হাটহাজারীতে ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভিত্তি স্থাপন আজ

বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণের উদ্যোগ

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ
93

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের হাটহাজারী রেঞ্জের হাটহাজারী উপজেলার মন্দাকিনি বিটে ‘হাটহাজারী ইকোপার্ক এন্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে চেক বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি। এউপলক্ষে আজ শনিবার বিকাল ৪ টায় ছোট কাঞ্চনপুর সরকারী প্রাইমারী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে হাজারীখিল ও হাসনাবাদ রেঞ্জের সামাজিক বনায়নের ৭৪ জন উপকারভোগীকে প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকার লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হবে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের উদ্যোগে হাটহাজারী রেঞ্জের ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ছোট কাঞ্চনপুর মৌজায় বন বিভাগের প্রায় ৩৪০ একর ভূমিতে ইকোট্যুরিজম উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিরল, বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণে হাটহাজারী ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাষ্ট ফান্ডের অর্থায়নে এ পার্ক স্থাপন করা হবে। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮২০ আর্থিকসালে ২ বছর মেয়াদে ‘হাটহাজারী ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প এলাকাটি একসময় প্রাকৃতিক বনে পরিপূর্ণ ছিল। অধিক জনসংখ্যার চাপ ও নানা কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো দেশীয় বিরল, বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বৃক্ষ উদ্ভিদের উদ্যান সৃষ্টির অনুকূল ভুপ্রকৃতি বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার নূর সিদ্দিকী জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ শত প্রজাতির ৫০ হাজার বিরল, দুষ্প্রাপ্য ও বিলুপ্তপ্রায় চারা, নানা ঔষধি, বুনোফল, পাম, বাঁশ, বেত, অরনামেন্টাল, ক্লাইম্বার ইত্যাদি চারা সংগ্রহ ও রোপন করে বিচিত্র উদ্ভিদ প্রজাতির একটি ভান্ডার গড়ে তোলা হবে। ফলে উক্ত এলাকায় ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপনের মাধ্যমে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পূনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের জিনের উৎস সংরক্ষণ ও ইকোট্যুরিজম উন্নয়নসহ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্পের অর্থায়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের মাধ্যমে যৌথভাবে একটি পরিকল্পিত উদ্ভিদ উদ্যান, ইকোট্যুরিজম ও চিত্তবিনোদনের সুযোগসুবিধা সৃষ্টি করা হবে। এ ধরণের পরিবেশ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একইসাথে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। প্রকল্পে পার্কের মাস্টারপ্ল্যান প্রনয়ণ, সিলড্রেন’স কর্ণার স্থাপন, বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপন, পিকনিক স্পট নির্মাণ, প্রকৃতিবান্ধব আরসিসি বেঞ্চ নির্মাণ, পার্ক অফিসকামইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার নির্মাণ, ফুট ট্র্রেইল বা পায়ে চলার পথ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, রেস্ট হাউজ নির্মাণ, গেট নির্মাণ, দুপাশের দেয়ালে টেরাকোটার কাজ, স্ট্র্রীট লাইট স্থাপন, এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ, পার্কিং এলাকা নির্র্মাণ, পানি ও বৈদ্যুতিক স্থাপনা বৈদ্যুতিক অবকাঠামো, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় হারগজা, বট, ডুমুর, ছাতিয়ান, গর্জন, বৈলাম, সিভিট, ধারমারা, পলাশ, গোদা, আরশল, পিটালী, ভাদি, চাপালিশ, তেলসুর, সোনালু, বান্দরহোলা, শেওড়া, কনক, ইত্যাদি বিরল ও বিপন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি, অর্জুন, নিম, উলটকম্বল, আমলকি, হরিতকি, বহেরা, কালমেঘ, আকন্দ, কুরুজ ইত্যাদি ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষ, গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, ঔষধি প্রজাতি, ডেউয়া, কাউ, উড়ি আম, আমলকি, বহেড়া, পাইন্যামালা, পুঁতিজাম, কালো জাম, বর্তা, মুচ, চালতা, জামরুল, কামরাঙ্গা, লটকন ইত্যাদি দেশীয় ও বুনোফল প্রজাতির বুনোফল এবং তাল, নারিকেল, খেজুর, সুপারি, ইত্যাদি বিবিধ পাম প্রজাতি, ওরা, ভুদুম, বারিয়ালা, মিতিঙ্গা, ডলু, কালি, মুলি, লাঠি, মিতা, রুপাই, পেঁচা, নলি, বরাক ইত্যাদি প্রায় ৩৩ প্রজাতির বুনো ও গ্রামীন বাঁশ এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও বংশ বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকাটি দেশের ২য় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রাম হতে মাত্র ৩৫ কিমি দুরে। এটি চট্টগ্রামনাজিরহাট সড়কের পশ্চিম পাশে আনুমানিক ২ কিমি দুরত্বে অবস্থিত এবং এতে গমনাগমনের জন্য বর্তমানে একাধিক এলজিইডির নিয়ন্ত্রনাধীন পাকা ও এইচবিবি রাস্তা বিদ্যমান। চট্টগ্রামনাজিরহাট সড়ক হতে এনায়েতপুরছোট কাঞ্চনপুর হয়ে ইকোপার্ক পর্যন্ত রাস্তার মোট দুরত্ব প্রায় ২.৭০ কিমি, খন্ডলের ঘাটামোহাম্মদাবাদ হয়ে ইকোপার্ক পর্যন্ত রাস্তার দুরত্ব প্রায় ২.৮০ কিমি এবং কাটিরহাটবসির হাট রাস্তা হয়ে মোহছেনাপাড়া সংলগ্ন প্রস্তাবিত ইকোপার্ক পর্যন্ত দুরত্ব প্রায় ৪ কিমি। প্রণীত মহাপরিকল্পনার আলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপনের লক্ষ্যে এ প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় নূতন একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের সম্প্রসারণসহ আকর্ষণীয় ইকোট্যুরিজম সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য, ইকোট্যুরিজম সুযোগসুবিধাসমুহ হলো, লেক সৃস্টি, লেকের উপর ওভারব্রীজ, ওয়াটার ইভেন্ট, শিশুদের জন্য সুইমিং পুল, এক্যুয়ারিয়াম, সীমানা প্রাচীর, মিনি চিড়িয়াখানা, বার্ড এভিয়ারী ইত্যাদি স্থাপনের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

x