হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ

হালদা দূষণ : ২০ লাখ টাকা জরিমানা ‘বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব পড়বে না’

হাটহাজারী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১৮ জুলাই, ২০১৯ at ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ
278

হাটহাজারীর ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন না করা পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশের ক্ষতি করায় গতকাল বুধবার এই জরিমানা করা হয়। অন্যথায় এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হলেও হাটহাজারীতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপক শফিউদ্দিন আহম্মদ।
জানা যায়, গত ৮ জুলাই প্রবল বর্ষণের সময় হাটহাজারীর এগার মাইলে ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের বিষাক্ত বর্জ্য পাশের ছড়ায় ছেড়ে দেয়া হয়। এসব বর্জ্য হালদায় পড়ে মাছ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দূষিত বর্জ্যের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এরপর বিষয়টি পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানান।
পরে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দূষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। গতকাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ধারা ৭ অনুযায়ী ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান।
হাটহাজারী উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টটি বন্ধ হলেও এর প্রভাব হাটহাজারীতে পড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, এ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি হাটহাজারীতে সরবরাহ করা হয় না। এগুলো জাতীয় গ্রিডে চলে যায়। তাছাড়া হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
এ বিষয়ে জানতে গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইমামকে ফোন করা হয়। তবে তাকে পাওয়া যায়নি।
পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের ব্যবস্থাপক শফিউদ্দিন আহম্মদ জানান, এ কেন্দ্র থেকে যে বর্জ্য ছাড়া হয়েছিল তা নগন্য। হয়তো কোনো দিকে ছিদ্র হয়ে বর্জ্যগুলো ছড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, কেন্দ্রটি বন্ধের ফলে শুধু হাটহাজারী নয়, বাংলাদেশের কোথাও এর প্রভাব পড়বে না। কারণ দেশে এখন চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই কেন্দ্র থেকে জরুরি প্রয়োজনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

x