(স্বশিক্ষা)

আনিসা ইসলাম শিশির

শুক্রবার , ২ আগস্ট, ২০১৯ at ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ
45

: সারাদিন নিজেকে অফিসে সবচেয়ে ভদ্র পরিচয় দিতে সহকর্মীদের “আপনি” সম্বোধন করে কথা বলা যায় কিন্তু যখনি রিকশাতে উঠবে তখনি বলে ওই রিকশা যাবি? যখনি বাসে উঠে বাস হেল্পারকে তুই বলে সম্বোধন করা হয়, বড় বড় রেস্টুরেন্টে নিজেকে ভদ্র পরিচয় দিতে ওয়েটারদের আপনি সম্বোধন করে। ঊীপঁংব গব চষবধংব বলে কতো ভদ্রভাবে কথা বলা হয় সেইসব তারা ওয়ালা রেস্টুরেন্টে। আর যখন ছোট চায়ের দোকানে চা খাওয়া হয় তখন দোকানের পিচ্ছি বাবুকে কিরকম বিশ্রীভাবে সম্বোধন করা হয়। যখন বাড়ির গৃহকর্মীদেরকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করার পরও ভদ্র মানুষটি সরি বলে না তখন বুঝি ভদ্রতা বজায় থাকে? অথচ যাঁদের গায়ে ভালো পোশাক থাকে তাঁদের মতই শিক্ষিত একজন যুবক জীবিকা নির্বাহের তাগিদে রিকশা চালক, তাঁদের মত একজন বেকারত্ব দূর করার জন্য বাসের হেল্পার, চায়ের দোকানে ছোট বাবুটাও হয়ত অন্য দশজন শিশুর মতো কাঁদে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। গৃহকর্মীরা হয়তো স্বপ্নের দিন গুণছে তাঁদের সন্তানদেরকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার। সবচেয়ে বড় কথা তাঁরাও মানুষ। তাঁদেরও আত্মসম্মানবোধ আছে। তাঁরাও হয়তো একজনের মা, একজনের বাবা, একজনের বড় ভাই কিংবা ছোট ভাই। তাঁদের অনেকেই আবার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁদের মাঝে ভালোবাসা থাকতে পারে এটা ভুলে যাওয়ার মানে কি জ্ঞানহীনের পরিচয় না? এসব ভদ্র মানুষদের ছোট কিউট বাচ্চা সে কি বুঝে এসব নোংরা পার্থক্যের? তাকেও কিন্তু এসব হিংসা চর্চা করানো হয়। বলা হয় এই ঐদিকে যেওনা। ওরা ছোট। শিশুটি কি শিখবে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে? সে কি শিখবে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে? যেখানে একজন শিশুর মাঝে আদর্শ ও নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটানো হচ্ছে সেখানে এসব শিক্ষা দিয়ে কি আর হবে? সেখানে তো বই গেলানো হয়। সেখানে আদর্শিক, নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার মতো সময় থাকে না। এসব শিক্ষা মানুষ পরিবার থেকে শিখে। এটা সম্পূর্ণ পরিবারের দায়িত্ব। খুব কষ্ট হয় যখন সমাজে এভাবে মানুষকে পার্থক্য করে সমাজকে দূষিত করা হয় তখন। দয়া করে কখনো মানুষকে এতো বেশি পৃথক করবেন না। তবেই মনে হয় মানুষ ব্যক্তি স্বাধীনতার বলে অনেকদূর এগুতে পারবে। কেউ খারাপ করলে তুমিও খারাপ করো” কিংবা “এত ভালো মানুষ হয়ে কী করবে?” – এই ধরনের পরামর্শ নিশ্চয়ই অনেক শুনেছেন জীবনে? কেউ আপনার সাথে খারাপ করলো বলেই আপনাকেও তার মত হয়ে যেতে হবে, জীবনটা মোটেও এমন কিছু নয়। আসল বিষয়টি হচ্ছে, নিজের সাথে সৎ থাকুন। নিজে যা করবেন, বিবেকের সামনে পরিষ্কার থেকে করবেন। এমন কোন কিছুই করবেন না যা করার ফলে নিজের সামনে ছোট হয়ে যেতে হয়। খুব কাছের কারো জন্য হলেও অন্যায় কিছু করবেন না কিংবা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো জন্য কিছু করবেন না। দেখবেন, জীবনে ঝামেলা ও কষ্ট অনেকটাই কমে গিয়েছে।

x