হতাশার এক দিন

নজরুল ইসলাম

নখদন্তহীন বোলিং আর বাজে ফিল্ডিং টাইগারদের

শনিবার , ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
42

গতকাল পুরো দিনটা ছিল স্বাগতিকদের জন্য হতাশার। কারণ এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৫১৩ রানের জবাবে লংকানরা তুলে ফেলেছে ৫০৪ রান। তারা পিছিয়ে আছে মাত্র ৯ রানে। হারিয়েছে মাত্র ৩টি উইকেট। তবে সারাদিন যে শুধু বাংলাদেশের বোলাররা ব্যর্থ হয়েছে তা কিন্তু নয়। ফিল্ডাররাও হয়েছেন চরম ব্যর্থ। কারণ একাধিক ক্যাচ ছেড়েছে স্বাগতিক দলের ফিল্ডাররা। উইকেট রক্ষক লিটন দাশ মিস করেছেন সহজ স্টাম্পিং। নির্বিষ বোলিং, এলিয়ে পড়া ফিল্ডিং আর প্রাপ্ত সুযোগ হাতছাড়া করা সব মিলিয়ে গতকাল সারা দিনটা ছিল স্বাগতিকদের জন্য হতাশার। আর সে টাইগারদের সে হতাশার সুযোগ নিয়ে রানের পাহাড়ে চড়তে যাচ্ছে লংকানরা। ধারণা করা হচ্ছিল চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের উইকেট হবে টার্নিং। যেখানে স্বাগতিকরা সুবিধা পাবে। আর সে হিসেবে একাদশও গড়া হয়েছিল। যেখানে ছিল স্পিনারদের আধিক্য। সচরাচর ব্যাটিং উইকেট হলেও দেখা যায় ম্যাচের তিনদিন পার হলে স্পিনারদের বল টার্ন করে। কিন্তু জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট দিন যতই যাচ্ছে ততই যেন ব্যাটিং স্বর্গে পরিণত হচ্ছে। যেখানে ব্যাটসম্যানরা ইচ্ছা করে আউট না হলে তাকে আউট করাটা কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্তত টেস্টের গত তিন দিনে তেমনটি দেখা গেছে। তিন দিনে এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি রান হয়ে গেছে। সেঞ্চুরি হয়েছে তিনটি। কে জানে পরের দুদিনে কি আছে এই টেস্টের কপালে। তবে একটি কথা বোধহয় বলে দেওয়া যায় এই টেস্টে ব্যাটসম্যানরাই রাজত্ব করবে। গত তিন দিনে ব্যাটসম্যানদের রাজত্বে অসহায়ত্ব দেখা গেছে বোলারদের। গতকাল যেমন বাংলাদেশের বোলারদের যেন নাভিশ্বাস উঠে গেছে। পুরো দিন কেবলই বল কুড়াতে কুড়াতে চলে গেছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের। কারণ গতকাল পুরো দিনে বাংলাদেশের বোলাররা মাত্র দুটি উইকেট তুলে নিতে পেরেছে লংকানদের। তবে সাফল্য বলতে বোধহয় একটাই। আর সেটা হচ্ছে লংকান ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিসকে ডাবল সেঞ্চুরি করতে না দেওয়া।

মিরাজ, তাইজুল এবং অভিষিক্ত সানজামুল ব্যর্থ হলে মোসাদ্দেক, মোমিনুলের পাশাপাশি অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ নিজেও আসেন বল করতে। কিন্তু লোক বদল হলেও ভাগ্যের কোন বদল হয়নি। গতকাল সারা দিনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে কুসল মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভার উইকেট দুটি। তবে সেটাও অনেক দেরি হয়ে গেছে। কারণ ফিরে আসার আগে আগে দুজনই তুলে নিয়েছেন বড় সেঞ্চুরি। শুধু তাই নয় দুজনের জুটিতে হয়েছে রেকর্ডও। আর সে সাথে বাংলাদেশের বড় রান টপকে এখন অনায়াসে লিড নেওয়ার খুব কাছে সফরকারী শ্রীলঙ্কা। রান উৎসবের দিনে শ্রীলঙ্কার খানিকটা অপ্রাপ্তির গল্পও রয়েছে। আর তা হলো ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও করতে পারেননি ধনঞ্জয়া ডি সিলভা এবং কুশল মেন্ডিস। ১৭৩ রানে ফিরেছেন ধনঞ্জয়া। মেন্ডিসের ইনিংসটা আরো বড়। সে সাথে আক্ষেপটাও আরো বড়। কারণ তিনি আউট হয়েছেন ১৯৬ রান করে। তবে এ দুজন গড়েছেন ৩০৮ রানের জুটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে সবচেয়ে বড় জুটি এটিই। এর আগে ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ ও গ্যারি কারস্টেন গড়েছিলেন ২৭২ রানের জুটি। গতকালও ক্যাচ ছেড়েছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। আগের দিন দুই দফায় বেঁচে যাওয়া কুসল মেন্ডিসকে গতকাল সকালেই আবার জীবন দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মোস্তাফিজের বলে দ্বিতীয় িপে ক্যাচ নিতে ব্যর্থ মিরাজ। আর জীবন পেয়ে দ্রুত চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন মেন্ডিস। তবে আগের দিন সেঞ্চুরি করা ধনঞ্জয়া গতকাল শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। গতকাল দিনের প্রথম সেশনে ৩১ ওভারে শ্রীলঙ্কার এই দুই ব্যাটসম্যান তুলে নেয় ১০৮ রান। লাঞ্চের পরপরই ভাঙে এ জুটি। মোস্তাফিজকে পুল করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন ধনঞ্জয়া। ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ১৭৩ রান করে থামেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা।

বাধ যখন ভেঙেছে তখন আরো সাফল্য পেতে পারতো বাংলাদেশ। এক রানেই ফিরতে পারতেন রোশেন সিলভা। কিন্তু মিরাজের বলে রোশেন সিলভার স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেন লিটন দাস। আর সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মেন্ডিসের সঙ্গে রোশেন গড়ে তোলেন শতরানের জুটি। সেঞ্চুরির পর আগ্রাসী হয়ে উঠা মেন্ডিস ছুটছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি দিকে। যেভাবে ব্যাট করছিলেন তিনি তাতে মনে হচ্ছিল এই লংকানের ডাবল সেঞ্চুরিটা হয়তো সময়ের ব্যাপার। কিন্তু সেটা হতে দিলেন না তাইজুল। গত মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে গলে ১৯৪ রান করে আউট হয়েছিলেন ছক্কা মারতে গিয়ে। এবার ১৯৬ রানে গিয়ে ছক্কা মারতে গেলেন তাইজুলকে। তবে অনেকটা দৌঁড়ে অসাধারণ এক ডাইভিং ক্যাচ নিলেন মুশফিকুর রহিম। ৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হলো সিলভাকে। এরপর অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালের সঙ্গে রোশেন সিলভার জুটিটা অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের। শতরানের অপেক্ষায় থাকা রোশেন অপরাজিত আছেন ৮৭ রানে। মাত্র ৯ রানে পিছিয়ে তাকা লংকানদের একনো সাতটি উইকেট অক্ষত। আর সে শক্তি নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড় করায় নিজেদের ইনিংসকে সেটাই দেখার অপেক্ষা।

x