স্মৃতি কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে জাদুঘরের কাজ

দ্রুত এগুচ্ছে আবদুল হক চৌধুরী

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১২:২৩ অপরাহ্ণ
24

দ্রুত এগুচ্ছে রাউজান উপজেলায় নির্মিত গবেষক আবদুল হক চৌধুরী স্মৃতি কেন্দ্র ও সংগ্রহশালার নির্মাণ কাজ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ স্মৃতি কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া এ সংগ্রহশালা নির্মাণ কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চট্টগ্রামসহ তিনটি জেলায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এমন তিনজন গুণী ব্যক্তির স্মরণে স্মৃতি কেন্দ্র ও সংগ্রহশালা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এজন্য ‘৩ জেলায় তিনজন বরণ্য ব্যক্তিত্বের স্মৃতি কেন্দ্র/ সংগ্রহশালা স্থাপন’ শীর্ষক ৭ কোটি ৯৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াজিষপুরে গবেষক আবদুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জে কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী, ও নেত্রকোণায় কমরেড মনিসিংহ স্মৃতি কেন্দ্র/সংগ্রহশালা নির্মিত হচ্ছে।’ প্রকল্পের আওতায় গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে রাউজানে গবেষক আবদুল হক চৌধুরী স্মৃতি কেন্দ্র ও সংগ্রহশালা নির্মাণ কাজ শুরু হয়। গবেষণায় মরণোত্তর একুশে পদক প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বুদ্ধিজীবী গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর এ স্মৃতি কেন্দ্র/সংগ্রহশালা নির্মাণের জন্য ২৬ শতক (১৩ গণ্ডা) জমি প্রদান করেছেন আবদুল হক চৌধুরী পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর পুত্র ড. মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী।
জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে চলমান প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। তবে দ্বিতীয় প্যাকেজে প্রকল্পের আওতায় এখানে জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে গত সপ্তাহে রাউজান নোয়াজিশপুর গ্রামে নির্মাণাধীন গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর স্মৃতিকেন্দ্র/সংগ্রহশালা প্রকল্প পরিদর্শন করেন জাতীয় জাদুঘর ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াছ, মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান (উন্নয়ন), শামীম খান ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গণ-গ্রন্থগার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হামিদুর রহমান। পরিদর্শনকালে তাঁরা বাস্তবায়নাধীন স্মৃতিকেন্দ্র/সংগ্রহশালা প্রকল্পের কাজের অগ্রগতির সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং স্মৃতিকেন্দ্র/সংগ্রহশালাটি একটি পূর্ণাঙ্গ যাদুঘর করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর পুত্র ড. মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী, ইসলামিয়া কলেজের উপাধ্যক্ষ মনছুর-উল-আমিন চৌধুরী, ওয়াহিদুল আমিন চৌধুরী ও সিরাজুল ইসলামসহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গবেষক আবদুল হক চৌধুরী ১৯৯৪ সালে ২৬ অক্টোবর পরলোক গমন করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২টি। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত থাকর দায়ে ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট তিনি এবং তাঁর পুত্র অধ্যক্ষ শহিদুল আমিন চৌধুরী পাক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার ও নির্যাতিত হন এবং কারাভোগ করেন। চট্টগ্রামের সমাজ ও সংস্কৃতি এবং শহর চট্টগ্রামের ইতিহাসের তিনি পথিকৃৎ ইতিহাসবিদ। তাঁর গবেষণা দেশ-বিদেশে পণ্ডিত মহলে উচ্চ মর্যাদায় প্রশংসিত।

x