয়েছে। আমি গালি দিলে আমার সন্তান সেটা কেনো শিখবে না? তাই বড়রা ঠিক হলে ছোটরা অনেকটাই পরিবর্তনের দিকে আসবে। স্কুল-কলেজে শিক্ষকরা ক্লাসে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে যাওয়াটা নিয়ম মনে করেই ছাত্ররা দাঁড়ায়। বাস্তবে সম্মান, শ্রদ্ধা এবং ভক্তি করে দাড়ানোর মানসিকতা ছাত্রদের ভেতর জাগ্রত নেই। কারণ এধরনের শিক্ষা তারা পায় না। আর শিক্ষাটা যে পরিবার থেকে আসবে তা নয়। সেটা হতে পারে সমাজ থেকে, স্কুল থেকে, বড় ভাই থেকে, বন্ধু থেকে, কর্মস্থল থেকে, কিংবা কোনো সংগঠন থেকে। কিন্তু বাস্তবে সমাজ, পরিবার, স্কুল, কলেজ, বন্ধু-বান্ধব, বড়ভাই কিংবা সংগঠন কোথাও এই শিক্ষা নেই। তাইতো এখন বড় ছোট কোনো পার্থক্য সমাজে নেই। এখন ছোটরাও বড়দের উপর আঘাত করতে চিন্তা করে না। যার ভেতর শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধের অভাব থাকবে সেতো বড়দের আঘাত করবেই। আর এই অভাব রাখার দায়টা বড়দেরকেই নিতে হবে। আজকাল বড়রাই ছোটদের এই শিষ্টাচার, নৈতিকতা এবং ভদ্রতা থেকে দূরে রাখছে। তারাই ছোটদের নিয়ে কুকর্ম আর অন্যায় পথে হাটছে। এ থেকে ছোটরা আর কি শিখবে। আপনি যদি আপনার বড়কে সম্মান না দেন তাহলে আপনাকে আপনার ছোটজন কীভাবে সম্মান দিবে? আর আপনিও সেই সম্মান কীভাবে আশা করবেন? তাই সচেতন হতে হবে আপনাকে আমাকে এখন থেকে। যার যার অবস্থান থেকে মানবিকতা, নৈতিকতা, নম্রতা, ভদ্রতা, শিষ্টাচারিতা, সৌজন্যতা এবং ভালো ব্যবহার করতে হবে। তবেই অন্যজন আমাকে দেখে শিখবে। আমি অন্যজনের সাথে ভালো ব্যবহার করলে তার বিনিময়ে আমিও ভালো ব্যবহার পাবো। তাই আগে নিজে পরিবর্তন এবং সচেতন হই, তারপর অন্যজনকে সচেতন করার কথা ভাববেন। আমি যা করি তা অন্যজনকে কীভাবে না করবো। আমি অন্যায় কাজ করি, আর মানুষকে বড় বড় লেকচার দিবো অন্যায় কাজ করিও না সেটাতো হতে পারে না। আমি কেমন সেটা মুখ দিয়ে প্রমাণ না করে কাজে প্রমাণ করাটাই আসল প্রমাণ। তাই আসুন আমরা প্রত্যেকে যার যার স্থান থেকে পরিবর্তন হই, দেখবেন একদিন দেশ হয়ে উঠবে ভালোবাসায় ভরপুর। সকলের ভেতর থাকবে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। তাই এখন থেকে নিজেদের ভেতর সেই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ছোটদের স্নেহ আর বড়দের সম্মান দিয়ে আগে নিজেরা নিজেদের ঠিক করি। তখন আমার কাছ থেকে বড়. ছোট উভয়জন শিক্ষা পাবে। পরিশেষে বলতে চাই, মুখে নয় কাজেই দেখাতে হবে সচেতনতা আর পরিবর্তনের ভাষা।
আজহার মাহমুদ, শিক্ষার্থী, বিবিএ. (অনার্স), হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (২য় বর্ষ), ওমরগনি এমইএস কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

x