হাটহাজারীতে বলী খেলা ও মেলা

শুক্রবার , ১২ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
96
হাটহাজারী থানার কুয়াইশ গ্রামের চুহুর খাঁন দীঘিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সনের চৈত্র মাসের শেষ দু’দিন ২৯ ও ৩০ তারিখ মেলা ও কুস্তি খেলা আয়োজন করে স্থানীয়রা।
কত বছর পূর্বে কারা কেন এ মেলা ও খেলার প্রচলন করেছিল তা কেউ সঠিকভাবে বলতে না পারলেও এ মেলার বয়স প্রায় একশ’ বছর হবে বলে দাবি করেন স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ ও গ্রামবাসী।
লোকমুখে যতদুর জানা যায়, প্রথমে মেলা শুরু হয় কুয়াইশ বাইন্ন্যা পাড়ার গোয়াল্যার ঘাটা নামক স্থানে।
পরে স্থানীয়দের আগ্রহে এটা কুয়াইশ বুড়িশ্চর সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে চলে আসে।
স্থানীয় চুহুর খাঁন, আব্দুর রশীদ টেন্ডল, তজু মিয়া সহ বিত্তশালীদের পৃষ্ঠপোষকতা পায় এই মেলা।
কালের পরিবর্তনে জৌলুস হারালেও এখনো গ্রামীণ এই মেলা হাটহাজারীর বড় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
জানা যায়, গরুর লড়াই, কুস্তি খেলাসহ লোকজ আয়োজন হলো এ মেলার মূল আকর্ষণ।
কালের বিবর্তনে এখনো টিকে আছে কুস্তি খেলাটি ‘বলি খেলা’ নামে।
মূলত অত্র এলাকা সহ চট্টগ্রামের নানান অঞ্চলের যুবকরা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে আসতো এই খেলায় যা শত বছরের ধারাবাহিকতায় এখনো চলছে। গ্রামীণ এই মেলায় সারা বছরের পারিবারিক ব্যবহারের সামগ্রী সংগ্রহ করে স্থানীয় গৃহস্থিরা। মেলায় বিভিন্ন পিঠাপুলি, মিষ্টি, মুখরোচক খাবারসহ বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন মজাদার খাবারের পসরাও বসে।
এছাড়া শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র, মেয়েদের প্রসাধনীর পসরাও সাজিয়ে বসে দোকানীরা। বেচাকেনাও চলে বেশ।
মেলার একটা বড় অংশজুড়ে বসে বাঙ্গি-তরমুজের দোকান যা এই মেলা থেকে নতুন আত্মীয়দের উপহার হিসাবে পাঠায় স্থানীয়রা।
এ উৎসবকে ঘিরে গ্রামবাসীর ঘরে ঘরে চলে নানা আয়োজন। প্রতি বাড়িতেই দূর-দূরান্তের আত্মীয়রা ছুটে আসে।
স্থানীয় বিবাহিত মেয়েরা বাবার বাড়িতে নাইয়র বা বেড়াতে আসে এ মেলা উপলক্ষে। মেলায় গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভিড় জমায়।
শহরের অদূরে এ মেলার আয়োজন করা হলেও কোনোরকম প্রচারণা চালানো ছাড়াই উপচে পড়া ভিড় থাকে মেলায়।
এবার মেলার প্রথম দিনে বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় চল্লিশ জন বলী অংশগ্রহণ করেন। খেলায় চ্যাম্পিয়ন হন মহেশখালীর হোসেন বলী, রানার্স আপ হন বজল বলী।
ইমাম হোসেন মেম্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইউনুস গণি চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুয়াইশ কলেজের অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন বেলাল, মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল করিম, সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান মনির, জাবেদ হাসান, মোহাম্মদ জাবেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ মনছুর হোসেন।
x