সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করতে হবে

বৃহস্পতিবার , ২৯ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ
36

সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খুলনা শহরাংশ চার লেনে উন্নীতকরণ’ নামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে এ নির্দেশ দেন তিনি।
পাশাপাশি সড়ক রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পণ্যবাহী কোনো যানবাহন বা ট্রাক যাতে ওভারলোড হয়ে সড়কে না ওঠে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে। সড়কের নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। একই ধরনের প্রকল্প যেন অনেকে বাস্তবায়ন না করে এ বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। এখন থেকে দেশের সব সড়কে ড্রাইভার-হেলপারদের জন্য সড়কের পাশে আধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হবে। আমরা চাই যাতে কোনো চালক একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালান।
আসলে শহরগুলোতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করা, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো ও রাস্তায় প্রতিযোগিতাসহ চালকদের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ব্যাপক যানজটের পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের জের ধরে টানা কয়েকদিন নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর ঢাকাসহ সারাদেশে রাস্তায় নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যানজট নিরসনে সরকার অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সড়ক শৃঙ্খলায় দৃশ্যত কোনও পরিবর্তন আসেনি।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সড়ক শৃঙ্খলায় বিভিন্ন প্রচারণাও কোনও কাজে আসছে না। চালক থেকে পথচারী কেউ আইন মানছে না। সড়কে যেন আইন ভাঙার সংস্কৃতিই চালু হয়েছে। অপরদিকে ট্রাফিক পুলিশ দিয়েও মানানো যাচ্ছে না ট্রাফিক আইন।
বাসগুলো নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো যাত্রী ওঠানামা করছে, চালক ও সহকারীদের দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি, অসংখ্য আনফিট (চলাচলের অনুপযোগী) যানবাহন সেই সাথে উল্টোপথে যাত্রা অব্যাহত আছে এখনও। বাসগুলো এখনো রাস্তায় নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা চালক ও সহকারীদের মাসিক ভিত্তিতে বেতন না দিয়ে দৈনিক ভিত্তিতে বেতন দেওয়াকে দায়ী করেছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার ১৯৪টি রুটে ২০০টিরও বেশি বাস কোম্পানির বাস চলাচল করে। তাদের মধ্যে সাতটি কোম্পানির শতাধিক বাস আছে। যারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায়। অন্য কোনও দেশের পরিবহন খাতে এতগুলো বাস কোম্পানি নেই জানিয়ে এক পরিবহন বিশেষজ্ঞ বলেন, রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে অল্প সংখ্যক কোম্পানিকে বাস পরিচালনার অনুমতি দিতে হবে। অতিরিক্ত আয়ের জন্য পরিবহন কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা যখন রাস্তায় প্রতিযোগিতা শুরু করে তখনই সড়কে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় ও দুর্ঘটনা ঘটে বলেও মনে করেন তিনি।
জনগণ ও পরিবহন চালকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে না উঠলে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন আসবে না জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কার্যক্রম বাড়াতে হবে। চলাচলের সময় সঠিকভাবে সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯৯৯ বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নতুন একটি সেবা। যুক্তরাষ্ট্রে আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে ৯১১ ছিল। তাদের থেকে ৭০ বছর পরে হলেও আমাদের ৯৯৯ সেবা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। সড়ক দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে নাগরিক হয়রানিসহ প্রায় সবকিছুতেই পাশে থাকার চেষ্টা করছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। প্রয়োজনের মাত্রা অনুসারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু অপারগতা। রাস্তার দুরবস্থা ও অতিরিক্ত যানজট ঠেলে সেবা দ্রুত দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা আছে। সেবার জন্য বিকল্প কোনো রাস্তার ব্যবস্থাও নেই। সেটিও অব্যবস্থাপনা-অসংগতির কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী।
কারও একার পক্ষে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না। নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যম, সরকার, পুলিশসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ-সংক্রান্ত সমস্যা শনাক্ত করে সম্ভাব্য সমাধানগুলো কার্যকর করতে হবে। যাত্রী, চালক ও গাড়ি প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর জন্য সরকারি সকল উদ্যোগের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে হবে।

x