হারিয়ে গেছে পুরানো কাশখালী খাল

দখলদারদের ঠেকানো যাচ্ছে না

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ
42

রাউজানের খাল,নালাসহ সরকারি জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। বিভিন্নস্থানে ইতিমধ্যে পরিচালিত অভিযানে কমপক্ষে ২০ একর জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই অভিযান আরো জোরালো করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার ভূমি। জানা যায়, সমপ্রতি পরিচালিত অভিযানে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধদখলমুক্ত হয়েছে নতুন কাশখালী খালের একাংশ। এখানে পরিচালিত অভিযানে খালের জায়গায় গড়ে উঠা বাড়ি ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে। অনেকেই খালের জায়গায় নির্মাণ করা স্থাপনা এখন নিজেরা সরিয়ে নিচ্ছে। তবে এখানকার যে খাসখালী খালের অস্তিত্ব সরকারের আর এস, বিএস সিটে চিহ্নিত রয়েছে সেটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন এখনো হাত দেয়নি। ভূমির মানচিত্র (সিট) ও সরকারি নথিপত্র দেখে পুরানো খালটি উদ্ধারের অভিযান চালানো হবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রাউজান পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন প্রভাবশালীদের হাতে পুরানো কাশখালী খালটির অস্তিত্ব হারানোর পর এখন এলাকার মানুষের স্মৃতি থেকে এটি মুছ্‌ে যাচ্ছে। তিনি বলেন ফকিরহাট ও রাউজান থানাটি প্রতিবছর বর্ষার পানিতে ডুবে থাকে। বাজারের ভিতর যে দুটি নালা পানি নিষ্কাশনের জন্য দেয়া হয়েছিল সেগুলোও ময়লা আবর্জনা জমে অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে । খবর নিয়ে জানা যায়, এই এলাকার কয়েকটি পরিবার বাজারের সড়ক পাশ ঘেঁষে দোকানঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণ করে ভাড়ায় খাটাচ্ছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে তারা এখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করলেও বর্ষায় সৃষ্ট পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখেননি কোনো নালা। বর্ষায় উত্তর থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বাজারের উপর দিয়ে গড়িয়ে আসলেও দক্ষিণের সড়ক পাশের ভবন সমূহের কারণে পানি আটকে যায়। এতে ফকিরহাটে পানি আটকে থানা পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ওই এলাকার এক আইনজীবীর মতে সড়ক পাশ ঘেঁষে যেসব প্রভাবশালী মার্কেট ও বহুতল ভবন নির্মাণ করে রেখেছে, তাদের লক্ষ্য নিজের জমি পিছনে থাকা জমির মালিকদের জিম্মি করা। এই কৌশলে আটকিয়ে কমদামে ওই জমি কিনে নেয়া।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, বেরুলিয়া খালের বহু অংশে রয়েছে অবৈধ দখল দারিত্ব। গহিরা এলাকায় দেখা গেছে মাহবুল আলম বাবুল নামের এক ব্যক্তি কৃষি বিভাগের পরিত্যক্ত জমি দখল করে নিজের বহুতল ভবনের ভাড়াটেদের যাওয়া আসার জন্য রাস্তা করে দিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পুরানো ভবনটির কার্নিজের একটি অংশ ভেঙে বহুতল ভবনটি সমপ্রসারণ করেছেন, ওই জায়গায় গ্যাস লাইনের রাইজার বসিয়েছেন। সরকারি মালিকানার এই জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে শৌচাগারও। অবৈধ দখলদারদের এসব অপতৎপরতা নিয়ে কথা বললে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা ও সহকারী কমিশনার ভূমি জোনায়েদ কবির সোহাগ দুইজনই বলেন উপজেলা প্রশাসন সরকারি জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করা শুরু করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে বেয়াত হয়ে যাওয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা সম্পত্তিও উদ্ধার করে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি মসজিদ এর ওয়াকফ করা সম্পত্তি অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করে দেয়া হয়েছে। পৌরসভার আদালত ভবনের অদূরে জনৈক ছোলাইমানের অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে এলাকার জনসাধারণের কবরস্থানের জন্য দেয়া হয়েছে। সরকারি এই দুই কর্মকর্তা বলেন সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখল ছেড়ে চলে যেতে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বার্তা দেয়া হচ্ছে। এই হুঁশিয়ারীতে কাজ না হলে বুলডোজার চালানো হবে। এতে কেউ ছাড় পাবে না। অবৈধ দখলমুক্ত করার এই অভিযান আরো জোরদার করা হবে।

x