হারিয়ে যাওয়া তাল গাছ আবার ফিরে আসছে

কেশব কুমার বড়ুয়া : হাটহাজারী

সোমবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
300

তাল একটি দেশীয় সুস্বাদু ফল। তালের রসের পিঠা মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তাছাড়া তাল গাছ বজ্রপাত প্রতিরোধক হিসাবে জনশ্রুতি রয়েছে। বিভিন্নভাবে গবেষণা করে তাল গাছ বজ্রপাত নিরোধক হিসাবে তথ্য পাওয়া গেছে। মানুষের জন্য উপকারি ও গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় এ ফলের গাছ হাটহাজারীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়ে গিয়েছিল। এক সময় মুরুব্বিরা যেসব তালগাছ রোপণ করেছিল বয়সের কারণে প্রায় মুরুব্বীরা মারা গেছে। পরবর্তী প্রজন্ম দীর্ঘদিন পরে এ গাছ থেকে ফল পাওয়া যায় বলে বীজ বা গাছ রোপণের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ক্রমে গাছের উপকারিতা বিষয়ে মানুষ সচেতন হওয়ায় এ গাছ রোপণের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তাল গাছের খুঁটি ঘরে লাগানো গেলে এ খুঁটি সহজে নষ্ট হয় না। দীর্ঘদিন টিকে থাকে। তাল পাতার পাখা মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। কারণ এ পাতার বাতাস শীতল। হালকা হাওয়ায় পাখা করতেও সহজ হয়। তাল গাছের ডালের আঁশ দিয়ে ফুলের টপ, বাজারের থলে ও অনেক সুন্দর দ্রব্য তৈরি করা যায়। এখন তাল গাছ না থাকায় তাল গাছের ডালের আঁশ পাওয়া না যাওয়ায় আঁশের তৈরি দ্রব্যাদি তেমন দেখা যায় না। তাল গাছের ডালের আঁশের তৈরি দ্রব্যাদি বিক্রি করে কেউ কেউ বাড়তি আয়ও করত। অনেকে তাল গাছের ডালের আঁশের তৈরি দ্রব্যাদি বুনতে ভুলে গেছে। গ্রামাঞ্চলে প্রবাদ রয়েছে বাংলা বছরের ভাদ্র মাসে তালের রস শরীরের জন্য মহা উপকারী। আবার তালের বীচি ছাই জাতীয় মাটিতে রাখলে কিছু দিন পর ভিতরে যে জিনিসটি হয় তা খেতে খুবই সুস্বাদু। এক সময় গ্রামের নববিবাহিতদের শ্বশুর বাড়ি থেকে বিশেষ করে মেয়ে পক্ষ থেকে তালের পিঠা ছেলে বাড়িতে না পাঠালে ছেলে পক্ষ নাখোশ হত। কালক্রমে তালগাছ কমে যাওয়ায় সে রেওয়াজ এখন নেই বল্লেই চলে। তাল ও গাছের নানা উপকারিতা উপলব্ধি করে বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে বজ্রপাত প্রতিরোধের জন্য তাল গাছ রোপণের প্রতি সরকারও আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিগত ৩/৪ বছর পূর্বে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার সময় ঠিকাদারকে সড়কের পাশে তালের বীজ রোপণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদেরও একই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। এজন্য উপজেলার আওতাধীন গুমানমর্দ্দন, মির্জাপুর ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে তালের বীজ রোপণের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী,জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে তালের বীজ রোপণ করে বিষয়টি জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। সে হিসাবে গ্রামের অনেকেই তাল গাছ রোপণে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তালগাছ পরিবেশ বান্ধবও বটে। বিগত তিন চার বছর পূর্বে যেসব জায়গায় তালের বীজ রোপণ করা হয়েছিল সেগুলো ক্রমে চারা গাছে পরিণত হতে শুরু করে। তাল গাছের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা ভাগ রয়েছে। পুরুষ গাছে ফল হয় না। মহিলা গাছেই শুধু মাত্র ফল হয়ে থাকে। তবে কৃষি বিভাগ চেষ্টা করছে যাতে পুরুষ তাল গাছের সংখ্যা কম হয়। তালের চারা রোপণের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে বন বিভাগের নার্সারিতে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। তবে ফল যাতে স্বল্প মেয়াদে পাওয়া যায়। সে ব্যাপারে গবেষণা করে যদি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা যায় তাহলে এ গাছ রোপণের প্রতি মানুষের আরো বেশি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।

x