স্বপ্নযাত্রী’র অন্তর মম বিকশিত কর

সুহৃদ রহমান

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
26

আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বপ্নযাত্রী’ বিগত ১০ বছর ধরে বিশুদ্ধ মানুষ নির্মাণের ঠিক এই কাজগুলোই করে চলেছে। একই সাথে ক্রমাগত চর্চার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও অসামপ্রদায়িক চেতনার স্বপ্নের স্বদেশ বিনির্মাণেও বিশাল ভূমিকা রেখে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সামাজিক দায়বোধ ও মানবিক সচেতনতায় সৃজনশীল তারুণ্যের বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ‘স্বপ্নযাত্রী’ সাংগঠনিক আবৃত্তিচর্চায় তারুণ্যের স্বপ্নে প্রতিনিয়ত যে সুন্দরের বুনন করে চলেছে তা অনন্য। জন্মলগ্ন থেকেই এ শিল্পসাধনায় অবিরাম পথে হাঁটছেন সব বাঁধা উপেক্ষা করেও। পাল্টে যাওয়া সময়ের ঘাত-প্রতিঘাত ধারণ করেও এ শিল্পের উৎকর্ষতার প্রায়োগিক দিক বিবেচনা করে ২য় বারের মতো তারা আয়োজন করেছে চারজন নবীন শিল্পীর একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘অন্তর মম বিকশিত কর’। গত ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আর্ট গ্যালারী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আয়োজনে প্রত্যেক শিল্পী নিবেদন করেছে ৫টি করে কবিতা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখেন আবৃত্তিশিল্পী ফারুক তাহের। এছাড়া বক্তব্য রাখেন আবৃত্তিশিল্পী দেবাশীষ রুদ্র, মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম ও কবি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ। সংগঠনের অনুষ্ঠান সমন্বয়ক শিল্পী উমেসিং মারমা ঊর্মি ও মিথিলা মারমা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সভাপতি আলী প্রয়াস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাখেন ইয়াসির সিলমী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রুদ্র রাজীব।
তার পরপরই শুরু হয় স্বপ্নযাত্রীর চার জন শিল্পীর একক আবৃত্তি পরিবেশনা। এতে অংশগ্রহণ করেন আবৃত্তিশিল্পী লুজাইনা আনোয়ার নোহা, ফারজানা আক্তার, সামিয়া আরেফিন, উম্মুল মাছাকিন ফাল্গুন। শিল্পীরা প্রত্যেকেই নির্বাচিত কবির চারটি করে মোট ১৬ টি কবিতা আবৃত্তি করেন।
আয়োজনের প্রথমেই শিল্পী লুজাইনা আনোয়ার নোহা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৃদয় আকাশ’; হুমায়ুন আজাদের ‘তোমার দিকে আসছি’; আল মাহমুদের ‘সাহসের সমাচার’ ও নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা উলঙ্গ কিশোর’ কবিতাগুলো। শিল্পী ফারজানা আক্তার আবৃত্তি করেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কৃষ্ণকলি’, হুমায়ুন আজাদের ‘আমার ছাত্র ও প্রেমিকার জন্যে এলিজি’; আল মাহমুদের ‘তোমার আড়ালে’ ও নির্মলেন্দু গুণের ‘প্রত্যাবর্তন’ কবিতাগুলো। শিল্পী সামিয়া আরেফিন শুরু করেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুলর্ভ জন্ম’ কবিতা দিয়ে। তারপর হুমায়ুন আজাদের ‘আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে’; আল মাহমুদের ‘লোকে যাকে প্রেম নাম কহে’ ও নির্মলেন্দু গুণের ‘একটি খোলা কবিতা’ কবিতাগুলো। উম্মুল মাছাকিন ফাল্গুন শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মার্জনা’ দিয়ে। তারপর হুমায়ুন আজাদের ‘ব্লাডব্যাংক’; আল মাহমুদের ‘প্রতিক্রিয়া’ ও নির্মলেন্দু গুণের ‘কাশবন ও আমার মা’ কবিতাগুলো। অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনা হিসেবে প্রত্যেক শিল্পী যৌথভাবে পরিবেশন করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অভিশাপ’ কবিতাটি।

x