হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত

শনিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৮ at ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ
13

ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস চলমান সহিংসতা বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে গাজা সীমান্তে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। তবে ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেনি।

গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়েছিল যে, ২০১৪ সালের পর আবারো দুইপক্ষের মধ্যে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষকে রাজি করাতে উদ্যোগ নেয় মিসর ও জাতিসংঘ। তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। উল্টো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা যুদ্ধবিরতি না হওয়ার কথা জানিয়েছেন। রয়টার্স বলছে, হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতির বিষয় ইসরাইল সাধারণত সরাসরি স্বীকার করে না। কারণ হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করে ইসরাইল। বুধবার রাত ও গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাজায় দেড় শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। আর হামাস ইসরাইলের ভেতর অন্তত ১৮০টি রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল। এর আগে বুধবার রাতে ইসরাইলি বিমান হামলায় এক গর্ভবতী নারী ও তার ১৮ মাস বয়সী শিশুসহ তিনজন নিহত হয়। ইসরাইলি সেনা বাহিনীর দাবি, হামাসের রকেট হামলার জবাবেই ওই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের দুই সদস্য নিহত হয়। উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে গাজার ওপর অবরোধ আরোপ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।

২০০৮ সালের পর এ পর্যন্ত তিনটি অসম যুদ্ধও হয়েছে। গাজা সীমান্তে সর্বশেষ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে গত ৩০ মার্চ থেকে, যখন ফিলিস্তিনিরা তাদের উচ্ছেদ করা ভূমিতে ফেরত যাওয়া এবং গাজার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। গাজা সীমান্তে চলমান ওই কর্মসূচিতে নিরস্ত্র লোকদের ওপর ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে এ পর্যন্ত ১৬০ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার।

x