হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের শরীফা ফল

মাহবুব পলাশ : মীরসরাই

সোমবার , ১৫ অক্টোবর, ২০১৮ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
56

দেশের গ্রামীণ জনপদের মতো মীরসরাইয়েও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সহজলভ্য ছিল ‘‘শরীফা’’ নামের সুস্বাধু ফলটি। দিনে দিনে কালের গর্ভে হারিয়ে যাবার বাকী এই ফলটি। ‘ শরীফা ’ পাতাঝরা ছোট আকারের গাছ। বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা পার্শ্বে , কখনো বা বাগানের সম্মুখ স্থানে, কারো রান্নাঘরের পার্শ্বেই শোভা পায় এই গাছটি।
পুস্তকাদি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে ইংরেজিতে Custard-apple, Sugar-apple, sugar-pineapple or sweetsop ইত্যাদি নামে পরিচিত এই ফলটি। বৈজ্ঞানিক নাম Anona squamosa. এই শরীফা ফলের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার নিরক্ষীয় অঞ্চল। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ, কিউবা, মধ্য আফ্রিকা, মিসর, শ্রীলংকা, মিয়ানমারসহ গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে সীতাফল দেখা যায়। অনেকেই মনে করেন, কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের অনেক আগেই পর্তুগিজরা প্রশান্ত মহাসাগরীয়র কোনো এক দ্বীপ থেকে ভারতবর্ষে সীতাফল নিয়ে আসেন। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা যায় বর্তমানে থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়। কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে মীরসরাইয়ের মতো গ্রামীণ জনপদ সহ দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে।
এই শরীফা ফলের অন্য নাম সীতাফল বা মেওয়া। গাছের কান্ড সোজা, কাষ্ঠল। উচ্চতায় ৩ থেকে ৫ মিটার। শীতকালে পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তে নতুন পাতা গজায়, ফুল ধরে। ফুল এককভাবে বা গুচ্ছাকারে পাতার কক্ষে বা পুরনো শাখায় ফোটে। গাছে ফল ধরতে ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগে। ফুল ধরার প্রায় ৫ মাস পরে ফল পাকে। কাঁচা ফল খাওয়া যায় না। পাকা ফলের বীজ কালো এবং কাঁচা ফলের বীজ সাদা। একটি ফুলের মুণ্ড গর্ভাশয়গুলো থেকে একগুচ্ছ ফল হয়। পাকা ফল বলকারক, বাত-পিত্তনাশক, তৃষ্ণা নিবারক ও বমিরোধক। সীতাফলের শিকড় রক্ত আমাশয় রোগে উপকারী। অপরিপক্ব বীজ, পাতা, শিকড় ও ফলের মিহি গুঁড়া কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চীন ও ফিলিপাইনে মানুষেরা মাথার উকুন দমনে সীতাফলের বীজের গুঁড়া ব্যবহার করে। শসা ও কুমড়ার জমিতে পাতার নির্যাস ব্যবহার করলে ৯১ ভাগ লাল পোকা দমন সম্ভব। একসময় বাড়ির আশপাশে, জঙ্গলে, রাস্তার ধারে ছোট ছোট সীতাফলের গাছ দেখা যেত। বর্তমানে আগের মতো আর চোখে পড়ে না। তবে দেশের উত্তরাঞ্চল রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, গাজীপুর ও দিনাজপুরে ফলটির চাষ হয়। মীরসরাইয়ের কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন মীরসরাই উপজেলা ও এই শরীফা চাষের উপযোগি। তাই এখানে ব্যক্তিগত ভাবে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ নিলে সফলতা সম্ভব। কোন উদ্যোক্তা আগ্রহী হলে এই বিষয়ে কৃষি বিভাগ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

x