হাটহাজারীতে নজরুল ও আলম পরিবার

মোহাম্মদ বেলাল হোসেন

শুক্রবার , ৩০ আগস্ট, ২০১৯ at ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
151

বাঙালির চিন্তা-চেতনায়, সংকটে-সংগ্রামে, বিপ্লবে-বিদ্রোহে মিশে আছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবি নজরুল তাঁর জীবদ্দশায় এসেছিলেন প্রাচ্যের রাণী চট্টগ্রামে। পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও দিগন্ত প্রসারিত বেলাভূমিবেষ্টিত চট্টগ্রামের অনুপম সৌন্দর্য কবি-মনকে মন্ত্রমুগ্ধ করে। কবি নজরুল চট্টগ্রামে এসেছিলেন তিন বার এবং মোট ৪৭ দিন অবস্থান করেন, যা নজরুল জীবনের এক উজ্জ্বলতম অধ্যায়। তিনি প্রথমবার এসেছিলেন ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে। এরপর ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয়বার ও ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তৃতীয়বার চট্টগ্রামে আসেন। তিনি প্রথমবার আসেন রাজনৈতিক কাজে। ১৯২৯ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয়বার আসেন ভিক্টোরিয়া ইসলামী হোস্টেল ও মুসলিম শিক্ষা সমিতির (মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির) ত্রিশতম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। তৃতীয়বার আসেন চট্টগ্রামের রাউজানে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলা সাহিত্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে।
কবি নজরুল রচিত সিন্ধু, বাংলার আজিজ, কর্ণফুলী, বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি প্রভৃতি কবিতা এবং সিন্ধু-হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গপত্র তাঁর চট্টগ্রাম সফরের স্মৃতি বহন করে। গীতি নাট্য মধুমালা তাঁর চট্টগ্রাম সফরের অনন্য কীর্তি। কবি নজরুল দ্বিতীয়বার চট্টগ্রামে এসে অবস্থান করেছিলেন বর্তমান রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাশে তামাকুমন্ডি লেনে অবস্থিত আজিজ মঞ্জিলে। এটি ছিল তাঁর অনুজপ্রতিম সুহৃদ কবি হাবিবুল্লাহ বাহারের বাড়ি। বাড়ির মালিক ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল ইন্সপেক্টর শিক্ষাবিদ আব্দুল আজিজ। হাবিবুল্লাহ বাহার ছিলেন আবদুল আজিজের নাতি। কবি নজরুল ‘বাংলার আজিজ’ নামের একটি কবিতা লিখেছিলেন খান বাহাদুর আবদুল আজিজ স্মরণে, এটি মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির দেয়ালে আজও সংরক্ষিত আছে।
নজরুলের দ্বিতীয়বার চট্টগ্রাম সফরের বিশেষ দিক হচ্ছে ১৯২৯ সালের ২৫ জানুয়ারি হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ গ্রামের বিখ্যাত আলম পরিবারে আগমন ও রাত যাপন। পরদিন আলম পরিবারের পক্ষ থেকে কবিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আলম পরিবারের সদস্য কবি দিদারুল আলম ছিলেন নজরুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নজরুলের হাটহাজারী আসার প্রধান কারণও ছিল দিদারুল আলম। এ প্রসঙ্গে আবুল ফজল লিখেছেন, ‘দিদারুল আলম কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে মাসিক যুগের আলো ও সাপ্তাহিক সম্মিলনী সম্পাদনা করে বাংলা ও বাংলাদেশে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন। মাসিক ও সাপ্তাহিক সওগাতে তাঁর বহু লেখা ছাপা হয়েছে। সেসব লেখায় তাঁর শক্তি ও প্রতিভার পরিচয় পেয়ে স্বয়ং কবি নজরুল মুগ্ধ হন। দিদারুলের আমন্ত্রণে নজরুল একবার তাঁদের বাড়ি গিয়ে কয়েকদিন কাটিয়েও ছিলেন’ [রেখাচিত্র-আবুল ফজল]
ফতেয়াবাদে বিখ্যাত আলম পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভি নসিহউদ্দিন। তাঁর চার পুত্র। বড় ছেলে শামসুল আলম তীক্ষ্ণ প্রতিভাধর ছিলেন। কিন্তু রেঙ্গুনে বর্মি-বাঙালি দাঙ্গায় ১৯৩৮ সালে তিনি নিহত হন। তিনি আলম পরিবারে আধুনিক চিন্তা ও সাহিত্য মানসিকতার প্রকাশ ঘটান। এরপরের জন মাহবুব-উল-আলম একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক। যাঁর সাথে নজরুলের মিল হলো যে দুজনই ৪৯ বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে সাক্ষাত না হলেও মাহবুব-উল-আলম নজরুল সম্পর্কে তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেন। তিনি যুদ্ধরত অবস্থায় তাঁর সতীর্থ মনোরঞ্জন দাসের কাছে প্রথম শোনেন যে হাবিলদার কাজী নামে একজন কবি ও গায়ক আকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গান গাইছেন। সামনে হারমোনিয়াম, চলছে গানের পর গান। খাচ্ছেন কাপের পর কাপ চা, খিলির পর খিলি পান। তিনি বলেন, ‘শারীরিকভাবে না হলেও নজরুল মানসচক্ষে তাঁকে ঘুরে বেরিয়েছেন শাতিল আরবের যুদ্ধ ক্ষেত্রে, তুর্কির রণক্ষেত্রে, আনোয়ার পাশা ও কামাল পাশার সাথে ভার্দুন টেঞ্চে মিত্র বাহিনীর সাথে। [রঙ বেরঙ-মাহবুব উল আলম]
যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল, মাহবুব উল আলমের সাথে নজরুলের পরিচয় হলো না। কিন্তু মাহবুবের সাত বছরের ছোট ভাই দিদারুল আলম তখন কবি-সাহিত্যিক হিসেবে খুব নাম করেছেন-মেজাজে ছিলেন চূড়ান্ত বিদ্রোহী। চট্টগ্রাম সরকারি-মাদ্রাসায় পড়ার সময় কবি আবুল ফজলও হয়ে ওঠেন তাঁর কাছের বন্ধু। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিতে দুজনই স্কুল ছাড়লেও আবুল ফজল ফিরে আসেন পিতার পিটুনি খেয়ে, কিন্তু কবি দিদারুল আর ফিরলেন না। অষ্টম শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষায় দিদার প্রথম স্থান অধিকার করলেও এবং তাঁর শ্রদ্ধাভাজন প্রধান শিক্ষক শামসুল ওলামা কামাল উদ্দিন সাহেবের অনুরোধও স্কুলে ফেরার ব্যাপারে তাঁর মন গলাতে পারেনি, সেটা ১৯২১ সাল। ভাইয়ের মন স্থির করতে মাহবুব-উল-আলম দিদারুলকে যুগের আলো নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা বের করে তার সম্পাদক করে দেন ১৯২৩ সালে।
পত্রিকাটি প্রথমে ত্রৈমাসিক ছিল, ছাপা হতো হাজারী লেনের হার্ডিঞ্জ প্রেস থেকে। লিখতেন বঙ্গচন্দ্রনাথ কাব্যবিনোদ, সৈয়দা মোতাহেরা বানু, এম ফাতেমা খানম, সৈয়দ উদ্দিন, আব্দুল কাদির, আব্দুল হক ফরিদী, কাজী নজরুল ইসলাম, মাহবুব উল আলম, জসীম উদ্দিন প্রমুখ। পত্রিকাটি কিছুদিন পরে মাসিকে রূপান্তরিত হয়।
ইতিমধ্যে কাজী নজরুলের সাথে দিদারুল আলমের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাহবুব উল আলম লিখেছেন, নজরুল তাঁর প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল হয়ে ওঠেন এবং ওই পরিবেশে আব্দুল কাদির, খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন, তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম এবং অপরাপরদের সাথে তিনি অন্তরঙ্গভাবে পরিচিত হন।
১৯২৯ সালের শুরুতে কবি হাবীবুল্লাহ বাহারের নানার বাড়ি ‘আজিজ মঞ্জিলে’ অবস্থানের সময় একদিন সকালে একটি ট্যাক্সি এনে দিদারুল ও আবুল ফজল নজরুলকে বলেন, চলেন একটু গ্রামের দিকে ঘুরে আসি। নজরুল তো সতত উড্ডীয়মান। নজরুলকে মাঝখানে বসিয়ে দিদারুল ও আবুল ফজল দুপাশে বসে ফতেয়াবাদ আলম পরিবারের বাড়িতে পৌঁছালেন। তখন ফতেয়াবাদ গ্রামের বৈশিষ্ট্য ছিল চারদিকে সুপারি গাছের সমারোহ। এরকম ঘন সুপারিবন সাধারণত দেখা যায় না। বাড়ির মাঝখানে উঠোন, বাড়িসংলগ্ন পুকুর আর সামনে ছোট বাংলো টাইপের ঘর। নজরুলকে আলম পরিবারে স্বাগত জানান মাহবুব উল আলম। তখন তিনি বাঁশখালীর কার্যক্ষেত্র থেকে এসে বাড়িতে বাস করছিলেন। বাড়ির পুকুর থেকে মাছ ধরে রান্নার আয়োজন করা হয়। দুপুরে মাটিতে মাদুর বিছিয়ে খেতে বসলেন মাহবুব, দিদারুল, আবুল ফজল ও নজরুল ইসলাম। ভাত দিচ্ছিলেন দিদারুলের মা। নজরুল খুব রসিকতা করতে পছন্দ করতেন। খেতে বসে নজরুল রসিকতা করে বললেন, ‘আমরা কিন্তু পঞ্চ পাণ্ডব খেতে বসেছি।’ এ বলে তিনি বাড়ির বিড়ালটার দিকে ইঙ্গিত করলেন, যে এতক্ষণ ম্যাও ম্যাও করে মাছের কাঁটা আশা করছিল। খেতে বসে তাদের মধ্যে কথোপকথন হচ্ছিল। তখন ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারি ছিলেন স্যার গ্রিন উড হ্যামার। তাঁর কথা উঠতে নজরুল বলেন, ‘কাঁচা কাঠের হাতুড়ি মশাই’। সওগাত সম্পাদক নাসির উদ্দিনের কথা উঠলে নজরুল বললেন ‘কবন্ধ উড্ডীন’ (দেখার নজরুল, রঙ বেরঙ-মাহবুব উল আলম)
রাতে কবির শোয়ার ব্যবস্থা হলো সেই দেউড়ি ঘরেই। ছোট বাঁশের ঘর, সঙ্গে মাহবুব উল আলম, দিদারুল ও আবুল ফজল। সেদিন অপূর্ব জোৎস্না ছিল। মাহবুব উল আলম লিখেছেন ‘জ্যেৎস্না রাত্রে সুপারি বাগানে এক আশ্চর্য দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিটি সুপারি গাছে লেপ্টে থাকা রূপার প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড সাপ। সুপারি গাছ যখন ধীরে ধীরে মাথা দোলায় এই প্রকাণ্ড সাপগুলো যেন সজীব হয়ে খেলা করতে থাকে।
রাত্রে খিড়কি খুলে নজরুল এই খেলা দেখতে পান এবং একেবারে তন্ময় হয়ে যান। অস্ফুটে শুধু উচ্চারণ করতে থাকেন “আ-হা-হা, কী দেখলাম”’। মাহবুব উল আলম ও কবি ওহীদুল আলমের ধারণা, কবি তাঁর বিখ্যাত পাঠক সমাদৃত কবিতা ‘বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি’র রসদ এখান থেকেই পান।
আলম পরিবারের পক্ষ থেকে কবিকে ২৬ জানুয়ারি যে সংবর্ধনা দেওয়া হয় তার অভিনন্দনপত্র লিখেছিলেন দিদারুল আলম। সেটি কবি ওহীদুল আলমের লেখা ‘কবি দিদারুল আলম’ গ্রন্থ থেকে তুলে দেওয়া হলো :
কবি নজরুল ইসলাম করকমলেষু
হে সৈনিক কবি
তোমার অগ্নিবীণায় যে দিন বিদ্রোহের সুর ঝংকার দিয়ে উঠেছিল সে দিন এই সুদূরে আমরা ক’টি ভাই তোমায় আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে বরণ করেছিলাম। সেদিন তোমার বহ্নিক্রীড়ার মধ্যে তোমায় আমরা চিনেছিলাম। আজ তোমার বুলবুলের গানেও আমরা তোমায় চিনেছি, তুমি আমাদের অতি কাছের চেনা। আমাদের চির চপল সহযাত্রী অভিনন্দন জানাবো না বন্ধু তোমায় বুকে ধরে অন্তরের গোপন কথাটি শুনিয়ে যাবো।
হে ব্যথার কবি,
মানব মনের শাশ্বত বেদনা তোমার নিপুণ তুলিকায় যে অনুপম রূপ পেয়েছে, বাঙলা সাহিত্যে এর তুলনা নাই। ব্যথা-বিষে যে বিষ নীলকণ্ঠে কবি তুমি ব্যথার উদ্বোধন করতে যেয়ে তোমাকে যে বিষ গলাধকরণ করতে হয়েছে তাই ললাটে জয়টিকা হয়ে ফুটে উঠেছে। ভয় নেই বন্ধু, বাঙলায় তুমি যে তরুণ দলের সৃষ্টি করেছ তাদের ললাটে তোমার জয়টিকার জ্যোতিতে ভাস্বর হয়ে উঠেছে।
হে সর্বহারা কবি
মানুষের বেদনার আহ্বানে তুমি ঘর ছাড়া হয়ে বেড়িয়ে এসেছো, তোমার সর্বহারার গানে যে তীব্র বিষের ফনা উপচে উঠেছে, সে বিষ আমাদেরই অন্তর-ছেঁচা ধন বন্ধু। তোমার অনুপম ভঙ্গিতে তাকে তুমি আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছ নতুনরূপে, নতুন ছন্দে, নতুন গানে। শ্মশান আমাদের জন্মভূমি, তেমনি আমাদের জাতি, ভীরু আমাদের সমাজ। তাদের সেই শক্তি নেই। সেই মন নেই যে, তোমার সর্বহারাকে তার উপযুক্ত সম্মান দেয়। কিন্তু যে দেশে মানবতার জয়, সে দেশে স্বাধীনতার জয়, সে দেশ তোমার সর্বহারাকে বুঝেছে। তাকে উচ্চ স্থান দিয়েছে। আজ বিজয় গর্বে আমাদের বুক ফুলে উঠেছে।
হে প্রেমিক কবি
তোমার প্রেম জীবম্মৃত বাঙালির পরতে পরতে যে শিহরণ তুলে দিয়েছে তার উপর ভিত্তি করেই এ জাতির উন্নয়নের বুনিয়াদ গড়ে উঠেছে। তোমার প্রেম বাঙলা সাহিত্যকে জগতের সম্মুখে মহীয়ান করে তুলেছে। জানি বন্ধু জানি, যে প্রেম তোমার সর্বহারাদের জন্য, আঁখির জন্য ঝরায়-এতো যে সে প্রেম নয়। এ প্রেমের অবমাননা করলে তুমি স্রষ্টা ভগবানের বুকেও পদচিহ্ন এঁকে দিতে পশ্চাদ পা নও। যে প্রেমের আহ্বানে তুমি নরক কবুল করতেও দ্বিধা করোনা; তারি আকর্ষণে নভোস্থান দিয়ে ছুটে এই উল্কা, ফোটে ফুল, বহে নদী। বন্ধু অতৃপ্ত তোমার পিয়াসা, তৃপ্তির অবসাদে যেন অভিশপ্ত না হয়।
হে প্রাণের কবি
সোনার কাঠি রূপার কাঠি ছুঁইয়ে ঐ ঘুমন্ত পুরীকে তুমি প্রাণ দিয়েছ। অসত্যের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে তোমার যে অভিযান, তা সার্থক হোক, সুন্দর হোক, সফল হোক।
ইতি
চির তোমারই আলম পরিবার
ফতেয়াবাদ
২৬ শে জানুয়ারি, ১৯২৯ ইং।

যার কারণে বাংলার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম হাটহাজারীতে আসেন সেই দিদারুল আলম ১৯২৯ সালে ২৮ ডিসেম্বর যক্ষ্মারোগে ভুগে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৩৩ সালের রাউজানে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে এলে নজরুল ফতেয়াবাদ রাস্তার পাশে যেখানে দিদারুল আলমকে কবর দেওয়া হয়, সেখানে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে কবর জিয়ারত করেন। সাহিত্য অধিবেশনে নজরুল বলেন, ‘আমি দিদার সম্পর্কে কিছু বলবো না, সে ভাষা আমার নেই, কারণ অল্পশোকে কাতর অধিক শোকে পাথর। দিদারের শোকে আমি পাথর হয়ে আছি।’ এই বক্তব্যে দিদারুলের প্রতি নজরুলের প্রবল ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।
কাজী নজরুল ইসলামের হাটহাজারীর আলম পরিবারের বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণের স্মৃতি রক্ষার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন বাড়ির মূল ফটকের সামনে একটি ফলক তৈরি করে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪০৭)। এতে লেখা আছে, ‘নজরুল স্মৃতিধন্য চট্টগ্রাম’। আর গায়ে লেখা আছে ‘কবির সাথে আলম ভ্রাতৃত্রয়ের ছিল আত্মিক সম্পর্ক।’
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল বাংলার যেখানে গিয়েছেন সে স্থানটিকে তিনি তাঁর লেখনী দিয়ে ধন্য করেছেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ক্ষেত্রেও তাঁর ব্যতিক্রম ঘটেনি। তাঁর স্মৃতিধন্য প্রতিটি স্থানে নতুন প্রজন্ম এখনও নজরুলকে নতুন করে আবিষ্কার করে। এ মাটিতে এসে তিনি আমাদের ইতিহাসের অংশ করেই রাখলেন।
তথ্য সূত্র :
১. হাজার বছরের চট্টগ্রাম, দৈনিক আজাদী প্রকাশিত।
২. মোহীত উল আলম-কবি নজরুল ও আমাদের পরিবার, প্রথম আলো, শিল্প ও সাহিত্য, ৫ মে ২০১০।
৩. রেখাচিত্র-আবুল ফজল।
৪. হাটহাজারীর ইতিহাস, আবুল হাসেম মাস্টার, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, হাটহাজারীর ইতিহাস গ্রন্থ প্রকাশ প্রকল্প, চট্টগ্রাম।

x