হাটহাজারীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

হালদার ভাঙন

হাটহাজারী প্রতিনিধি

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ
235

হালদার ভাঙনের ফলে হাটহাজারীতে গতকাল মঙ্গলবার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাজীপাড়া ও মাইজপাড়া এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের স্রোতে নদীর এ দুই জায়গায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়। গত রোববার সকাল থেকে সোমবার ভোর রাত পর্যন্ত বর্ষণ অব্যাহত ছিল। আবার সোমবার বিকাল থেকে পুণরায় ভারী বর্ষণ শুরু হলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে উপজেলা আওতাধীন ন্নিাঞ্চলের সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাছাড়া চট্টগ্রামনাজিরহাটখাগড়াছড়ি মহাসড়কের এনায়েতপুর ও মুন্সিরমসজিদ ও বড়দীঘি পাড়া এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। অপরদিকে হাটহাজারীরাউজন মহাড়কের সুবেদার পুকুরপাড় ও পশ্চিম পাশ এবং ইছাপুর এলাকা ও বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

এসময় ইছাপুর ফয়েজিয়া বাজারের দোকানপাট এবং সুবেদার পুকুর পাড় এলাকার দোকানপাটে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। নাজিরহাট মহাসড়কের ভাঙ্গাপুল এলাকার দোকানপাটে ও বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। মিরেরহাট সংলগ্ন মুন্দরীছরার তিন স্থানের বেড়ি বাঁধ ভেঙে গিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি লোকলয়ে ঢুকে পড়ে। গতকাল সকালের দিকে হাটহাজারী বাজারের কাচারী সড়ক, কলেজ গেইট এলাকা এবং থানা সংলগ্ন এলাকার মহাসড়ক অথৈই পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন ব্যবসায়ী দোকানদারেরা হতাশ হয়ে পড়ে। থানা সংলগ্ন মরাছরা খালে অপরিকল্পিত ভাবে বক্স কালভার্ট নির্মাণের কারণে উপজেলা সদর পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ার কারণ বলে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন।

হাটহাজারীনাজিরহাট মহাসড়ক ও হাটহাজারীরাউজান মহাসড়কের একাধিক স্থান পানি নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এসময় মহাসড়কের উল্লেখিত স্থানে দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হয়। নিমজ্জিত এলাকার সড়ক পাড় হতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উপজেলা আওতাধীন ১৪ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার প্রায় প্রত্যক এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুসারে প্রবল বর্ষণের কারণে ৩০ হেক্টর মৌসুমী তরিতরকারির ক্ষেত পানি নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল আলম জানান, প্রাথমিক ভাবে ২ শ টি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। তাছাড়া ১ হাজারটি পুকুর বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান জানান, প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের তোড়ে প্রত্যেক ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক গুলোর অবস্থা জেনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা আলম জানান, উপজেলার নিম্ন এলাকার বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকে গেছে। তিনি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্তদের মেসেস দিয়ে এব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নিদের্শনা প্রদান করেছেন।

বন্যার পরিস্থিতি দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী বিকালে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বান করেছেন। নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী। সভায় বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার জন্য সিন্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

x