হারিয়ে যাচ্ছে দেশি খেজুর

মাহবুব পলাশ : মীরসরাই

সোমবার , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৭:১০ পূর্বাহ্ণ
55

বসন্তের এই সময়ে মীরসরাইয়ের গ্রামীণ জনপদে খেজুর গাছ জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় খেজুর। সৌদি আরবের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিদেশি খেজুর চাষ করার চেষ্টা শুরু হলেও হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় খেজুর। বিগত বছরগুলোতে যেমন গ্রামবাংলার প্রকৃতির দিকে তাকালে চোখে পড়তো খেজুর গাছ। এদিকে কালের বিবর্তনে দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এই খেজুর গাছগুলো।
নানা কারণে ও প্রকৃতি প্রেমিকের অভাবে গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এসব খেজুর গাছ । বাজারে হরেক রকমের খেজুর পাওয়া গেলেও এখন আর ‘দেশি খেজুর ’ চোখেই না পড়ায় দিনে দিনে ক্রেতাগণ ভুলে যাচ্ছে দেশি খেজুরের কথা। তবে পিছনের দিকে তাকালে ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে অনেকেরই। গ্রাম বাংলার খেজুরের রস খাওয়ার কথা কারোরই ভোলার নয়। তেমনি পাকা খেজুর ভোরের বেলা কুড়িয়ে খাওয়ার কথাও কারো ভোলার নয়। তবে বাংলাদেশের খেজুর গাছগুলোর খেজুর সৌদি আরবের মতো খাওয়ার উপযোগী করে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন না করা গেলেও দেশের খেজুরগুলো যখন সুলভ হয়ে পাকার উপযোগী হয় তখন গ্রামের ছেলে-মেয়ে, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা ভোর হতে না হতেই খেজুর সংগ্রহের জন্য গাছ তলায় গিয়ে আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে খেজুর খাওয়ার দৃশ্য এখনও অমলিন।
খেজুর এক ধরনের তালজাতীয় শাখাবিহীন বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ফিনিক্স ড্যাকটিলিফেরা। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সুমিষ্ট ফল হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায়। অনেক বছর পূর্বে থেকেই এর চাষাবাদ হয়ে আসছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে যে জলবায়ু রয়েছে তা খেজুর চাষের জন্য অনেকটাই উপযোগী। কিন্তু বিদেশি খেজুর চাষের পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছকে যদি বাংলার মাটিতে টিকিয়ে রাখা যায় তাহলে খেজুরের রস, গুড় এবং খেজুর ঘাটতি থাকবে না।
মীরসরাইয়ের ইছাখালী এলাকার হাজী সাহাবউদ্দিন বলেন খেজুরের রস সংগ্রহ এবং খেজুর উৎপাদন এটি একটি গ্রামবাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্য। একসময় এই চরশরৎ গ্রামে অনেক দেশীয় খেজুর গাছ ছিল। বাল্য কালের কথা মনে পড়ে, সকাল হলেই খেজুর সংগ্রহে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে বেশ আনন্দমুখর আয়োজন দেখা যেতো। কিন্তু বর্তমানে এসব খেজুর গাছ মীরসরাই উপজেলায় খুব কমই দেখা যায়। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে সেই রূপসী বাংলার ঐতিহ্য। যদি সকলের উদ্যোগে এসব খেজুর গাছ টিকিয়ে রাখা যায় তাহলে পুরনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখা যাবে এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দেশও লাভবান হবে।
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, শুনেছি বিগত বছরগুলোতে এখানকার প্রতিটি গ্রামে অনেক খেজুর গাছ ছিল। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে এখন এসব গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। তাই সকলের উদ্যোগে দেশীয় খেজুর গাছকে যদি টিকিয়ে রাখা যায় তবে গ্রামবাংলার দেশীয় খেজুর রস, এবং খেজুর গুড় উৎপাদনে ঘাটতি থাকবে না।

x