স্বাবলম্বী হতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা

ডিআইআইটিতে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং

প্রবীর বড়ুয়া

শনিবার , ৬ জুলাই, ২০১৯ at ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
121

প্রযুক্তির চরম উন্নতির এ যুগে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। এ শিক্ষা মানুষকে স্বনির্ভর হতে যেমন সাহায্য করে তেমনি ভূমিকা রাখে বেকারত্ব দূরীকরণেও। সেইসাথে এগিয়ে নেয় দেশ ও দেশের অর্থনীতিকে। বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে সাহায্য করে দেশকে। তাই আগামী দিনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাই হবে শিক্ষার মূলধারা। এ কারণে সারাদেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। সবাইকে আত্মনির্ভরশীল করতে নেয়া হচ্ছে নানা কর্মমুখী উদ্যোগ। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার জন্য তরুণ ও মহিলা উভয়েরই প্রযুক্তিগত ও বৃত্িতমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারিগরি শিক্ষা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং মজবুত ও টেকসই অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন এদেশের বিশাল জনশক্তির কর্মসংস্থানে সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্িধর জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান। সেইসাথে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্িধর মাধ্যমে উন্নত জীবনযাপনে সহায়তা করা এবং দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের পিছনে রয়েছে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনশক্তি যেখানে কারিগরি শিক্ষার হার ৬০-৮০%।
বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে। এই বিশাল কর্মক্ষম জনসংখ্যা দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক রেমিটেন্স অর্জনের জন্য দক্ষ ব্যক্তিদের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বর্পূণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বেশিরভাগ মানুষ বেকার বা কম বেতনভোগী হিসাবে কাজ করে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে। দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে অনেকে দেশে-বিদেশে অমানবিক অবস্থায় ও স্বল্প বেতনে কাজ করতেও বাধ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকরা তাদের ভারতীয় প্রতিপক্ষের তুলনায় দুইগুণ কম এবং শ্রীলংকার সহকর্মীদের চেয়ে তিনগুণ কম উপার্জন করে কারণ বাংলাদেশী কর্মীরা সেখানে যায় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই। তাদের উপযুক্ত ও নিশ্চিত কাজের জন্য ন্যূনতম দক্ষতাও থাকে না। যুক্তিসঙ্গতভাবেই তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি কম হয়। কিন্তু তারা যদি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করে বিদেশ গমন করতো তাহলে উপার্জন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তাদের জন্য চিত্রটি হতো বিপরীত।
তাই এসএসসি’র পর একজন শিক্ষার্থী স্বনির্ভর পেশা গড়তে গ্রহণ করতে পারে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স তথা কারিগরি শিক্ষা। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের পর শিক্ষার্র্র্র্থীকে আর চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। তিনি নিজেই অর্জিত শিক্ষার সাথে মিল রেখে পছন্দের পেশা গ্রহণ করতে পারবেন বা স্বাধীনভাবে স্ব-কর্মসংস্থান করতে পারবেন। তাই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বেকারত্ব দূর করে এবং অর্থনৈতিকভাবে দেশের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষার এই অপার সম্ভাবনার দিকে লক্ষ্য রেখে ড্যাফোডিল ইন্সটিটিউট অভ আইটি (ডিআইআইটি), চট্টগ্রাম ২০০৬-০৭ সেশন থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করে আসছে। এগুলোর মধ্যে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, সিভিল এবং আর্কিটেকচার প্রোগ্রামগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ইতোমধ্যেই চাকরিক্ষেত্রে আশাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে কারণ ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলো তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের প্রশিক্ষণমূলক যা উচ্চশিক্ষিত ও বাস্তব জ্ঞানে সুপ্রশিক্ষিত শিক্ষকমণ্ডলী এবং সুদক্ষ ল্যাব প্রশিক্ষকগণ দ্বারা পরিচালিত। তাছাড়া ড্যাফোডিলের রয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাস ও ওয়াই-ফাই সুবিধা, সফল ছাত্রছাত্রীদের ড্যাফোডিল গ্রুপেই ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সহযোগিতা, দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের পর ছাত্র-ছাত্রীদের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষা লাভ করার সুযোগ ইত্যাদি।
বর্তমানে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং-কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, আর্কিটেকচার এবং সিভিল প্রোগ্রামে ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হতে পারবে। তাছাড়া এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চতর গণিতসহ ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা সরাসরি ভর্তি হতে পারবে তৃতীয় সেমিস্টারে।
আগ্রহীরা বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ড্যাফোডিল ইন্সটিটিউট অভ আইটি, ৯৪ শেখ মুজিব রোড, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। ফোন: ০১৭১৩-৪৯৩২০৫, ০১৭১৩-৪৯৩২৫৭।

x