সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি : প্রতিটি সংস্থার মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় দরকার

বুধবার , ৬ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
35

নগরীর অনেক সড়কে এখন চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু সড়ক খুঁড়ে পাইপ বসানোর কাজ শেষ হলেও এখনো অরক্ষিতই রয়েছে সেগুলো। কিছু গর্তের চারপাশে উঁচু করে পাকা করে রাখা হয়েছে। অনেক সড়কে ম্যানহোলের ঢাকনা মূল সড়ক থেকে নিচে নেমে গেছে। রাস্তার মাঝখানে কেটে পাইপ বসানোর পর কোনো রকম মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে, আইল্যান্ডের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তায় চলাচলে প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের। বেশ কিছু সংযোগ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখার ফলে সড়কের আকার কমেছে প্রায় অর্ধেক। এ কারণে নগরজুড়েই যানজটের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
দৈনিক আজাদীতে গত ৪ঠা মার্চ ‘সড়কে আবার খোঁড়াখুঁড়ি : বাড়ছে দুর্ভোগ, সমন্বয়হীনতার অভিযোগ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম শহরের প্রধান রাস্তাগুলোর একটি ‘আরাকান সড়ক’। কয়েক মাস আগেই চার লাইনের সড়কটির বহদ্দারহাট থেকে দুই নম্বর গেইট অংশ সংস্কার করা হয়েছিল। অথচ গত ১০/১২ দিন ধরে সড়কটির মুরাদপুর অংশে আবারো কাটছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। পাইপ লাইন বসানোর জন্য পর্যায়ক্রমে সড়কটির আগ্রাবাদ বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত কাটার কথা রয়েছে। এছাড়া শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আগ্রাবাদ এঙেস রোড। জাইকার অর্থায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যেই নির্মাণ কাজের শেষ ধাপের অংশ হিসেবে ব্রিক সলিং করার কথা রয়েছে। তবে এ সড়কেও পাইপ লাইন বসানোর জন্য কাটা হবে বলে ইতোমধ্যে চসিককে জানিয়েছে ওয়াসা। শুধু সড়ক দুটি নয়। নগরীর বিভিন্ন জায়গার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে নেওয়া হবে ওয়াসার পাইপলাইন। এরমধ্যে কোথাও এ পাইপ লাইন বসানোর জন্য খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছে, আবার কোথাও কয়েকদিন পরে খোঁড়া হবে। তবে এক্ষেত্রে কোনো কোনো জায়গায় সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় লোকজন। তাদের অভিযোগ, সমন্বয়হীনতার কারণেই সংস্কার কাজ শেষ করার কিছুদিনের মধ্যেই সড়কগুলো আবারো কাটা হচ্ছে। ওয়াসার পাশাপাশি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)ও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন কাজের জন্য সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করে। নগরবাসীর অভিযোগ, সেখানেও সমন্বয়হীনতা আছে। তারা বলছেন, বর্ষা ঘনিয়ে আসছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ না করলে বর্ষায় দুর্ভোগ বাড়বে নগরবাসীর। বর্তমানেও খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ধুলোয় বেহাল অবস্থা সড়কগুলোর।
আসলে খোঁড়াখুঁড়ি’র পাশাপাশি ভাঙাচোরা সড়কের কারণে নাকাল নগরীর চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। ভোগান্তির যেন কোনো শেষ নেই তাদের। তার ওপর রয়েছে বৃষ্টিতে নগরীতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা। শেষ করাতো দূরে থাক, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যাচ্ছেনা কোনো সংস্কার কাজই।
গুরুত্বপূর্ণ এই রোডে গাড়ি হেলে দুলে চলতে গিয়ে যেমন নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। তেমনিভাবে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলছে। তা ছাড়া সারা বছর খোঁড়াখুঁড়ি এবং ওই সকল সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না নেওয়ায় সড়কের ভালো অংশেও খানা-খন্দকের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে নগরজুড়ে এই বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ওয়াসার নতুন পানির লাইন স্থাপন ও পুরাতন লাইন মেরামতের কাজ চলমান থাকার কারণে গত কয়েক বছর ধরে এ দুরবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিটি মেয়র কঠোর হচ্ছেন বলে জানা গেছে। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যাতে নগরবাসীর দুর্ভোগ না হয় সেটা বিবেচনায় নিয়ে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে এমন সড়কগুলো পরবর্তী একবছরের মধ্যে কোনো সংস্থাকেই কাটার অনুমতি দিবেন না বলে মেয়র জানিয়েছেন। এছাড়া আগামী বর্ষায় শহরের কোনো সড়কেই কাটার অনুমতি দিবেন না বলে জানান তিনি। নগরের সার্বিক স্বার্থে এমন উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। আমরা চাই প্রতিটি সংস্থার মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়।

- Advertistment -