স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে

বুধবার , ৯ জানুয়ারি, ২০১৯ at ২:২১ পূর্বাহ্ণ
19

কারাগারগুলোতে এখন ধারণ ক্ষমতার প্রায় ১৩০ শতাংশ বেশী বন্দিকে রাখা হয়েছে বলে জানা যায়। দেশজুড়ে বিশেষ অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিনই কারাগারে যুক্ত হচ্ছেন শত শত বন্দি। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কোনো কোনো কারাগারে তিন গুণের বেশি বন্দি আটক থাকায় শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জেল কোড অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দির জন্য জায়গা বরাদ্দ ৩৬ বর্গফুট। সে অনুযায়ী দেশের ৬৮টি কারাগারে বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৩৪ হাজার ৪৬০ জন। তিল ধারণের ঠাঁই না থাকলেও প্রতিদিনই বাড়ছে বন্দির সংখ্যা। বন্দির সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দির অবস্থান একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। কারাগারে অপরাধীদের নেওয়া হয় শোধরানোর জন্য। কিন্তু কারাগারে শোধরানোর পরিবেশ না থাকলে সে উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। ধারণ ক্ষমতার বেশি বন্দি আটক থাকলে তাদের ওপর কর্তৃপক্ষীয় নজরদারী ব্যাহত হয়। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে গণগ্রেপ্তার বন্ধ কিংবা দেশে কারাগারের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা ভাবা যেতে পারে। জেল কোড অনুযায়ী বন্দিরা যাতে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক কারাগারের অনিয়ম ও অব্যবস্থার যেচিত্র তুলে ধরা হয়েছে তাতে যে কোন সুনাগরিক উদ্বিগ্ন হতে বাধ্য। কারাগারে চলে পদে পদে দুর্নীতি আর অনিয়ম। কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে কুখ্যাত অপরাধীরা সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরে ও রাজকীয় জীবন যাপনের সুযোগ পায়। কারাগারে যারা আটক থাকেন তাদের দেখতে প্রতিদিন হাজির হন সহস্রাধিক দর্শণার্থী। টাকার বিনিময়ে তারা হাজতি কয়েদীদের দেখা পান, টাকা থাকলে কারাগার থেকে মোবাইল কথা বলা যায় স্বজনদের সঙ্গে। টাকার বিনিময়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়েও অসুস্থ সেজে কারা হাসপাতালে থাকার সুযোগ মেলে। কারাগারে বসে মাদক সেবন তো অতি সাধারণ ব্যাপার। অপরাধীদের সংশোধনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু কারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির জন্য কারা অভ্যন্তরে আত্ম সংশোধনের কোনো উদ্যোগ কাজে লাগছে না। দেশের প্রায় প্রতিটি কারাগারেই চলছে অভিযান পরিস্থিতি। কারাগারগুলোতে বন্দিদের অপরাধ প্রবণ মনকে সংশোধন করার উদ্যোগ নিলে কিংবা কারাগার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করে দেয়া গেলে তাদের সবাই না হোক অনেকেই পরবর্তী জীবনে অপরাধজগৎ থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে। এ কারণে কারাগুলোতে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
– এম.এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x