হলুদ চাষে বেড়েছে খরচ, হতাশ চাষি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

রবিবার , ৭ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
34

খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের হলুদ। হলুদের গুণতম মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে পাহাড়ের হলুদ। তবে হলুদ চাষে খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন না হলুদ চাষিসহ এই খাতের সংশ্লিষ্টরা। তাদের মাঝে নেমে এসেছে হতাশা।
চাষীরা জানান, খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত হলুদের দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পাহাড়ি মাটি হলুদ চাষের উপযোগী হওয়ায় খাগড়াছড়িতে প্রতি বছর ব্যাপক পরিমাণ হলুদ উৎপাদিত হয়। পাহাড়ি টিলা ভূমি ছাড়াও পাহাড়ের সমতল অংশে প্রতি বছর হলুদ চাষ করেন চাষিরা। ফলন ও জাত ভালো হওয়ায় কমলা সুন্দরীসহ বিভিন্ন জাতের হলুদ উৎপন্ন হয় এখানে। উৎপাদিত হলুদ চাষিদের কাছ থেকে পাইকাররা কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করেন। হলুদের চাহিদা থাকায় প্রতিবছরই বাড়ছে এর চাষাবাদ।
তবে বিগত তিন থেকে চার বছর ধরে হলুদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কথা জানান চাষিরা। কয়েক বছর আগেও প্রতি মণ শুকনো হলুদ সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে প্রতিমণ শুকনো হলুদ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায়। এতে লোকসান গুণছেন অনেক চাষি।
খাগড়াছড়িতে ভালো মানের হলুদ উৎপাদিত হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন চাষিরা। খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার হলুদ চাষি আনন্দ চাকমা জানান, ৪০ শতক জমিতে হলুদ চাষাবাদে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। উৎপাদিত হলুদ ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা গেলেও শ্রমিক ব্যয় ও পরিবহন খরচ বাড়ায় চাষিরা লাভের মুখ দেখছেন না।
কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচা হলুদ কিনে তা শুকিয়ে গুদামজাত করেন পাইকার ব্যবসায়ীরা। মাটিরাঙার হলুদের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘খাগড়াছড়ির হলুদ ফেনী, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ সারা দেশে পাঠানো হয়। জেলার বাইরে এই হলুদের কদর বেশি। তবে বিগত কয়েকবছর ধরে হলুদের বাজার মন্দা।
অনেকে হলুদ ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিমণ শুকনো হলুদ উৎপাদনে ৪২’শ টাকা খরচ হলেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীদের কাছে মাত্র ৩৮শ’ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়।’ লোকসান হওয়ায় ঠিকমত শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারছেন না হলুদ ব্যবসায়ীরা ।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.সফর উদ্দিন বলেন, খাগড়াছড়ির মাটি, আবহাওয়া ও স্থানীয় জাতের হলুদ চাষাবাদ হওয়ায় এখানকার উৎপাদিত হলুদের গুণগত মান ভালো। চলতি বছরে জেলায় হলুদ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন। তবে কৃষকরা হলুদের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। হলুদ চাষিদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে সরকার ঋণ দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

x