হামলার পর এবার মা-মেয়েকে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ

পারিবারিক বিরোধ

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ২ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
105

পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে উপর্যুপরি হামলার ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন হাসপাতালে, দুইজন ঘর ছাড়া এবং বাকি দুইজনকে (মহিলা) ঘরেই আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৮ দিন ধরেই দুই মহিলাকে নিজেদের ঘরে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই পরিবারের অভিভাবক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। আটকে রাখা দুইজন মামেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁশখালীর নাপোড়া গ্রামে।

বিষয়টি নিয়ে ২৮ ডিসেম্বর বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করার পর বিচারক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার আদেশ দিয়েছেন। এ আদেশের আলোকে বাঁশখালীর পুইঁছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোলতান গণি চৌধুরী মামলায় বাদীর আনা অভিযোগ তদন্ত করে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করবেন।

আদালতে দাখিল করা মামলার বিবরণে জানা গেছে, জোর করে ধান কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মারামারির ঘটনা ঘটে। ২১ ডিসেম্বর দুপুরে সংঘটিত ধান কাটার ঘটনায় বাদী ও তার দুই ছেলে বিবাদীপক্ষের লোকজনকে বাধা দেন। এরপরও বিবাদী পক্ষ ধান কেটে নিয়ে যায় বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ রয়েছে। একই দিন সন্ধ্যার দিকে নাপোড়া বাজারের কালীবাড়ি রোড এলাকায় আক্রমণের শিকার হন বাদীপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় আহত বাদী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মোহাম্মদ বেলাল ও জালালকে প্রথমে বাঁশখালী থানা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেয়া হয়। মামলায় রেজাউল করিম ও রেজাউল পাশাসহ মোট ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সোলতান গণি চৌধুরী জানান, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদীরা বাদী এবং তার পরিবারের সদস্যদের দফায় দফায় মারধর করে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে শালিস বিচার করার জন্য বিবাদীদেরকে তিন দফায় চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তারা আসেননি।

বরঞ্চ বাদীর পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ঘরছাড়া করেন। এর মধ্যে বাদীর কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে ঘরের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ বিষয়ে মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম জানান, হামলার কারনে আমরা আহতও হলাম, ঘরছাড়াও হলাম। বর্তমানে আমার স্ত্রী ও কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে ওই ঘরেই আটকে রেখেছে বিবাদীরা। গত ৮ দিন ধরে তারা মানবেতর অবস্থায় আছে। এ নিয়ে তিনি প্রশাসনের সহায়তাও চেয়েছেন।

x