স্বামীর খুনির সাথে স্ত্রীর পরকীয়া, বিয়ে অতঃপর…

মহেশখালী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১২:১৫ অপরাহ্ণ
395

কক্সবাজারের মহেশখালীতে আততায়ীর হাতে খুন হওয়া ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে খুনির পরকীয়া এবং শেষপর্যন্ত বিয়ে করে সংসার করার খবর পাওয়া গেছে। অতঃপর গত ৯ অক্টোবর পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় দুইজনকে। আর গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের হরিয়ার ছরা গ্রামের।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের হরিয়ার ছরা গ্রামের মৃত নুরুল হকের পুত্র মো: আনছারের (৩৪) মৃতদেহ পাওয়া যায় মহেশখালীর শাপলাপুরের পাহাড়ি ছরায়। ঢলের পানিতে ভাসমান লাশটি উদ্ধার করে মহেশখালী থানা পুলিশ। মহেশখালী থানা পুলিশের এসআই দীপক বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর আনছারের ছোট ভাই জিয়া উদ্দিন লাশটি তার ভাইয়ের বলে সনাক্ত করেন। প্রাথমিকভাবে লাশটি কেন, কিভাবে ভেসে আসল বা কারা তার ভাইকে হত্যা করলো তার কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের মা আসমা খাতুন বাদী হয়ে নিহত আনছারের সাথে পূর্বশত্রুতা থাকা শাপলাপুর পশ্চিম রাখাইন পাড়ার মৃত চ্যালেম্যের পুত্র চেলারি মং, মাইয়মংয়ের পুত্র উলামা, লুংকা মংয়ের পুত্র লুংকা মং, তার ভাই ইয়ামু মং, হোয়ানকের হরিয়ার ছরা গ্রামের ছালেহ আহমদের পুত্র শফিউল আলম, বাদশা মিয়ার পুত্র আকতার হোছন ও আব্দুস শুক্কুরের পুত্র ইসহাক সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে নিহতের স্ত্রীর আচার আচরণে মা ও ভাইদের সন্দেহ জাগে। তারা আনছারের স্ত্রীর সাথে হত্যা মামলার আসামি সফিউল আলমের পরকীয়ার কথা জানতে পারেন। ঘটনার ১৫ দিন পরে নিহতের স্ত্রী ২ সন্তানের জননী আছিয়া খাতুনও ২ সন্তান সহ উধাও হয়ে যায়। তারা জানতে পারেন স্বামীর খুনি সফিউল আলমের সাথে নিহতের স্ত্রী বিয়ে করে মহেশখালী ত্যাগ করে লামা থানাধীন পাইতং ইউনিয়নের গভীর পাহাড়ে বসবাস করছে।
মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী জানান, গত ৯ অক্টোবর বিকালে গোপন খবরের ভিত্তিতে মহেশখালী থেকে গিয়ে পাইতং লাকনা ঘোনা পাহাড়ের উপরে মোজাফ্‌ফরের ভাড়া বাসা থেকে তাদের দু’জনকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পাওয়া যায় এবং গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্ত্রী তার স্বামীর হন্তারক সফিউল আলমের সাথে বিয়ের কথা স্বীকার করেন এবং পরকীয়ার জের ধরে সফিউল আলম ও তার সহযোগীদের সহায়তায় তার স্বামী আনছারকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলে পুলিশ জানায়।

x