হামলার আগে গাড়িতে বাজছিল যুদ্ধাপরাধী কারাদজিচের স্তূতিগাথা

রবিবার , ১৭ মার্চ, ২০১৯ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
108

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে গুলি চালিয়ে প্রার্থনারত মানুষদের হত্যাকারী ‘উগ্র ডানপন্থি’ ব্রেন্টন ট্যারেন্ট একজন ‘চরম মুসলিমবিরোধী’ ব্যক্তি। শুক্রবার আল নূর মসজিদের দিকে যাওয়ার পথে তার গাড়িতে যে গান বাজছিল তা থেকেও তার মধ্যে থাকা উগ্র ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদ এবং মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। খবর বিডিনিউজের।
হেলমেটে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমে ট্যারেন্ট আল নূর মসজিদে হামলা করতে যাওয়া থেকে শুরু করে পুরো হামলা ফেইসবুকে সরাসরি সমপ্রচার করেন। ১৭ মিনিটের ওই ভিডিওতে ট্যারেন্ট যখন গাড়ি চালিয়ে আল নূর মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন তখন তার গাড়িতে একটি সার্বীয় লোকগান বাজছিল। ওই গানে সাবেক বসনীয় সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিচ ও তার সেনাদের প্রশংসা করা হচ্ছিল। সেইসঙ্গে গানের কথায় বসনিয়া যুদ্ধের সময় ক্রোয়েশীয় ও বসনীয় মুসলমানের অসম্মান করতে ব্যবহৃত বিভিন্ন বাক্যও ছিল।
নব্বইয়ের দশকে বসনীয় যুদ্ধের সময় প্রায় আট হাজার মুসলমান পুরুষ ও বালককে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন কারাদজিচ; যা গণহত্যার নামে পরিচিত। ১৯৯৫ এর ১১ জুলাই কারাদজিচের পরিকল্পনাতেই বসনীয় সার্ব সেনাবাহিনী স্রেব্রেনিৎসার শহরে ওই হত্যাযজ্ঞ চালায়। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে কারাদজিচকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
বসনিয়ার যুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বসনীয় মুসলমান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মূল ভুখণ্ডে এত বড় হত্যাযজ্ঞ আর ঘটেনি। আল নূর মসজিদে হামলার পর ট্যারেন্ট নিজের গাড়িতে ফিরে আসেন; তখন তার গাড়িতে বিকট শব্দে ইংরেজি রক ব্যান্ড ‘দ্য ক্রেজি ওয়ার্ল্ড অব আর্থার ব্রাউন’র ‘ফায়ার’ গানটি বাজছিল.. ‘আই অ্যাম দ্য গড অব হেলফায়ার’। ট্যারেন্ট গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে লনউডে অন্য একটি মসজিদে হামলা চালান এবং সাতজনকে হত্যা করেন।

x