সড়কে পশুর হাট নয়, নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা চাই

বুধবার , ৭ আগস্ট, ২০১৯ at ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ
43

দরজায় কড়া নাড়ছে কোরবানির ঈদ। ঈদুল আযহা। তাই দুয়েক দিনের মধ্যে জমে উঠবে পশুর হাটগুলো। এই গরুর হাটগুলোর অধিকাংশ এবারও বসছে সড়কের পাশে। আর প্রতিবছরের মতো নাড়ির টানে বাড়ির পানে ছুটবে হাজারো মানুষ। যাত্রী ও কোরবানির পশুবাহী গাড়ির চাপ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে মহাসড়কে সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তীব্র যানজট। এবারও চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন যাত্রীরা। সেই আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার চাঁদ দেখার পর থেকে পশুবাহী যানবাহন দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে যাচ্ছে।
এমনিতেই যানজট, তার ওপর পশুহাট বসানো হলে যানজট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। এরই মধ্যে ভোগান্তির খবরও গণমাধ্যমগুলোতে দেখা যাচ্ছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় মোট চারটি গরুর বাজার ইজারা দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। ১ম টি কাটগড় বাজার, ২য় টি স্টিলমিল বাজার ( খালপার মোড় থেকে ইস্টার্ণ রিফাইনারি গেইট পর্যন্ত। ৩য় টি কমল মহাজন হাট প্রকাশ (কইল্লার হাট) এবং ৪র্থ টি দক্ষিণ পতেঙ্গা হাট। এগুলোর মধ্যে কাটগড় ও স্টিলমিল বাজারটি একদম রাস্তায় এসে যায় বলে স্থানীয়রা অভিমত দিয়েছেন। স্টিলমিল বাজারের দিকে এলিভেটেট এঙপ্রেসের কাজের জন্যে রাস্তার টিনের ঘেরা দেয়ায় অনেক সরু হয়ে আছে। এই কয়েকদিন রাস্তার ওপর গরু নামানোয় দুর্ভোগ শুরু হয়ে গেছে। এই সড়কে আগের মতো বাজার বসলে এখান দিয়ে বিমানযাত্রীসহ সবার চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে বলে দাবি নগরবাসীর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দরগামী সড়কের ওপরই বসানো গরুর হাটের কারণে দীর্ঘ যানজটে পড়তে হবে নগরবাসীকে। এতে চট্টগ্রামে আসা বিদেশিদের পোহাতে হবে ভোগান্তি। যানজটে পড়ে ফ্লাইটও মিস করার আশঙ্কা অনেকের।
তবে আশার কথা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা মহাসড়কের ওপর কোরবানির পশুর হাট বসাতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। গত সোমবার নগরের দুই নম্বর গেইট এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি। ঈদুল আযহা উপলক্ষে সড়ক ও নৌ-পথ, কোরবানির পশুর হাট, ঈদের জামাত ও দর্শনীয় স্থানের সার্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বিমান বন্দর সড়কে পশুর হাট ইজারা দেয়াকে দুঃখজনক বলেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান। ৩ আগস্ট দামপাড়া পুলিশ লাইনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ পশুর হাট সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি এরূপ মন্তব্য করেছেন। চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে যাতায়াতের একমাত্র সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে চলতি বছর সল্টগোলা ক্রসিং ও স্টিলমিল বাজারে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা না দিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) চিঠি দিয়েছিলো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। কিন্তু এরপরও সেখানে অস্থায়ী পশুর বাজার ইজারা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, নগরীকে যানজট মুক্ত রাখার দায়িত্ব পুলিশের একার নয়। অন্যান্য সকল সংস্থাকেও ভূমিকা রাখতে হবে। সিএমপি কমিশনার গরুর বাজারে সিসি ক্যামেরা, ডোন ক্যামেরা দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জাল নোট রোধেও অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি মহাসড়কের ওপর পশুর হাট বসানোর চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া ঈদের আগে মহাসড়কে কোনো যানবাহন থামাবে না পুলিশ। গবাদি পশুর হাট ও পশু পরিবহনকালে ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত হাসিল আদায় ও এক হাটের পশু অন্য হাটে জোরপূর্বক নেয়ার বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। এছাড়া কোরবানির পশুর হাটে ‘ছেলে ধরা গুজব’ তুলে প্রতারকরা যাতে টাকা ছিনিয়ে নিতে না পারে সেজন্য সজাগ থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন এই পুলিশ সুপার।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরে পশুর হাট বসবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের অনুমতি না নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিরা অবৈধভাবে পশুর হাট বসাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সড়কে যাতে পশুর হাট না বসে, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

x