স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক এই গতিকে আরো ত্বরান্বিত করতে হবে

শনিবার , ৯ জুন, ২০১৮ at ৩:৪০ পূর্বাহ্ণ
60

স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সাময়িকী ল্যানসেটের সাম্প্রতিক গবেষণালয় এই অগ্রগতির চিত্র ফুটে উঠেছে। গবেষণায় যে ১৯৫টি দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩এ। ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১৪৫, ১৪৯ ও ১৫৪। তবে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে। এদের অবস্থান যথাক্রমে ৭১ ও ৭২।

আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির মৌলিক উপাদান হচ্ছে স্বাস্থ্য। যে কোনো জাতির আর্থসামাজিক প্রবৃদ্ধি এবং কল্যাণ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্যহীনতা ও পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। স্বাস্থ্যহীনতা হচ্ছে এমন একটি শারীরিক ও মানসিক অস্বাভাবিক অবস্থা, যা কোনো ব্যক্তিকে তার সামাজিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে অক্ষম করে তোলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে– ‘স্বাস্থ্য অর্থ নিছক রোগ ও দুর্বলতা থেকে মুক্ত থাকা নয়, বরং শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ ভালো থাকা, যার ফলে নাগরিক সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উৎপাদনশীল জীবনযাপন করতে পারে।’

বাংলাদেশ নানা ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে। স্বাস্থ্য খাত এই খাতগুলোর একটি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার সাফল্যের কথা ইদানীং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভালোভাবে বলা হচ্ছে। যদিও বর্তমান বাংলাদেশে অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনো স্বাস্থ্যহীনতার শিকার। ইউনিসেফের প্রকাশিত বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি রিপোর্টে বলা হয়েছে, অল্প সংখ্যক শিশু স্বাস্থ্যবান। অধিকাংশ শিশু স্বাস্থ্যহীনতার শিকার। আমাদের মাতৃমৃত্যুর হার ক্রমহ্রাসমান হলেও এখনো রয়েছে অনেক ঝুঁকি। এই স্বাস্থ্য সমস্যার প্রধান কারণগুলো কী কী? অনুসন্ধান করে জানা যায়, অন্যতম কারণগুলোর মতো রয়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি না হওয়া, সার্বিক চিকিৎসার সমন্বয়ের অভাব এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের ব্যর্থতা।

ল্যানসেটের গবেষণায় বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের যে দেশগুলো ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে প্রাথমিকভাবে ভালো করেছে বা অগ্রগতি ত্বরান্বিত করেছে, সে তালিকায় আছে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভুটান, কম্বোডিয়া, লাওস ও রুয়ান্ডা। বাংলাদেশের এ অবস্থানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিনন্দিত করেছে এবং সন্তোষ প্রকাশ করে আগামীতে আরো উন্নয়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের সচেতনতা আরো বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের নগরীগুলোকে স্বাস্থ্যবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিশুকাল থেকেই স্বাস্থ্য চেতনা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। জনস্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সচেতনতা সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। বিদ্যালয়, বাড়ি ও মহল্লাকে কেন্দ্র করে সাধারণ চিকিৎসা সেবার সাথে রোগ নিবারণমূলক সেবা সমন্বিত করতে হবে। বর্তমান চিকিৎসা সেবার যে অগ্রগতি, তার গতিকে ত্বরান্বিত করার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে যে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবেলায় কারো কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়। স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে সংবিধানে। তাই এই খাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। আমরা জানি, সব নাগরিকের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হলে প্রত্যেক মানুষের জীবনমানের উন্নয়নও জরুরি। এই জীবনমান উন্নয়নে সরকার ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন যেভাবে কাজ করছেন, তাঁদের প্রশংসা না করে পারি না। তবে, এটাও বলা আবশ্যক যে, আরো এগিয়ে যেতে হবে।

x