স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে চাই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মঙ্গলবার , ৫ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ
57

চট্টগ্রামে বড় ধরনের চালান আটক হয়েছে। দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি ঘটনায় ৭শ’ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এসব স্বর্ণের বাজার দর ৩১ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মোট চারজনকে আটক করা রয়েছে। গতকাল দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, গত রোববার বেলা ১১টায় নগরীর সিআরবি এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে ১শ’ পিস স্বর্ণের বারসহ দুইজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ স্বর্ণ উদ্ধারের দুই ঘণ্টার মাথায় দুপুর ১ টা নাগাদ মীরসরাইয়ে জোরারগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনাপাহাড় এলাকায় একটি পাজেরো গাড়ি থেকে আরও ৬শ’ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুইজনকে আটক করা রয়েছে।
আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম থেকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যারা বিদেশে বসা সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে দেশে স্বর্ণ পাচার কাজে জড়িত। সিভিল এভিয়েশনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য চক্রটির সাথে নানাভাবে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত। এর আগেও বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে আসা চট্টগ্রামে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত রোববার চট্টগ্রামে দুই ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি ঘটনায় ৭শ’ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। চলতি বছর নগরীতে আরও দুটি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে বলে জানায় পতেঙ্গা পুলিশ।
চোরাচালান ও স্বর্ণ খাতে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সচেষ্ট থাকলেও চোরাচালান রোধ করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর আগে এ খাতে বেশ অরাজকতা ছিল। নীতিমালায় অলঙ্কারের সংজ্ঞাও পরিষ্কার করা হয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ও বিদেশে স্বর্ণ অলঙ্কার রপ্তানি করার লক্ষ্যে স্বর্ণ আমদানির প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং স্বর্ণ আমদানি ও পরবর্তী বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিধানের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট আমদানিকারক কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে এ নীতিমালায়। এছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানিতে উৎসাহ এবং নীতিগত সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধিকরণ করাও এ নীতিমালার লক্ষ্য। স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও বর্ণ সুবিধা যৌক্তিকীকরণ ও সহজীকরণে এ নীতিমালা ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্বর্ণ খাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও নিরীক্ষাগত যাবতীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভোক্তা বা ক্রেতা স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ এ খাত সংশ্লিষ্ট অংশীজনের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সকল অংশীজনের অংশীদারত্ব ও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে স্বর্ণখাতের সুষ্ঠু ও টেকসই বিকাশের জন্যে একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার।
চোরাচালান দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অভিজ্ঞমহল বলছেন, দেশের স্বর্ণ এবং ডলার পাচার হচ্ছে আর ফেনসিডিল ও শাড়ি আসছে; যা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। সময় এসেছে এটা প্রতিরোধ করার।
অভিযোগে প্রকাশ, চোরাচালানে আটক হয় বাহক, আর মূল হোতারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বলা হচ্ছে, চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হাতে অবৈধভাবে দেশে আসা স্বর্ণের বার আটকের ঘটনা বহু রয়েছে। এসময় অনেকেই আটক হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলার পাশাপাশি তদন্তও হয়। তবে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় বাহক আটক হয়। মূল হোতারা সব সময়ই থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যারা প্রবাসে বসে এসব চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে।
আসলে ব্যক্তি যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যায় করার আগে এর পরিণতির কথা ভাবতে হবে। এদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচারকে যেন বিলম্বিত না করতে পারে, এ জন্যও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যায়ের যেন প্রতিকার হয়, সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটি বিচারহীনতা, অন্য একটি অপরাধের সাহস জোগায়। এ দেশে এক সময় বিচারহীনতার রেওয়াজ ছিল। এ জন্য এ দেশকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। বিচারহীনতার সেই সংস্কৃতিকে রোধ করতে হবে। আইনের শাসনকে শক্তিশালী করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সব অপরাধ আপসযোগ্য নয়।

x