হজে ফিট থাকুন হাজীরা

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ২৭ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ
36

আসছে পবিত্র হজ। মুসলমানদের ৫টি পবিত্র স্তম্ভের মধ্যে হজ একটি। পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসলমান পবিত্র মক্কা শরীফে সমবেত হন। আমাদের দেশ থেকে অনেক হাজি হজ পালন করতে যান। এই হজব্রত পালনের জন্য প্রত্যেকটি মানুষ চান সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্থতা বা ফিজিক্যাল ফিটনেস। শারীরিক ফিটনেস ঠিক না থাকলে হজ সঠিকভাবে হজ পালন করা সম্ভব নয়। সাধারণত আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মধ্যবয়সী কম, পঞ্চাশার্ধ বা ষাটোর্ধ লোকজনই বেশি গিয়ে থাকেন যাদের বেশিরভাগই কোনো কোনো ডিজেনারেটিভ ডিজিজ অর্থাৎ হাড় বা অস্থির ক্ষয়জনিত রোগে ভূগে থাকেন যেমন- ঘাড়ে ব্যথা, কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, কাঁধে ব্যথা ইত্যাদি, যা বেশিরভাগ ৪০ ঊর্ধ্ব মানুষের হাড়ের ক্ষয়জনিত কারণে হয়ে থাকে। যেহেতু পবিত্র হজ একটি শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত সেহেতু এখানে হাজি সাহেব বা সাহেবাদের মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অনেক হাঁটাহাঁটি, পাথর নিক্ষেপসহ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কিংবা হাঁটা-চলা করে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। অতএব এক্ষেত্রে একজন এঙপার্ট ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে জানা প্রয়োজন ফিজিক্যাল ফিটনেস আছে কিনা? বা কোনো সমস্যা থাকলে সমাধানের চেষ্টা করা অথবা কী কী ব্যায়াম করলে অথবা কী ধরনের নিয়ম-কানুন মেনে চললে ভালোভাবে পবিত্র হজব্রত সঠিকভাবে ব্যথামুক্ত পালন করা যায়, তার জন্য প্রত্যেক হজযাত্রীকে হজের প্রস্তুতি স্বরূপ ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অনেকে আছেন যারা নিজেরাও পারেন হজের আগে নিজেকে ফিট করে নিতে। সত্যি কথা বলতে হজ পালন করতে গেলে অবশ্যই শারীরিক ফিট থাকা খুবই দরকার। তবে খুবই পরিতাপের বিষয় আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষই হজ করতে যান কিন্তু তাঁদের শরীর ফিট নাই তারা জানেন, তারপরও এটির প্রতি তেমন গুরুত্ব দেন না। আমি মনে করি যারা এভার থেকে যাবেন তাঁরা এ বিষয়টি ভাল করে লক্ষ্য রাখবেন।
কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে না থাকা অর্থাৎ ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে আছেন একটু বিশ্রাম নিয়ে নিবেন অথবা ৩০ মিনিট বসে আছেন এরপর ৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করে এরপর বসবেন। যেহেতু হজে যাওয়ার সময় প্রত্যেক হজযাত্রীর সঙ্গে ভারী লাগেজ থাকে এগুলো খুব সাবধানতার সঙ্গে উঠানামা করা বিশেষ করে লাগেজ ওঠাতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে ঘাড়ে বা কোমরে ব্যথা পেতে পারে যার অন্যতম কারণ ডিস্ক প্রলাপ্স অর্থাৎ সামনের দিকে ঝুঁকে ভারী কিছু উঠাবেন না। যারা আগে থেকেই ঘাড় বা কোমর ব্যথায় ভুগছেন তারা সারভাইক্যাল কলার বা লাম্বার করসেট বেল্ট নিয়ে যেতে ভুলবেন না। যাদের কোমরে সমস্যা আছে তাঁরা চাইলে কোমরে বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন এতে আপনার ভাল সাপোর্ট পাবেন। এটা র্দীঘক্ষণ হাঁটা চলার সময় ও ভ্রমনের সময় ব্যবহার করবেন। যারা হাঁটুর অস্থিক্ষয় বা অস্টিওআর্থাইটিস রোগে ভুগছেন তারা সঙ্গে নি-কেপ নিবেন এটি হাঁটাচলার সময় ব্যবহার করবেন কিন্তু বিশ্রামের সময় খুলে রাখবেন এবং চিকিৎসকের নির্দেশিত ব্যায়ামগুলো সঠিকভাবে করলে উপকার পাবেন হাঁটু ব্যথা থেকে। বিশেষ করে যারা বয়স্ক ৬৫ বা ৭০ বছর ঊর্ধ্বে একা চলাফেরা করতে কষ্ট হয় এমন ব্যক্তিরা অবশ্যই ওয়াকিং এইড হিসেবে লাঠি বা যারা আরো সমস্যা আছে তাদের জন্য দু’পা বিশিষ্ট চাকা দ্বারা স্টেন নিয়ে হাঁটতে পারেন যাতে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে। সর্বোপরি মহান আল্লাহু তায়ালার হুকুম পালন করতে যেন অসুবিধা না হয় সে জন্য হজের প্রস্তুতি হিসেবে ফিজিওথেরাপির পরামর্শ নেয়া জরুরি, এছাড়া হজের পরে এসে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা হয় তাই পরে এসময় ফিজিওথেরাপির সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু খুবই পরিতাপের বিষয় হলো এধরনের কোন হাজী হজে যাবার আগে কোন ফিজিওথেরাপিস্টের নিকট থেকে থেরাপি নেন না। অনেক দিন হজের কার্যক্রমের কারণে শরীরের গতি ভাল থাকে না। তাই সুস্থ ও সুন্দরভাবে হজের পালন করা সকলের কাম্য।

x