হাই কোর্টে ৯ জনের যাবজ্জীবন বহাল

মুক্তিযোদ্ধা সোবহান হত্যার ২৮ বছর

সবুর শুভ

বুধবার , ২১ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
271

২৮ বছর আগে রাঙ্গুনিয়ায় সংঘটিত মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সোবহান হত্যা মামলায় ৯ আসামির যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখল হাই কোর্ট। চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে আসামিদের করা জেল আপিল খারিজ করে চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারিক আদালতের যাবজ্জীবন সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সোবহানের ছেলে ডা. উকিল আহমেদ তালুকদার। সাজা বহাল থাকা ৯ আসামি হলেন আইয়ুব আলী, মোহাম্মদ এরশাদুর রহমান, শহীদুল ইসলাম খোকন, মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ বখতিয়ার, শামসুল ইসলাম ওরফে শামসু, আবুল হাসেম, নজরুল ইসলাম ওরফে নজু ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম। কারাগারে থাকা অবস্থায় দণ্ডিত এসব আসামি জেল আপিল করেন। পরে তারা হাই কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন। গতকালের আদেশে হাই কোর্ট তাদেরকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডা. উকিল।
১৯৯১ সালের ৩০ অক্টোবর স্থানীয় রানীরহাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সোনারগাঁও এলাকায় পৌঁছলে আইয়ুব বাহিনীর সদস্যরা আবদুস সোবহানকে অপহরণ করে স্থানীয় পাহাড়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। এ ঘটনায় বাদী হয়ে নিহতের ছেলে বখতিয়ার আহমেদ হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিহতের দুই ছেলে কবির আহমেদ ও সবুর আহমেদকে এসিড নিক্ষেপ করে এ মামলার আসামিরা। ১৯৯২ সালের ৩ মার্চ পুলিশের উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযুক্ত করা হয় ২১ জনকে। এরপর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে বিচারকাজ শুরু করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ এ এন এম বশির উল্লাহ ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় ২১ আসামির মধ্যে ১৭ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন মৃত। এছাড়া খালাস পান দুজন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ৯ আসামি জেল আপিল করেন হাই কোর্টে। পলাতক থাকায় বাকি আটজন আপিল করেননি।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মোহাম্মদ আশিক মোমিন ও মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মামুনুর রশিদ, মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন, আনিসুর রহমান ও মোহাম্মদ কাজী ইলিয়াস উর রহমান।
মুক্তিযোদ্ধা সোবহানের বড় ছেলে ডা. উকিল জানান, আমার দুই ভাইকে এসিড মারার প্রতিবাদ করায় বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হাই কোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২৮ বছর পর উচ্চ আদালতের হাত ঘুরে যে রায় এসেছে তাতে আমি খুশি। আশা করছি, উচ্চতর আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।

x