হাটহাজারীতে ঈদ বাজার

ক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর

কেশব কুমার বড়ুয়া : হাটহাজারী

সোমবার , ১১ জুন, ২০১৮ at ৩:৫২ অপরাহ্ণ
39

মাসব্যাপী পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনার পর সামনে আসছে আনন্দের ঈদ। প্রতিবছর ন্যায় এবার ও ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠছে সকলে প্রস্তুতি গ্রহন করছে। প্রস্তুতির অংশ হিসাবে বাড়ি ঘর ধোয়া মোছা ও সাজ সজ্জার কাজ চলছে প্রতিটি এলাকায়। ঘর বাড়ি সাজানোর সাথে সাথে ঈদেও দিন নতুন পরিধেয় ও গহনাগাটি পরে বেড়ানোর ঐতিহ্য সে দীর্ঘ দিনের। ঈদের দিন বাড়িতে আগত অতিথিদের আপ্যয়নের জন্য আধুনিক ডিজাইনের কোকারিসের প্রয়োজনীয়তা অপরিহায্য। তাইতো গত বছরের এনালক ডিজাইনের পন্য সামগ্রী ও কাপড় ছোপড় বাদ দিয়ে বর্র্তমান সময়ের উপযোগী আধুনিক ডিজাইনের জিনিসপত্র ক্রয় করতে সকলে মেতে উঠেছে। কি বিত্তশালী কি বিত্তহীন সবাই ছুটছে মার্কেটে। এজন্য হাটহাজারীর বিভিন্ন হাটবাজারের শপিং সেন্টারে ঈদের বেচা বিক্রি জমজমাট হয়ে উঠেছে। উপজেলার আওতাধীন বড় বড় হাটবাজারে ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভীড় ততই বাড়ছে। দোকানীরা ও ক্রেতাদের ভীড় সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে। বেচা বিক্রি বেশী হওয়ায় দোকানের কর্মচারীর সংখ্যা ও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে করে এলাকার বেকারদের সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি বেচা বিক্রি চলছে। উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে যারা বিত্তশালী তারা ঈদ উপলক্ষে জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকায় বিশেষ করে পরিধেয় কাপড় ছোপড়ের দাম বেশী হবে বলে রমজান শুরুর পূর্বেই পছন্দসই পন্য ক্রয় করে ফেলেছে। অবশ্য রমজানে নতুন ডিজাইনের পন্য ফেলে আবার ও তারা ক্রয় করবে। রমজান শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা বাড়ীতে ঈদের বাজার করার জন্য অর্থ পাঠায়। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসীদের পাঠানো টাকা বাড়ীতে এসে পৌছেছে। টাকা পেয়ে প্রবাসীর পরিবার পছন্দ সই মালামাল ক্রয় করতে বাজারে এসে ভীড় করছে। কিংবা অনেক প্রবাসী ইতিমধ্যে ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়িতে চলে এসেছে।

এদিকে বিভিন্ন হাটবাজারে দোকান ও মার্কেট গুলো ক্রেতা আর্কষণের জন্য মনোরম সাজে সজ্জিত করেছেন। স্থান বিশেষে আর্কষনীয় আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পৌরসভার বড়বড় মাকের্টের গলিতে গরম প্রতিরোধের জন্য বৈদ্যূতিক পাখা স্থাপন করেছেন। যাতে করে মার্কেটে আগত ক্রেতারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারে। এবারের রমজান উপলক্ষে হাটহাজারী কাচারী সড়কে সুপার সিটি নামে সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত একটি আধুনিক মার্কেট চালু করা হয়েছে। পৌরসভা সদরের এ মার্র্কেটসহ দুইটি মার্র্কেট সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। নতুন চালু করা এ মার্কেটে ক্রেতা সমাগম ও বেশী বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাটহাজারী পৌরসভায় জেলা পরিষদ মার্কেট,সত্তার শপিং সেন্টার,তৈয়বানুর কমপ্লেক্স,হাটহাজারী পাব্বর্তী উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেট,এন জহুর শপিং সেন্টার,আমির এরশাদ প্লাজা,সিটি সেন্টার,গণি মার্কেট দিদার মার্কেট,হক প্লাজা,চেয়ারম্যান প্লাজা,সোলায়মান মার্কেট,ফেন্সি সুপার মার্কেট,চৌধুরী মার্কেট একে প্লাজা,বাসস্টেশন সিদ্দিক মার্কেট ও জেএমজি শপিং কমপ্লেক্স প্রভৃতি মার্কেটে বেচাকেনা জমজমাট ভাবে চলছে। নাগরিক সুবিধার কারণে হাটহাজারী পৌরসভার এলাকায় সহস্রাধিক বহুতল ভবনে অসংখ্য পরিবার বসবাস করে। এসব ভাড়া বাসায় মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী,কর্মজীবি,পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন ও রাউজান, ফটিকছড়ি এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অসংখ্য লোকজন পরিবার নিয়ে বসবাস করে। তাছাড়া ফতেপুর ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারীরা হাটহাজারী পৌরসভার উল্লেখিত মার্কেট থেকে সওদা করে থাকে। এজন্য প্রতিনিয়ত ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বেচাকেনার পরিমান ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা সদরের এসব দোকানের মনোহারী দোকান, কোকারিজের দোকান, টেইলারিং শপ, বেডিং ও ফোম শপ, মুদির দোকান ,জুতার দোকান ছাড়াও নিত্য নতুন জামা কাপড় ও পরিধেয় কাপাড়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে দোকানী ও মার্কেটের প্রহরীদের গলদ ঘর্ম হচ্ছে। তাছাড়া মার্কেটিং করতে আসা যানবাহনের কারণে সড়কে যানযট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ঈদ উপলক্ষে বাজার করতে আসা মো: আজম, রুজিনা বেগম ও মো: মঞ্জু জানান, বিভিন্ন দোকানে পছন্দসই মালামাল পাওয়া গেলেও দাম অত্যন্ত চড়া। এতে বিত্তশালীদের অসুবিধা না হলেও মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রদের সীমাহীন সমস্যা হচ্ছে। উল্লেখিত অত্যাধুনিক শপিং সেন্টারে এক হাজার থেকে লক্ষ টাকা দামের শাড়ীও পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া ছেলে মেয়েদের নানা কিসিমের জামা কাপাড় রয়েছে। ৩ শ থেকে ১৫/২০ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবী ও পাওয়া যাচ্ছে। মার্কেট সমূহে বিদেশী হরেক রকমের কসমেটিক ও ইমিটেশন জুয়েলারী এর সমাহার রয়েছে। হাটহাজারী বাজারে কাচারী সড়ক ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি মাইক দিয়ে ক্রেতা আর্কষণের জন্য সারাক্ষণ প্রচার চালাছে। মাইকে প্রচারের কারণে ক্রেতা সাধারণ কোন দোকানে, কোন মার্কেটে, কোন জিনিস পাওয়া যাচ্ছে তা সহজে বুঝতে পারছে। ফলে ক্রেতারা সহজেই নিধারিত মার্কেট ও দোকানে গিয়ে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। অবশ্য সারাক্ষণ মাইক বাজানোর কারণে শব্দ দূষণের অভিযোগ এনেছেন অনেকে। হাটহাজারী বাজার ছাড়াও উপজেলার আওতাধীন নাজিরহাট, কাটিরহাট,সরকারহাট, মদনহাট, চৌধুরীহাট, আমান বাজার, মদুনাঘাট, নজুমিয়াহাট, ইছাপুর ফয়েজিয়া বাজারে দেদারছে বেচা বিক্রি চলছে। সরকারহাট গণি শপিং সেন্টারে ঈদ বিক্রি উৎসবের আয়োজন করেছে। হাটহাজারী কাচারী সড়কে বৃষ্টি কিংবা রোদের কারণে বেচা বিক্রি যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য রাস্তায় ত্রিপাল দিয়ে ছাউনি করে দেওয়া হয়েছে। মদুনাঘাট এলাকায় মাবিয়া শপিং সেন্টার মনোরম সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। উপজেলার আওতাধীন ছোটবড় বিভিন্ন হাট বাজারে ফুটপাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও জমে উঠেছে। এদিকে ফেরিওয়ালারা তৈষজপত্র, কোকারিজ, কাপড় চোপড়, প্রসাধনী সামগ্রী, শাড়ী লুঙ্গি, জুতা সেন্ডেল ঘর সাজানোর নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পল্লী গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে নানা জিনিস ফেরি করছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফেরিওয়ালারা যেমন আয় উর্পাজন করছে তেমনি হাতের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে গৃহস্থরা সহজে পন্যাদি ক্রয় করতে পারছে।

থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, হাটহাজারী বিভিন্ন হাটবাজারে ঈদের বাজার জমে উঠেছে। ঈদবাজারে যাতে কোন ধরণে বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য আইন শৃংঙ্খলাবাহিনী সজাগ রয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান।

x