সড়কে আসেনি প্রত্যাশিত পরিবর্তন

ট্রাফিক সপ্তাহের আজ শেষ দিন ।। একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ
73

ট্রাফিক সপ্তাহের শেষ দিন আজ। গত ৫ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ‘বিশেষ’ ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়। এমন একটি সময়ে এ ট্রাফিক সপ্তাহের ঘোষণা আসে যখন ঢাকাচট্টগ্রামসহ সারা দেশে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে। ট্রাফিক সপ্তাহে নগরীর বিভিন্ন সড়কে দিনের পর দিন ধরে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনের হতশ্রী চেহারা উন্মোচিত হয় আরো নগ্ন ভাবে। এ ট্রাফিক সপ্তাহে নগরীর ১৬ টি পয়েন্টে সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ যানবাহনের বৈধতা, মেয়াদ, ফিটনেস, চালকের লাইসেন্স যাচাইবাছাই করছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর আগেই তিনি আজাদীকে জানিয়েছিলেন, ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালীন সময়ে। তাঁর কথানুযায়ী সে কঠোরতা অনেকটাই দেখাতে সক্ষম হয়েছেন কর্তব্যরত সার্জেন্টরা। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বেড়েছে, একই ভাবে বেড়েছে জরিমানা ও যানবাহন আটকের সংখ্যাও। সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। তবে এত কিছু করেও নিত্যদিনের দুর্ভোগের তেমন পরিবর্তন দেখা যায় নি।

ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে ষষ্ঠ দিনের মতো নগরীতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে গতকাল। দিন যতো যাচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বেড়েছে, একই সাথে বেড়েছে গাড়ি জব্দের সংখ্যাও। সিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের প্রসিকিউশন ইনচার্জ আনোয়ারুল হক আজাদীকে এ কথা জানিয়ে বলেন, সিএমপি কমিশনার স্যারের বক্তব্য আপনারা (সাংবাদিকরা) শুনেছেন। ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধনকালে তিনি স্পষ্টতই বলেছেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি যেন গ্যারেজে থাকে। যে গাড়ি রাস্তায় চলার উপযুক্ত নয়, তা যেন রাস্তায় না নামে। পথচারী যেন রাস্তার নির্ধারিত জেব্রা ক্রসিং এবং ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে। নগরবাসী, গাড়িচালক, মালিক, পথচারী আসুন সবাই সবার ভুল সংশোধন করি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের যে বার্তা দিয়ে গেছে, তা সবাই যেন মেনে চলি। ট্রাফিক পুলিশসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের সড়ক নিরাপদ হবে। আমরা তাঁরই নির্দেশে এবার ট্রাফিক সপ্তাহ পালনকালে ত্রুটি যুক্ত গাড়ির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর মনোভাব দেখিয়ে যাচ্ছি।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুসুম দেওয়ান স্যারের নেতৃত্বে সিনিয়র স্যারদের সবাই রাস্তায় অভিযান মনিটরিং করছেন। এটুকু বিশ্বাস রাখতে পারেন, আমাদের আন্তরিকতার অভাব আগেও ছিল না, এখনও নেই। হয়তো সীমাবদ্ধতা আছে, তা আমরা আন্তরিকতা দিয়ে পূরণ করে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেমন আগামীকাল (শনিবার) ট্রাফিক উত্তর বিভাগের পক্ষ থেকে সকাল দশটায় নগরীতে চলাচলরত পরিবহন চালক ও হেলপারদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন থাকছে। ডিসি ট্রাফিক (উত্তর) স্যারের (হারুন অর রশীদ হাযারী) নেতৃত্বে সিনিয়র কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন। এ কাজটা আমরা নিয়মিতই করে আসছি।

ট্রাফিক বিভাগের তথ্য মতে গতকাল ৬ষ্ঠ দিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ট্রাফিক উত্তর বিভাগে মামলা হয়েছে ৫৭২ টি। আটককৃত গাড়ির সংখ্যা ৪৩ টি। অন্যদিকে ট্রাফিক বন্দর বিভাগে মামলার সংখ্যা ৪৯২ টি। গাড়ি আটকের সংখ্যা ৩৮ টি।

x