(স্বনিয়ন্ত্রণ)

রেজাউল করিম স্বপন

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ
19

: ঈদের কয়েকদিন আগে দেশের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড শপ আড়ংকে একই জামার দাম ৭-১০ দিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুন করায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিষয়টি সারাদেশে মানুষের মনে নাড়া দেয়। এজন্য অনেকে আড়ং এর পণ্য বর্জনের কথা বলছে। কিন্তু আড়ংএর পণ্য বর্জন করলেই কি দাম বাড়ানোর এই প্রবণতা বন্ধ হবে? হবে না। আপনি আড়ংএর পণ্য বর্জন করে কার কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করবেন?একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যের দাম আরো বেশি ও গলাকাটা। এই যে আড়ং এর মত একটি প্রতিষ্ঠান এই কাজটি করলো, কেন করলো? কারণ তারা জানে দেশে তাদের সাথে কম্পিটেশন করার মত কোন ব্র্যান্ডশপ নাই। তাই তারা যা ইচ্ছা তাই করে। অন্যদিকে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও আমরা এই ধরনের ও মানের আর কোন দেশীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারি নাই। যদি একই ধরনের আরো দেশীয় প্রতিষ্ঠান আমরা তৈরি করতে পারতাম তাহলে আড়ং এ ধরনের কাজ করতো না। আপনি একটু খেয়াল করলে দেখবেন আড়ং পণ্যের সাইজ একেবারে পারফেক্ট কিন্তু অন্যান্য দোকানের পণ্যের সাইজে গরমিল। হয়ত দেখবেন জামা লম্বায় ঠিক আছে কিন্তু পার্শ্বে স্লিমফিট। আবার হয়ত দেখবেন পার্শ্বে সাইজ ঠিক আছে কিন্তু লম্বায় ছোট। আর দামের দিকে তাকালে দেখবেন আড়ং এর যে জামার দাম দুই/তিন হাজার, সেই একই মানের জামার দাম অন্যান্য তথাকথিত ব্রান্ডশপে দ্বিগুণ বা তিনগুণ। যেহেতু আমাদের দেশে এসব বিষয় মনিটরিং এর কোন ব্যবস্থা নাই,তাই ঐ সব দোকানে কেন এতো দাম তার কোন সদুত্তর আপনি কারো কাছে পাবেন না। আবার দেখবেন মার্কেট ভেদে একই পণ্যের দাম দুই তিন গুণ বেশি। এই যে দাম ও সাইজের বিষয়ে চারিদিকে একটা বিশৃংখলা, এটা একদিনে হয়নি। ব্যবসায়ীরা যখন দেখে দাম বেশি নিলেও কোন সমস্যা হচ্ছে না, তখন তারা দাম বাড়ানোর এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।
বর্তমানে ধানের দাম নিয়ে কৃষকের গলার ফাঁস হয়েছে, ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। তাতে কি চালের দাম কমেছে, কমে নাই। পৃথিবীতে এই দেশই একমাত্র দেশ যেখানে কৃষক তার ফলানো কোন পণ্যেরই ন্যায্য মূল্য পায় না। লাভের টাকা সব ফড়িয়াদের পকেটে যায়।একটু খেয়াল করলে দেখবেন,আপনার বাসার সামনে যে লোক ফেরি করে পণ্য বিক্রি করছে,সে হোলসেল বাজার থেকে প্রতিকেজি বা প্রতিটি পণ্য ৫০%-৩০০% বেশি দামে বিক্রি করছে। তবু আমরা এর কোন প্রতিবাদ করি না। অন্যদিকে আমদানীকৃত পণ্যের দাম যদি আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ে, সাথে সাথে সে জিনিসের দাম দেশের বাজারে বেড়ে যায়। অথচ সেই বাড়তি দামের পণ্যটি দেশের বাজারে ২-৩ মাস পরে আসে। কিন্তু কোন জিনিসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমলে, সে পণ্যটির দাম সাথে সাথে নানা অজুহাত দেখিয়ে কমানো হয় না। ইসলামের বিধিনিষেধ মানার ব্যাপারে সেল্প কন্ট্রোলের একটা বিষয় আছে। ধরুন আপনি রোজা রেখেছেন, ইচ্ছা করলে গোপনে কিছু খেয়ে ফেলতে পারেন কেউ জানবে না কিন্তু আপনি খাচ্ছেন না আল্লাহর ভয়ে।এই ভয়টির নাম হচ্ছে তাকওয়া।এই ধরনের ভীতিটা যখন আমাদের মধ্যে ঢুকবে তখনি আমরা এই অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকবো, না হলে নয়। এর সাথে কঠোর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করে আইনের কঠিন বাস্তবায়ন করতে পারলেই, হয়ত আমরা এ ধরনের প্রবণতা থেকে রেহাই পাব।

x