স্বামী নির্যাতন মামলায় স্ত্রীর জামিন

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
137

স্বামীর দায়ের করা যৌতুক দাবির মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিলেন স্ত্রী নাজমুন নাহার নাজু। গতকাল রোববার মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করলে বিচারক তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। নাজু আদালতে চার বছরের শিশুকে নিয়ে উপস্থিত হন। এ সময় স্বামীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে মামলাটিকে গতকাল বিচারিক আদালতে প্রেরণের আদেশ দিয়ে দ্রুতবিচার নিষ্পত্তিরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিচারকের তরফে। এ বিষয়ে স্বামীর পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট কংকন চন্দ্র দেব জানান, আমার মক্কেল আবুল হাসানের দায়ের করা মামলায় আসামি নাজু আজ (গতকাল রোববার) আদালতে উপস্থিত হলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক আসামিকে জামিন দিয়েছেন। একইসাথে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে মামলাটির দ্রুতবিচার নিষ্পত্তিরও আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন আবুল হাসান। মামলায় যৌতুকের জন্য স্বামীকে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। এতে স্ত্রী নামজুন নাহার নাজুকে আসামি করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নাজমুল হোসেন চৌধুরীর আদালতে এ মামলাটি দায়ের হয়েছিল।

বাদীর আইনজীবী কংকন চন্দ্র দেব বলেন, স্বামীকে নির্যাতন এবং যৌতুক দাবির অভিযানে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন আমার মক্কেল আবুল হাসান। আদালত ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় অভিযোগ গ্রহণ করে স্ত্রীকে হাজিরের জন্য সমন জারি করেছেন। গতকাল রোববার ছিল সমন ফেরতের দিন। এ দিনে আসামি নাজু আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিলেন।

এডভোকেট কংকন বলেন, এতদিন এ ধারায় শুধু পুরুষদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতো। বিভিন্ন সময় পুরুষনারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হলেও মামলা দায়ের করতেন না সামাজিক মান সম্মানের কথা ভেবে। এক্ষেত্রে আবুল হাসানের মামলাটি ব্যতিক্রম বলা যায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের ১৩ মে নগরীর হালিশহরের রামপুরা এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে নাজমুনের সাথে বাদী আবুল হাসানের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে একটি মেয়েও রয়েছে। হাসানের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা অথবা সেখানে বিল্ডিং বানিয়ে দেয়া অথবা একটি ফ্ল্যাট কিনে দেয়ার দাবিতে গত ২৩ বছর ধরে হাসানকে নির্যাতন করে আসছেন স্ত্রী নাজমুন।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, স্ত্রী নাজমুন তাকে বিভিন্ন সময় চড়, থাপ্পড়, কিলঘুষিসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে। এতদিন সামাজিক সম্মানের ভয়ে হাসান তা প্রকাশ করেনি। কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তিনি মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

x